ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার জন্য দায়ী আপনি নিজেই

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
কাল্পনিক ছবি

পরকীয়া বর্তমানে দাম্পত্য সম্পর্কের অন্যতম আলোচিত সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে সুখী দাম্পত্যেও তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি সম্পর্কের মধ্যে সংকট তৈরি করতে পারে। তবে কোনো সম্পর্কে পরকীয়া ঘটলে শুধু একজনকে দায়ী করে বিষয়টির ব্যাখ্যা করা সবসময় সহজ নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্যে দূরত্ব, আবেগগত অপূর্ণতা, ব্যক্তিগত অসন্তুষ্টি, সুযোগ এবং ব্যক্তির নিজের সিদ্ধান্ত সবকিছুই এ ধরনের ঘটনায় ভূমিকা রাখতে পারে।

পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে তাই নিজের আচরণ, আবেগ ও সম্পর্কের সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সম্পর্কের বাইরে কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হওয়া এবং সেই আকর্ষণকে সম্পর্কের দিকে নিয়ে যাওয়া দুটি ভিন্ন বিষয়। সিদ্ধান্তের জায়গাতেই সচেতন হওয়ার সুযোগ থাকে।

ছোট গোপনীয়তা থেকেই শুরু হতে পারে ঘনিষ্ঠতা

পরকীয়া অনেক সময় হঠাৎ করে তৈরি হয় না। পরিচিত কারও সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, ব্যক্তিগত বিষয় ভাগ করে নেওয়া কিংবা একসঙ্গে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে। শুরুতে বিষয়টি স্বাভাবিক বন্ধুত্ব মনে হলেও একপর্যায়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে নিজের আবেগ, সমস্যা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বেশি ভাগ করে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

সমস্যা আরও বাড়ে যখন এ ধরনের যোগাযোগ সঙ্গীর কাছ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা শুরু হয়। ফোনের চ্যাট মুছে ফেলা, কলের তথ্য লুকানো কিংবা ‘জানলে অযথা সমস্যা হবে’ এমন চিন্তা করে সত্য গোপন করা সম্পর্কের সীমারেখা নিয়ে সতর্ক হওয়ার সংকেত হতে পারে।

দাম্পত্যের সমস্যা সমাধানে তৃতীয় ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া নয়

দাম্পত্য জীবনে মনোমালিন্য, একাকিত্ব কিংবা মানসিক দূরত্ব তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সঙ্গী সময় দিচ্ছেন না, কথা শুনছেন না বা নিজের অনুভূতি বুঝতে পারছেন না এমন অভিজ্ঞতা থেকেও বাইরের কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হতে পারে।

তবে দাম্পত্যের সমস্যা সমাধানের বিকল্প হিসেবে তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে বেছে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে সঙ্গীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, নিজের প্রয়োজন ও কষ্ট স্পষ্টভাবে জানানো এবং প্রয়োজন হলে দাম্পত্য কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া তুলনামূলকভাবে কার্যকর পথ হতে পারে।

‘শুধু বন্ধুত্ব’ কখন সীমা ছাড়াচ্ছে?

কর্মক্ষেত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা পুরোনো বন্ধুত্বের সূত্রে অন্য কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে নিজের কাছে কিছু প্রশ্ন রাখা যেতে পারে।

এই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি কি সঙ্গীর কাছ থেকে লুকানো হচ্ছে? তার মেসেজের জন্য কি অস্বাভাবিকভাবে অপেক্ষা করা হচ্ছে? সঙ্গীর চেয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কি নিজের সমস্যা বেশি ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে? তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ তৈরি করতে কি অজুহাত খোঁজা হচ্ছে?

এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর বারবার ‘হ্যাঁ’ হলে সম্পর্কটির সীমারেখা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

ব্যক্তিগত চ্যাট ও একান্ত সময়েও সতর্কতা জরুরি

ডিজিটাল যোগাযোগের সহজলভ্যতায় মানুষের মধ্যে দ্রুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হচ্ছে। মেসেজ, ভিডিও কল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কথাবার্তা থেকেও আবেগগত সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে গভীর রাতে ব্যক্তিগত চ্যাট, ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা কিংবা এমন ছবি-ভিডিও আদান-প্রদান, যা নিজের সঙ্গীর সামনে স্বাভাবিকভাবে করা সম্ভব নয় এসব ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত যোগাযোগ সীমিত করা কিংবা এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা অনেক সময় সম্পর্কের সীমারেখা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

একটি সহজ নীতি হতে পারে যে কাজটি সঙ্গীর সামনে করতে অস্বস্তি হবে, সেটি গোপনে করার আগে থেমে নিজেকে প্রশ্ন করা।

আকর্ষণ তৈরি হলেই সম্পর্কে জড়াতে হবে না

প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে থাকা অবস্থায় অন্য কারও প্রতি সাময়িক আকর্ষণ তৈরি হতে পারে। তবে আকর্ষণ অনুভব করা এবং সেই আকর্ষণকে সম্পর্কের দিকে এগিয়ে নেওয়া এক বিষয় নয়।

কোনো ব্যক্তির প্রতি আকর্ষণ তৈরি হলে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরত্ব বজায় রাখা, একান্তে দেখা করা এড়িয়ে চলা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়া এবং নিজের দাম্পত্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ অনুভূতিকে অস্বীকার করার চেয়ে নিজের আচরণ ও সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

দাম্পত্য সম্পর্কেও সময় দেওয়া প্রয়োজন

অনেক সময় সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা তৈরি হলেও দুজনের কেউই সেটি নিয়ে কার্যকরভাবে কাজ করেন না। একসঙ্গে খাওয়া, কথা বলা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো দাম্পত্যের ঘনিষ্ঠতা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে সম্পর্কের মধ্যে নির্যাতন, জোরজবরদস্তি, ভয় কিংবা নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলে শুধু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা না করে নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

আগে থেকেই নির্ধারণ করুন নিজের সীমারেখা

পরকীয়া এড়াতে শুধু ‘আমি কখনো এতে জড়াব না’ এমন সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নাও হতে পারে। বরং কার সঙ্গে কতটা ব্যক্তিগত হওয়া যাবে, কোন ধরনের যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে হবে এবং দাম্পত্যে সমস্যা হলে কার সঙ্গে কীভাবে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে এসব বিষয়ে নিজের সীমারেখা আগে থেকেই স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন।

পরকীয়াকে শুধু একজনের ‘ভুল’ হিসেবে দেখলে দাম্পত্য সম্পর্কের জটিল বাস্তবতা অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। তবে নিজের সিদ্ধান্ত, গোপনীয়তা ও আচরণের দায়িত্ব প্রত্যেক ব্যক্তিরই রয়েছে। সম্পর্কের বাইরে কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হলেই তাতে জড়িয়ে পড়তে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সচেতনভাবে দূরত্ব বজায় রাখা, সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার মাধ্যমে অনেক পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র আজ দিন-রাত সমান
আজ ২৩ সেপ্টেম্বর। বছরের অন্যান্য দিনের মতো ২৪ ঘণ্টায় দিন ও রাত মিলেই পূর্ণ হচ্ছে একটি দিন। তবে আজকের দিনটি বিশেষ। কারণ, আজ পৃথিবীর প্রায় সব জায়গায় দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান। এই বিশেষ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাকে বলা হয় ‘ইকুইনক্স’ বা বিষুব।
পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র আজ দিন-রাত সমান
যেসব কথা কলিগকে কখনোই বলা উচিত নয়
কর্মক্ষেত্রে দিনের বড় একটি সময় কাটে সহকর্মীদের সঙ্গে। প্রতিদিনের কাজ, আড্ডা কিংবা গল্প করতে করতে অনেক সময় সহকর্মীর সঙ্গে গড়ে ওঠে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।
যেসব কথা কলিগকে কখনোই বলা উচিত নয়
প্রকৃতির জাদুতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে শুকনো মরুভূমি’ হয়ে উঠল ছবির মত সুন্দর
বালির ধূধু প্রান্তর, চারদিকে শুধু শুষ্কতা আর প্রাণহীনতা—এটাই চিলির আতাকামা মরুভূমির পরিচিত চিত্র।
প্রকৃতির জাদুতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে শুকনো মরুভূমি’ হয়ে উঠল ছবির মত সুন্দর
বিপন্ন কালো রবিনই নিউজিল্যান্ডের ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার
এ মাসে রেকর্ডসংখ্যক নিউজিল্যান্ডবাসী ভোট দিতে অংশ নিয়েছেন। তবে এবার ভোট কোনো জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নয়, বরং দেশটির ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ বা বর্ষসেরা পাখি নির্বাচনের জন্য।
বিপন্ন কালো রবিনই নিউজিল্যান্ডের ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার
মন ভালো রাখতে মানুন ৪ সহজ অভ্যাস
মন খারাপ, মানসিক চাপ কিংবা দুশ্চিন্তার সময় নিজেকে ভালো রাখতে সবসময় বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। মাত্র ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের কিছু সহজ অভ্যাসও মানসিক চাপ কমাতে, মনোযোগ বাড়াতে এবং নিজেকে কিছুটা শান্ত রাখতে সহায়ক হতে পারে। এসব ছোট অনুশীলনকে বলা হয় ‘মাইক্রো-প্র্যাকটিস’।
মন ভালো রাখতে মানুন ৪ সহজ অভ্যাস