ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

মানি প্ল্যান্ট গাছকে কেন মানি প্ল্যান্ট বলা হয়?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
কাল্পনিক ছবি

ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে মানি প্ল্যান্টের জনপ্রিয়তা বেশ। বসার ঘরের কোণ, পড়ার টেবিল কিংবা ব্যালকনি কম যত্নেই এই গাছ বেড়ে ওঠে। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন এই গাছের নাম ‘মানি প্ল্যান্ট’? সত্যিই কি এই গাছ বাড়িতে থাকলে বাড়ে ধন-সম্পত্তি, নাকি নামটির পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ?

মানি প্ল্যান্টের বৈজ্ঞানিক নাম ‘Epipremnum aureum’। তবে বিশ্বজুড়ে এটি ‘মানি প্ল্যান্ট’ নামেই বেশি পরিচিত। ইতিহাস, লোকবিশ্বাস এবং গাছটির বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এই নামের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়।

মানি প্ল্যান্ট নামকরণের সবচেয়ে প্রচলিত গল্পটি চীনা লোককথার সঙ্গে যুক্ত। কথিত আছে, এক দরিদ্র ব্যক্তি আর্থিক উন্নতির জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিলেন। সেই সময় তিনি বনে একটি বিশেষ ধরনের গাছ খুঁজে পান। গাছটি বাড়িতে এনে যত্ন নেওয়ার পর সেটি দ্রুত বেড়ে ওঠে। পরে গাছটির চারা ও ফলন বিক্রি করে তিনি অর্থ উপার্জন করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তাঁর আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হয়। এই গল্প থেকেই চীনা সংস্কৃতিতে গাছটি সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পায় বলে প্রচলিত রয়েছে।

চীনা ফেংশুই এবং ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্রেও মানি প্ল্যান্টকে শুভ বলে মনে করা হয়। ফেংশুইয়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, এর গোলাকার ও মসৃণ পাতা অনেকটা মুদ্রার মতো দেখতে হওয়ায় এটি অর্থ ও সমৃদ্ধির প্রতীক। বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এই গাছ রাখলে ইতিবাচক শক্তি ও আর্থিক সমৃদ্ধি বাড়ে এমন বিশ্বাসও রয়েছে।

অন্যদিকে, বাস্তু মতে মানি প্ল্যান্ট ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর করে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়।

তবে এসব ধারণা মূলত লোকবিশ্বাস ও প্রচলিত সংস্কৃতির অংশ। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মানি প্ল্যান্টের নাম ‘মানি প্ল্যান্ট’ হওয়ার পেছনে অর্থবৃদ্ধির কোনো প্রমাণ নেই। বরং গাছটির দ্রুত বৃদ্ধি, সহজে বংশবিস্তার এবং কম যত্নে টিকে থাকার ক্ষমতাই এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

অল্প আলো, সীমিত জল ও কম পরিচর্যাতেও মানি প্ল্যান্ট বেশ ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। তাই ‘মানি প্ল্যান্ট’ নামটি শুনে ঘরে টাকা আসার নিশ্চয়তা না থাকলেও, ঘরের সৌন্দর্য ও সবুজ পরিবেশ বাড়াতে এই গাছের জুড়ি মেলা ভার।


আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রকৃতির অনন্য কারুকাজ: রক্তিম ও সোনালি আভায় রূপসী গ্রেভিলিয়া
বসন্ত কিংবা গ্রীষ্মের দিনে পার্ক, বাগান কিংবা রাস্তার দু’পাশে হেঁটে যাওয়ার সময় হয়তো অনেকেরই নজর কেড়েছে বিচিত্র এক ফুল। কিছুটা তারার মতো, কিছুটা চুলে পরার কাঁটার মতো বাঁকানো পাপড়ির এই ফুলটির নাম গ্রেভিলিয়া।
প্রকৃতির অনন্য কারুকাজ: রক্তিম ও সোনালি আভায় রূপসী গ্রেভিলিয়া
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের কাচারি ঘর
গ্রামীণ জীবনের এক সময়ের প্রাণকেন্দ্র ছিল কাচারি ঘর। গ্রামের সামাজিক ও পারিবারিক কর্মকাণ্ডের প্রায় সবকিছুই এই ঘরের চারপাশে ঘুরে বেড়াত—সালিশ, বিবাহের প্রস্তুতি, অতিথি আপ্যায়ন, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সিদ্ধান্তও।
হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের কাচারি ঘর
বিপদ বুঝলে শরীরে এমন কাণ্ড করে যা দেখে অবাক বিজ্ঞানীরাও
নিজের শরীরকে চাকার মতো ঘুরিয়ে দ্রুত পালাতে পারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক প্রজাতির ছোট্ট সাপ। স্বাভাবিকভাবে এঁকেবেঁকে চলার তুলনায় এই কৌশলে তার গতি প্রায় চার গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
বিপদ বুঝলে শরীরে এমন কাণ্ড করে যা দেখে অবাক বিজ্ঞানীরাও
তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে তোলা পাথরের নমুনায় সামুদ্রিক দানবের জীবাশ্ম আবিষ্কার
প্রায় ১৬ কোটি বছর আগের সামুদ্রিক সরীসৃপের উগরে দেওয়া অপাচ্য খাদ্যাবশেষের জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। নরওয়ের ট্রোল তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের গভীর কূপ থেকে তোলা পাথরের নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে এই বিরল নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া যায়।
তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে তোলা পাথরের নমুনায় সামুদ্রিক দানবের জীবাশ্ম আবিষ্কার
আরও পড়ুন
গাছের পাতায় মিলল শহর গড়ার গাণিতিক রহস্য!