ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস আজ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৪ এএম
ফুল হাতে একজন প্রবীণ। ছবি: সংগৃহীত

আজ ৩৬তম ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’। দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। যুগান্তকারী এ সিদ্ধান্তের আলোকে সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও ১৯৯১ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রবীণ নাগরিকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র‌্যালি, আলোচনা সভা, জাতীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে প্রবীণদের মর্যাদা বিষয়ে ক্ষুদেবার্তা প্রেরণ, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ।

বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব প্রবীণ ব্যক্তির সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করে দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও জনহিতৈষী সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিটি পরিবার প্রবীণদের কল্যাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসবেন। প্রবীণদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের হাসিমুখ ও নিরাপদ বার্ধক্য হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

দেশের সব প্রবীণ নাগরিকদের আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে বলেন, ‘প্রবীণ ব্যক্তিগণ আমাদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি। তাদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই একটি কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।’

তিনি বলেন, ‘পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র- তিন স্তরেই তাদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি। প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

দেশের সব জেলা-উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আজ সেবাগ্রহীতা, অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে যথাযথ মর্যদায় প্রবীণ দিবসটি পালন করতে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ আন্তর্জাতিক কফি দিবস: দেশের পাহাড়ে কফির নতুন গল্প 
সকালের ঘুম কাটাতে এক কাপ গরম কফি, কাজের ফাঁকে আড্ডা কিংবা বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে বসে কফিতে চুমুক—অনেকের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে এই পানীয়।
আজ আন্তর্জাতিক কফি দিবস: দেশের পাহাড়ে কফির নতুন গল্প 
আজ স্বভাবকবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকী
বাংলা সাহিত্যের ‘স্বভাবকবি’ হিসেবে পরিচিত গোবিন্দচন্দ্র দাসের ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
আজ স্বভাবকবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকী
অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে
অনেকেই নানান কারণে টিন সার্টিফিকেট করেছেন। কিন্তু তা আর কাজে আসছে না। তাই জেনে নিন যেভাবে অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট চাইলেই বাতিল করা যায়।
অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে
জাতীয় কন্যা শিশু দিবস আজ 
আজ ৩০ সেপ্টেম্বর, জাতীয় কন্যাশিশু দিবস।
জাতীয় কন্যা শিশু দিবস আজ 
রাবির মনোমুগ্ধকর প্যারিস রোড; যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন গল্প
সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর পেরিয়ে বিকেল, সময় বদলের সঙ্গে বদলে যায় দৃশ্যপট। সকালের নরম আলোয় গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়ে পথের ওপর। ব্যস্ত পায়ে শিক্ষার্থীরা ছুটে যায় ক্লাসে। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে গল্পে মেতে ওঠে, কেউ আবার প্রিয়জন কিংবা ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সময় কাটায়।  প্যারিস রোড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট থেকে শেরে বাংলা ফজলুল হল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার প্রলম্বিত এ রাস্তা। দৈর্ঘ্যে খুব বেশি না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের শত স্মৃতির সাক্ষী এই প্যারিস রোড। ভালোবাসা-বন্ধুত্ব, জীবন-মৃত্যু, হাসি-কান্না, একাকিত্ব-নিঃসঙ্গতায় যুগের পর যুগ ধরে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার সাক্ষী রাস্তাটি।  সবুজের বিস্তীর্ণ প্রান্তর, ছায়াঘেরা পথ আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। দুই পাশে সারি সারি গাছ, প্রশস্ত পথ, নির্মল পরিবেশ আর শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে প্রতিদিনই যেন নতুন রূপে ধরা দেয় এই সড়ক। এখানে পথ শুধু গন্তব্যে পৌঁছে দেয় না, বরং তৈরি করে অসংখ্য স্মৃতি ও গল্প। বিকেল নামতেই প্যারিস রোড যেন আরও প্রাণ ফিরে পায়। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের আড্ডা, বন্ধুদের হাসি-ঠাট্টা, ছবি তোলা কিংবা নিছক হাঁটাহাঁটিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। কেউ আসে মনের কথা বলতে, কেউ আসে দিনের ক্লান্তি দূর করতে। আবার কারও কাছে এই পথ একান্তই নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জায়গা। বর্ষার বৃষ্টিতে প্যারিস পায় নতুন আবহ। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দে মেতে ওঠেন, কেউ আবার দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন বৃষ্টির সৌন্দর্য। কখনো হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টিতে পথচারীদের ছোটাছুটি, আবার কখনো ইচ্ছা করেই বৃষ্টিতে ভিজে চলা—সব মিলিয়ে বর্ষায় প্যারিস রোড হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের বৃষ্টিবিলাসের অন্যতম ঠিকানা। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় প্রতিদিন সরব থাকে প্যারিস রোড। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা অনেকের কাছেই এটি ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ। অতিথিরা যেমন এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন, তেমনি শিক্ষার্থীদের কাছেও এটি হয়ে ওঠে স্মৃতি জমিয়ে রাখার একটি বিশেষ জায়গা। প্যারিস রোডের সৌন্দর্যের বড় অংশজুড়ে রয়েছে এর সবুজ আবহ। ঋতু বদলের সঙ্গে গাছপালার রং ও প্রকৃতির বৈচিত্র্যও বদলে যায়। বর্ষায় ভেজা পাতার সবুজ, শরতে নির্মল আকাশ, শীতে কুয়াশার আবরণ কিংবা বসন্তে ফুলের রঙ—প্রতিটি ঋতুতেই প্যারিস রোড যেন নতুন কোনো গল্প নিয়ে হাজির হয়। ক্যাম্পাসের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এই পথের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ব্যক্তিগত স্মৃতি। প্রথমবার বন্ধুর সঙ্গে হাঁটা, ক্লাস শেষে দীর্ঘ আড্ডা, কোনো বিশেষ দিনের ছবি কিংবা নিছক বিকেলের হাঁটাহাঁটি, ছোট ছোট এসব মুহূর্তই সময়ের সঙ্গে হয়ে ওঠে মূল্যবান স্মৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ হয়ে গেলেও প্যারিস রোডের কথা তাই সহজে ভুলে যাওয়ার নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, প্যারিস রোডে হাঁটলে মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততার মাঝেও একটু নিজের মতো করে সময় কাটানো যায়। বন্ধুদের সঙ্গে এখানে কাটানো সময়গুলো পরে হয়তো সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।  রাজশাহীর রাজপাড়া থেকে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, প্যারিস রোড শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বাইরের দর্শনার্থীদের জন্যও আকর্ষণীয় একটি জায়গা। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে গাছপালা আর ভেজা রাস্তার দৃশ্যটা অসাধারণ লাগে। এখানে কিছু সময় কাটালে শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকার অনুভূতি পাওয়া যায়।  দিন শেষে যখন ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে কমে আসে, তখনও প্যারিস রোড তার নিজস্ব সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকে। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে আসা শেষ বিকেলের আলো, পথের ওপর দীর্ঘ ছায়া আর নীরবতার মধ্যে হেঁটে যাওয়া কয়েকজন মানুষ, সব মিলিয়ে তখন তৈরি হয় অন্যরকম এক আবহ। এত বিশেষত্ব থাকলেও প্যারিস রোডের জন্মের ইতিহাস কিন্তু অনেকটা সাদামাটা। ১৯৬৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের এই গগন শিরীষ গাছ লাগানো হয়। তৎকালীন উপাচার্য এম শামসুল হক ফিলিপাইন থেকে কিছু গাছ নিয়ে আসেন। তিনি এ গাছগুলো রোপণের দায়িত্ব দেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী মোহাম্মাদ ইউনুসকে। তার হাত ধরেই লাগানো হয় গাছগুলো। তখন এটি ছিল নেহাৎ বৃক্ষরোপণের একটি উদ্যোগ। জনশ্রুতি আছে, একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের কিছু ছবি তুলে তার এক বন্ধুর কাছে পাঠায়। বন্ধু দেখে বিস্মিত হয়ে বলে এটি কোন দেশের ছবি। সেই শিক্ষার্থী তখন বলে দেয় এটা আমাদের ক্যাম্পাসের। তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্যারিস রোডের ছবিটিও। এরকম আরও অনেক গল্প রয়েছে।  এছাড়াও জনশ্রুতি আছে ১৯৮০-র দশকে ‘রোড টু সোয়াদ’ কিংবা ‘রোড টু প্যারিস’ নামের চলচ্চিত্রগুলোতে যে রাস্তা দেখানো হয়, সেসব রাস্তার সঙ্গে এই রাস্তাটির মিল থাকায় এর নাম হয় প্যারিস রোড। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে প্যারিস শুধু একটি রাস্তা নয়। এটি ক্যাম্পাস জীবনের এক নীরব সাক্ষী। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এর ওপর দিয়ে হেঁটে যায়, কিন্তু প্রত্যেকের গল্প আলাদা। কারও কাছে এটি বন্ধুত্বের স্মৃতি, কারও কাছে ভালো লাগার জায়গা, আবার কারও কাছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বিকেলগুলোর ঠিকানা। সময় এগিয়ে যায়, শিক্ষার্থীরা আসে-যায়, প্রজন্ম বদলায়। কিন্তু প্যারিস রোড থেকে যায় একইভাবে নতুন মানুষকে স্বাগত জানিয়ে, নতুন গল্পের অপেক্ষায়। হয়তো এ কারণেই রাবির প্যারিস রোড শুধু একটি পথ নয়; এটি এমন এক ক্যানভাস, যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন নতুন গল্প।  লেখক : ইসমাইল হোসেন সায়েম  শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আরটিভি/ এসকেডি
রাবির মনোমুগ্ধকর প্যারিস রোড; যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন গল্প
আরও পড়ুন
প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী