ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

আজ বিশ্ব মান দিবস

ভেজালের ভিড়ে মানের অঙ্গীকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে মানসম্মত পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান। তবে বাজারে ভেজাল, নিম্নমানের পণ্য ও ওজনে কারচুপি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি ক্রেতাদের। ছবি: সংগৃহীত

খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান, নিম্নমানের পণ্য, ওজনে কারচুপি—বাজারে এসব অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। দাম দিয়ে পণ্য কিনেও নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন না ক্রেতারা। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কর্মকাণ্ডে হুমকির মুখে পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার। এমন বাস্তবতায় আজ ১৪ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব মান দিবস। পণ্য ও সেবার মান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরাই দিবসটির মূল লক্ষ্য।

প্রতিবছর ১৪ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়। এবার পালিত হচ্ছে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য, ‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব—সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান ও জরিমানা দিয়ে বাজারের অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। মানহীন ও ভেজাল পণ্য বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো, নিয়মিত পণ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা এবং পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ নিশ্চিত করা জরুরি। পণ্যের মোড়কে লেখা ওজনের সঙ্গে প্রকৃত ওজন মিলিয়ে দেখতে হবে। ভেজাল ও ওজনে কারচুপির ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে।

তাদের মতে, বিশ্ব মান দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার একটি উপলক্ষ। পণ্যের মানের ক্ষেত্রে ছাড় দিলে ক্ষতি শুধু ক্রেতার অর্থের নয়, স্বাস্থ্যেরও হতে পারে।

এবারের প্রতিপাদ্যে জ্বালানির ওপর গুরুত্ব

বিশ্বের তিনটি প্রধান মান নির্ধারণকারী সংস্থা—আন্তর্জাতিক মান সংস্থা, আন্তর্জাতিক তড়িৎপ্রযুক্তি কমিশন এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন যৌথভাবে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে। এতে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুধু জ্বালানি উৎপাদন করাই যথেষ্ট নয়; উৎপাদিত জ্বালানির প্রতিটি এককের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাও জাতীয় দায়িত্ব।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সপ্তম লক্ষ্য অর্জনে সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান কার্যকর ভূমিকা রাখছে। উন্নত, টেকসই ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে প্রয়োজন অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্মিলিত উদ্যোগ।

সৌরবিদ্যুতের মান নিশ্চিত করতে ৭৯টি মান

বিএসটিআই জানিয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, চার্জ নিয়ন্ত্রক ও ব্যাটারির জন্য ৭৯টি মান প্রণয়ন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব মান নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৩১টি বাংলাদেশি মান প্রণয়ন করেছে।

পণ্যের মান যাচাইয়ের জন্য বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে রয়েছে সৌর প্যানেল পরীক্ষাগার। সেখানে জার্মানির অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সূর্যালোক অনুকরণকারী যন্ত্রের সাহায্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল পরীক্ষা করা যায়।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুসরণ করে উন্নত আলোর উৎস ও নির্ভুলভাবে যাচাই করা যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষাগারটি সৌর প্যানেলের কার্যক্ষমতা ও গুণগত মান নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করে।

দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি

বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ঢাকার অফিসার্স ক্লাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বক্তব্য দেবেন।

বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি বিভাগীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতেও আলোচনা সভা ও প্রচারমূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রচারফলক স্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্ব মান দিবসের মূল বার্তা হলো—মানসম্মত পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করা, ক্রেতার অধিকার রক্ষা করা এবং নিরাপদ ও টেকসই উন্নয়নে মানের গুরুত্ব তুলে ধরা। তবে বাজারে ভেজাল ও ওজনে কারচুপি বন্ধে এসব অঙ্গীকার বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ