ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

জাপানে ঘরবন্দী লাখো মানুষ, কেন ঘর থেকে বের হতে চান না তারা?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
কাল্পনিক ছবি

জাপানের এক তরুণ। একসময় নিয়মিত স্কুলে যেতেন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন। কিন্তু জীবনের কোনো এক পর্যায়ে ছন্দপতন ঘটে। স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেন, বন্ধুদের ফোনের উত্তর দেওয়া কমিয়ে দেন। একসময় নিজের ঘরই হয়ে ওঠে তাঁর পুরো পৃথিবী। দিনের পর দিন কাটে কম্পিউটারের সামনে কিংবা বিছানায় শুয়ে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও প্রয়োজন ছাড়া কথা বলেন না। বাইরে যাওয়ার কথা উঠলেই অস্বস্তি বোধ করেন। এভাবে মাস পেরিয়ে বছর চলে যায়।

এটি শুধু একজনের গল্প নয়। জাপানের বহু মানুষের জীবনে এমন অভিজ্ঞতা দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক জীবন থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখার এই প্রবণতা জাপানে পরিচিত ‘হিকিকোমোরি’ নামে।

হিকিকোমোরি বলতে সাধারণত এমন মানুষদের বোঝানো হয়, যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন। ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে এমন অবস্থা চলতে থাকাকে এর অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে হিকিকোমোরিতে থাকা সবাই যে একেবারেই ঘর থেকে বের হন না, তা নয়। কেউ প্রয়োজনীয় কাজের জন্য দোকানে যান, কিন্তু অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা এড়িয়ে চলেন। আবার কেউ নিজের ঘর থেকেই বের হতে চান না।

জাপান সরকারের ২০২২ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশটিতে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রায় ১৪ লাখ ৬০ হাজার মানুষ হিকিকোমোরি অবস্থার মধ্যে ছিলেন বলে অনুমান করা হয়। অর্থাৎ, এটি শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; বরং দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ।

হিকিকোমোরির পেছনে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট কারণ থাকে না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক চাপ এবং মানসিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

স্কুলে সহপাঠীদের হাতে অপমানিত হওয়া, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, চাকরি হারানো কিংবা কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত চাপ এসব অভিজ্ঞতা কাউকে ধীরে ধীরে সামাজিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, বিষণ্নতা ও সামাজিক উদ্বেগও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে হিকিকোমোরিতে থাকা মানেই যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত, তা নয়। ব্যক্তিভেদে এর কারণ ও অভিজ্ঞতা আলাদা হতে পারে।

শুরুতে কেউ হয়তো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা বন্ধ করেন কিংবা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে চান না। ধীরে ধীরে বাইরে যাওয়ার অভ্যাস কমে আসে। দীর্ঘদিন এভাবে থাকার পর মানুষের সঙ্গে আবার যোগাযোগ তৈরি করা, পড়াশোনায় ফেরা কিংবা চাকরি খোঁজা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

অনেকের মনে কাজ করে সামাজিক বিচার ও প্রত্যাখ্যানের ভয়। দীর্ঘ বিরতির পর অন্যদের মুখোমুখি হলে কী বলবেন, এত দিন কোথায় ছিলেন এমন প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেবেন, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

ফলে ঘরের মধ্যে থাকা সাময়িক স্বস্তি দিলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক জীবনে ফেরার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

হিকিকোমোরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানে বিভিন্ন পরামর্শকেন্দ্র ও সহায়তা কার্যক্রম রয়েছে। এসব উদ্যোগে ব্যক্তির সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি, পরিবারের সদস্যদের পরামর্শ দেওয়া এবং ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কাউকে জোর করে ঘরের বাইরে নিয়ে আসার পরিবর্তে তার সমস্যার কারণ বোঝা এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে ফেরার সহায়তাও কাজে আসতে পারে।

ঘরের মধ্যে দিনের পর দিন কাটানো মানুষটিকে বাইরে থেকে অলস বা অসামাজিক মনে হতে পারে। কিন্তু তার ভেতরে কী ধরনের ভয়, উদ্বেগ কিংবা হতাশা কাজ করছে, তা না জেনে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

হিকিকোমোরি থেকে বেরিয়ে আসার পথ সবার জন্য এক রকম নয়। কারও ক্ষেত্রে পরিবার ও বন্ধুদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ, আবার কারও প্রয়োজন হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি পেশাদার সহায়তা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষদের দোষারোপ না করে তাদের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা। কারণ, ঘরের দরজা বন্ধ থাকলেও তার পেছনে থাকা মানুষটির জীবনে আবার নতুন করে শুরু করার আকাঙ্ক্ষা একেবারে হারিয়ে গেছে এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই।

সূত্র: বিবিসি; ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকিয়াট্রি

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের কাচারি ঘর
গ্রামীণ জীবনের এক সময়ের প্রাণকেন্দ্র ছিল কাচারি ঘর। গ্রামের সামাজিক ও পারিবারিক কর্মকাণ্ডের প্রায় সবকিছুই এই ঘরের চারপাশে ঘুরে বেড়াত—সালিশ, বিবাহের প্রস্তুতি, অতিথি আপ্যায়ন, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সিদ্ধান্তও।
হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের কাচারি ঘর
বিপদ বুঝলে শরীরে এমন কাণ্ড করে যা দেখে অবাক বিজ্ঞানীরাও
নিজের শরীরকে চাকার মতো ঘুরিয়ে দ্রুত পালাতে পারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক প্রজাতির ছোট্ট সাপ। স্বাভাবিকভাবে এঁকেবেঁকে চলার তুলনায় এই কৌশলে তার গতি প্রায় চার গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
বিপদ বুঝলে শরীরে এমন কাণ্ড করে যা দেখে অবাক বিজ্ঞানীরাও
তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে তোলা পাথরের নমুনায় সামুদ্রিক দানবের জীবাশ্ম আবিষ্কার
প্রায় ১৬ কোটি বছর আগের সামুদ্রিক সরীসৃপের উগরে দেওয়া অপাচ্য খাদ্যাবশেষের জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। নরওয়ের ট্রোল তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের গভীর কূপ থেকে তোলা পাথরের নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে এই বিরল নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া যায়।
তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে তোলা পাথরের নমুনায় সামুদ্রিক দানবের জীবাশ্ম আবিষ্কার
আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন, ব্রহ্ম স্কুল থেকে যেভাবে হলো জবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সূচনা ১৮৫৮ সালে ‘ঢাকা ব্রহ্ম স্কুল’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।
আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন, ব্রহ্ম স্কুল থেকে যেভাবে হলো জবি
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সরকারি ছুটি যেসব দেশে, বাংলাদেশ কত নম্বরে
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সরকারি ছুটির দেশের তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বছরে ২২ দিন সরকারি ছুটি নিয়ে এ অবস্থানে রয়েছে দেশটি। তালিকার শীর্ষে রয়েছে নেপাল, যেখানে বছরে সরকারি ছুটির সংখ্যা ৩৫ দিন।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সরকারি ছুটি যেসব দেশে, বাংলাদেশ কত নম্বরে
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ-জাপান চিকিৎসা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ
জাপানে ওলিস’র সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন জেনিথ ইসলামি লাইফের সিইও
টোকিওতে বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী  
১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া শুরু করবে জাপান