ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

বিরোধী দলের লংমার্চ, রাষ্ট্রের সহনশীলতা গণতন্ত্রের নতুন পাঠ

আব্দুর রহিম

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
লেখক আব্দুর রহিম। সৌজন্য ছবি

একটি লং মার্চ। বিশাল মানুষের অংশগ্রহণ। রাজপথে রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল, স্লোগান সবই আছে। কিন্তু এর মধ্যেও সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি চোখে পড়ছে, তা হলো বড় কোনো প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা নেই, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অযাচিত বাধার অভিযোগ নেই। কোনো এলাকায় মামলা, হয়রানি কিংবা গণগ্রেফতারের খবরও নেই। একটি বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি যখন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের রাজনৈতিক মত প্রকাশের সুযোগ পায়, তখন সেটিকে শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এর সঙ্গে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও জড়িয়ে থাকে।

বিগত আমলে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে যে ভয়, আতঙ্ক, মামলা-হামলা, হয়রানি ও দমন-পীড়নের চিত্র আমরা দেখেছি, তার সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার পার্থক্য স্পষ্ট। তখন রাজনৈতিক কর্মসূচি মানেই অনেকের কাছে ছিল আতঙ্কের বিষয়। বিরোধী মত প্রকাশ করলে কী হবে, মিছিল করলে মামলা হবে কি না, রাজনৈতিক সভায় গেলে হয়রানির শিকার হতে হবে কি না! এসব প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল।

সেই বাস্তবতার বিপরীতে আজ যদি একটি রাজনৈতিক দল বড় পরিসরে কর্মসূচি পালন করতে পারে, হাজার হাজার মানুষ রাজপথে অংশ নিতে পারে, বিরোধী মত প্রকাশ করতে পারে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের রাজনৈতিক অধিকার চর্চার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সেটিকে ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ হিসেবেই দেখতে হবে।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই। গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার অধিকার নয়। গণতন্ত্র মানে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার, শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করার অধিকার, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার এবং রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে জনগণের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব হলো সেই অধিকারকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবহার করা।

এই জায়গা থেকেই ১১ দলের লং মার্চকে দেখা যেতে পারে। এটি নিছক একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং রাজনৈতিক সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ কতটা তৈরি হয়েছে, তারও একটি পরীক্ষার জায়গা। একটি কর্মসূচি কত বড়, কত মানুষ সেখানে অংশ নিলেন কিংবা কতটা রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি হলো। এসবের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, কর্মসূচিটি কীভাবে পরিচালিত হলো এবং রাষ্ট্র সেটিকে কীভাবে মোকাবিলা করল।

এটাই বহুদলীয় রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক বিএনপির রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মাঠে থাকার সুযোগ দেওয়া এবং ভিন্নমতকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা। ফ্যাসিজমের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে একটি নতুন, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের সম্ভাবনার জায়গাটিও এখানেই।

তবে কোনো একটি রাজনৈতিক দল বা কোনো একটি সরকারের ভালো উদ্যোগ দিয়েই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় না। গণতন্ত্র একটি চলমান প্রক্রিয়া। এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সর্বোপরি জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা।

এই রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানানো যায়। কারণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের কর্মসূচি পালন করার সুযোগ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। রাষ্ট্র যদি রাজনৈতিক মত প্রকাশের জায়গাটি সংকুচিত না করে বরং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করে, সেটি অবশ্যই ইতিবাচক বিষয়।

একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা অব্যাহত রাখার জন্য বিরোধী দলও ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কারণ বিরোধী দলের রাজনৈতিক শক্তি শুধু রাজপথে কত মানুষ নামাতে পারে, তার ওপর নির্ভর করে না; তারা কতটা দায়িত্বশীলভাবে সেই কর্মসূচি পরিচালনা করতে পারে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এখানেই শেষ নয়। গণতন্ত্র কোনো একক পক্ষের দায়িত্ব নয়। সরকারের দায়িত্ব বিরোধী মত ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা। বিরোধী দলের দায়িত্ব শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীলভাবে কর্মসূচি পালন করা। আর আমাদের সবার দায়িত্ব উসকানি, গুজব, সহিংসতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করা।

মতভিন্নতা থাকবে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে। সরকারের সমালোচনা থাকবে। বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যেন কখনো রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা সহিংসতার দিকে না যায়। একইভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগকে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, জনদুর্ভোগ কিংবা সহিংসতার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করতে না পারে সেদিকেও রাজনৈতিক দলগুলোর সতর্ক থাকতে হবে।

কারণ গণতন্ত্রের অধিকার যেমন আছে, তেমনি সেই অধিকারের সঙ্গে দায়িত্বও আছে।

একটি লং মার্চে মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে, রাস্তা ব্যস্ত হবে, সাধারণ মানুষের কিছুটা ভোগান্তিও হতে পারে। কিন্তু সেই ভোগান্তি যেন সহিংসতায় পরিণত না হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা যেন হুমকির মুখে না পড়ে এ দায়িত্বও রাজনৈতিক দলগুলোর।

একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে রাষ্ট্র যেন অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ না করে, অকারণে মামলা না দেয়, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে হয়রানি না করে কিংবা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে দমন করার চেষ্টা না করে এটিও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, শুধু বিরোধী দলেরও নয় এটি আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব।

আজ আমরা যে রাজনৈতিক সহনশীলতার চর্চা দেখতে চাই, তা আগামী দিনেও ধরে রাখতে হলে প্রত্যেক পক্ষকেই নিজের দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে। ক্ষমতার পরিবর্তনকে স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

উসকানিদাতাদের রুখে দেওয়া, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া কোনো পক্ষের প্রতি অনুগ্রহ নয়; এগুলো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে গুজব ও উসকানি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। একটি বিভ্রান্তিকর বক্তব্য, একটি সম্পাদিত ভিডিও কিংবা একটি মিথ্যা তথ্য মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। তাই রাজনৈতিক দল, নেতাকর্মী, গণমাধ্যম এবং সাধারণ নাগরিক সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। মতের বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তথ্যের ক্ষেত্রে সততা এবং আচরণের ক্ষেত্রে সংযম থাকা জরুরি।

আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সরকার বদলাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়; বিরোধী দল কথা বলবে নির্ভয়ে; জনগণ তাদের মত প্রকাশ করবে স্বাধীনভাবে; সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে পারবেন; রাজনৈতিক কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে পারবেন এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনোই সহিংসতা, মামলা, হয়রানি কিংবা নিপীড়নের কারণ হবে না।

একটি নতুন বাংলাদেশ শুধু নতুন সরকারের মাধ্যমে তৈরি হবে না। নতুন বাংলাদেশ তৈরি হবে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির মাধ্যমে। প্রতিহিংসার বদলে সহনশীলতা, দমন-পীড়নের বদলে সংলাপ, সংঘাতের বদলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং ক্ষমতার দম্ভের বদলে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। এই পরিবর্তনই হতে পারে সত্যিকারের নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি।

১১ দলের লং মার্চ সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি পরীক্ষা হিসেবে সামনে এসেছে। এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলে সেটি শুধু সংশ্লিষ্ট দলগুলোর জন্য নয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা হবে।
গণতন্ত্র কোনো দলের একার সম্পদ নয়। এটি জনগণের অধিকার। আর সেই অধিকার রক্ষা করা সরকার, বিরোধী দল, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকুক। রাজনৈতিক সহনশীলতা আরও শক্তিশালী হোক। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ুক। উসকানি ও সহিংসতার রাজনীতি পরাজিত হোক। সবার সম্মিলিত দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠুক আমাদের কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ।

লেখক: আব্দুর রহিম, স্টাফ রিপোর্টার, আরটিভি

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দেশের ৫০০ মেরিন ক্যাডেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ
বাংলাদেশের মেরিটাইম খাতের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে, যা এখনো আমাদের নীতিনির্ধারণী আলোচনায় যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দেশের ৫০০ মেরিন ক্যাডেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ
সন্ধিক্ষণ...
মহালয়া আসলে কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, মানুষের অস্তিত্বের ভেতরে বারবার ফিরে আসা এক সন্ধিক্ষণের নাম।
সন্ধিক্ষণ...
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শঙ্কায় আছেন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের দুই বছর পর ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
আজ মহান শিক্ষক দিবস। জীবনের এই বিশেষ দিনে সবার আগে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই আমার জীবনের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক—আমার আম্মুকে। আমার জীবনের প্রতিটি ভালো অর্জনের পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। তার ভালোবাসা, শাসন, ত্যাগ ও নিরন্তর অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। এরপর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমার স্কুলজীবনের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের—প্রধান শিক্ষক দীন ইসলাম স্যার, ফরিদা ইয়াসমিন (আমার চাচি), নিপা মেম, হেলানা মেম ও ফাতেমা মেমকে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্নেহেই চতুর্থ শ্রেণিতে আমার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করেছিল। তাদের শেখানো অনেক কথাই আজও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন মাধ্যমিক জীবনে পা রাখলাম, তখন নতুন করে কিছু মানুষ আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাদের স্নেহ, শাসন ও অনুপ্রেরণায় পেয়েছি নতুন পথের সন্ধান। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রেহানা মেম, শিলা মেম, তানিয়া মেম, দোলা মেম, হুজুর স্যার ও রাসেল স্যার অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই পেয়েছি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এরপর এলো কলেজজীবন। জীবনের এই অধ্যায়েও কিছু মানুষ আমার স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলেছেন। রাবেয়া মেম, দীপ্তি মেম, শামীম স্যার, দেলোয়ার স্যার ও আবুবকর স্যার—তাদের নাম আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তারা আমাকে শুধু পড়াননি; বরং স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করিয়েছেন—‘আমি পারব।’ তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার ফলেই আজ আমি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাদের অনুপ্রেরণায়ই ঢাবিতে (কলা অনুষদের নরমাল সাবজেক্টে), রাবি ও চবিতে ভর্তির সুযোগ হয়েছিল। আমার জীবনের সেই সময়ে তাদের উৎসাহ ও বিশ্বাস আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পথচলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদানও আমি কখনো ভুলব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের যে স্নেহ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা—তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং জীবনকে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে হয়, সেটিও শেখার সুযোগ পাচ্ছি। শিক্ষাজীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের বাইরেও আমার জীবনে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমার চাচাতো বড় বোন মিম আপুর। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে অনেক অঙ্ক অনুশীলন করিয়েছেন। তার সেই পরিশ্রম ও সময় দেওয়ার সুফল আমি আজও পাচ্ছি। অনেক সময় একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে থাকেন না, কিন্তু তার শেখানোটা সারাজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যায়—মিম আপু আমার জন্য তেমনই একজন। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমার শেখার জগৎকে আরও বিস্তৃত করেছে। সাংবাদিকতা করার সুবাদে আরটিভির অনলাইন ইনচার্জ আজাদ ভাই এবং শিফট ইনচার্জ ইমতিয়াজ ভাইয়ের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। সংবাদকে কীভাবে দেখতে হয়, তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা— এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা আমার ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রতিও রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে কোনো না কোনো শিক্ষক আমার হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন। কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয়, কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে কঠিন সময়ে হাল না ছেড়ে এগিয়ে যেতে হয়, আবার কেউ আমার ওপর বিশ্বাস রেখে আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। আজ আমি যে পরিচয়ে পরিচিত, তার পেছনে আমার বাবা-মায়ের পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের দেওয়া শিক্ষা, শাসন, স্নেহ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। আমার জীবনের পথচলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা। শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নয়; একজন শিক্ষক একটি জীবন বদলে দিতে পারেন। আর জীবনের এই দীর্ঘ পথে কিছু মানুষ শিক্ষক না হয়েও আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যান। তাই এই মহান দিবসে আমার শিক্ষকদেরসহ বিশ্বের সকল শিক্ষকের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা। শুভ শিক্ষক দিবস। আবুবকর সম্পদ জবি সংবাদদাতা, আরটিভি আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি আরটিভি/এমএইচজে
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একটি পরিবারের জন্য বড় সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্থ, সময়, মানসিক চাপ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চিকিৎসা নিয়ে প্রত্যাশা। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার কাছে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়—দ্বিতীয় মতামত নেওয়া। দ্বিতীয় মতামত মানে প্রথম চিকিৎসককে অবিশ্বাস করা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে আরেকজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মতামত জানা। এতে রোগী ও পরিবার রোগের অবস্থা, চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। আমাদের দেশে কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লেই অনেক পরিবার প্রথমে বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবেন। আবার কেউ পরিচিত কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেন। কিন্তু একই রোগ হলেও প্রতিটি রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ঝুঁকি এক নয়। তাই একজনের ভালো অভিজ্ঞতা অন্যজনের জন্য একই ফল নিশ্চিত করে না। আমার দৃষ্টিতে, বিদেশে যাওয়ার আগে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—“আমার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?” এর উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার। রোগটি ঠিক কী? চিকিৎসার উদ্দেশ্য কী? দেশে এই চিকিৎসার উপযুক্ত সক্ষমতা আছে কি না? বিদেশে গেলে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সম্ভাব্য খরচ কত? আর চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কীভাবে হবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। চিকিৎসার মান শুধু একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, রোগীকেন্দ্রিকতা, সময়োপযোগিতা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে গিয়ে একটি চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে আসার পর পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় হবে এবং চিকিৎসার তথ্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসবও সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া মানেই চিকিৎসা পরিবর্তন করতে হবে—এমন নয়। অনেক সময় দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত প্রথম চিকিৎসা পরিকল্পনাকেই আরও পরিষ্কার করে। আবার কখনো নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসতে পারে। মূল বিষয় হলো—রোগী যেন নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া ভুল—এমন কথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিদেশে গেলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণাও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক চিকিৎসার জন্য দেশের মধ্যেই উপযুক্ত সক্ষমতা থাকতে পারে। তাই আমার কাছে বিদেশে চিকিৎসার প্রশ্নটি “দেশ না বিদেশ”—এভাবে দেখার চেয়ে “প্রয়োজনের জন্য সঠিক জায়গা কোথায়?”—এই প্রশ্নে দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীকে কোনো একটি সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং তাকে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় বিকল্প এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত রোগী বিদেশে যাবেন, নাকি দেশে চিকিৎসা নেবেন—সিদ্ধান্তটি তার। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে যথেষ্ট তথ্য ও আস্থার সুযোগ দেওয়া। কারণ চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কখনো কখনো আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুধু একটি অতিরিক্ত পরামর্শ নয়— এটি হতে পারে আরও সচেতন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। লেখক: মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম। আরটিভি/ এসকেডি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আরও পড়ুন
জামায়াতকে ইসলামাবাদ অভিমুখে 'লং মার্চ' স্থগিতের অনুরোধ শেহবাজের
বাধাহীন লংমার্চ, রাজনীতিতে সহনশীলতার বার্তা
ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ শুরু
লং মার্চে পুলিশের সহযোগিতা চায় জামায়াত, আইজিপির সঙ্গে বসছে ১১ দল