ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

বিদেশি এজেন্ট দিয়ে দেশ অস্থির করার অপচেষ্টা চলছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাসস

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:১২ পিএম
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন : ছবি সংগৃহীত

একটি মহল বিদেশি এজেন্ট দিয়ে বাংলাদেশকে আবারও অস্থির করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সভা কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের দোসররা এখনো নানাভাবে সক্রিয় রয়েছে। তারা বিদেশি অপশক্তির সহায়তায় দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং অস্তিত্বকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

তিনি বলেন, এই দেশের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছিল বলেই বাংলাদেশিরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে পারছে এবং উচ্চ পদে বসতে পারে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। সকল ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে।

আরও পড়ুন

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব দীর্ঘদিনের স্বৈরাচার বিরোধী ক্ষোভের বিস্ফোরণ ছিল মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মতো জুলাইয়ের গণবিপ্লবও আমাদের অর্জনের এক অনন্য প্রতীক। জুলাইয়ের আন্দোলন একদিনে গড়ে ওঠেনি। ২০০৯ সালের পর থেকে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন, গুম, হত্যা, দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও রাজনৈতিক নিপীড়নের ফলে মানুষের মনে যে ক্ষোভ জমা হয়েছিল, তা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো জুলাইয়ে বিস্ফোরিত হয়েছে।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেভাবে রাজপথে নেমে এসে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। জুলাই অভ্যুত্থানে যারা চোখ, হাত, পা হারিয়েছেন কিংবা শহীদ হয়েছেন, তাদের এ আত্মত্যাগ ও অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিপ্লবের ক্ষেত্রে বিশ্বের কাছে এক অন্যান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ৫ আগস্ট জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই।

আরও পড়ুন

মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠনের শপথ নিচ্ছি। সাধারণ মানুষের জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। দুর্নীতিমুক্ত এবং সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত হবে।

স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খোরশেদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম আহসানুল আজিজ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী ফ্যাসিবাদী শাসনকালের নানান অন্যায়, নির্যাতন এবং অপশাসনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলন ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের বহিঃপ্রকাশ। দেশের মানুষ চেয়েছে গণপ্রতিনিধিত্বশীল ও সুশাসিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। তাই আমরা জনগণের জন্য কাজ করব এবং আমরা সততা ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে কাজ করব।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অক্টোবরে রেকর্ড প্রাণহানির পর ডেঙ্গুতে এবার আরও ৬ জনের মৃত্যু
গেল অক্টোবর মাসে রেকর্ড ১৭৪ জনের মৃত্যুর পর আবারও চোখ রাঙানি দিচ্ছে ডেঙ্গু। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অক্টোবরে রেকর্ড প্রাণহানির পর ডেঙ্গুতে এবার আরও ৬ জনের মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর প্রাণহানি
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ শিশু এবং উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৭ জনে।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর প্রাণহানি
ডেঙ্গুতে এবার একদিনে ৮ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৯২৯
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯২৯ জন।
ডেঙ্গুতে এবার একদিনে ৮ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৯২৯
হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৫৩
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে আরও এক হাজার ৩৫০ জন শিশুর শরীরে সন্দেহজনক হাম শনাক্ত হয়েছে।
হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৫৩
পচা দই-মিষ্টির সিরায় তৈরি হচ্ছে শিশুদের চকলেট-সন্দেশ!
ভেজাল শিশুখাদ্যে সয়লাব দেশের বাজার। পচা মিষ্টির সিরা ও নষ্ট দই দিয়ে তৈরি হচ্ছে শিশুদের চকলেট-সন্দেশ। সম্প্রতি রূপগঞ্জের একটি কারখানায় এই চিত্র দেখা গেছে। পুরো কারখানায় নেই কোনো ফলের অস্তিত্ব। অথচ এখানেই তৈরি হয় আম, লিচু, আনারসসহ বিভিন্ন ফলের জেলি, জুস ও আইস ললি। ক্যামেরায় ধরা পড়ে এসব খাবার তৈরিতে রাসায়নিক উপাদান ও ক্ষতিকর রং ব্যবহারের চিত্র।  কারখানার দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি জানান, এসব উপাদান দিয়ে আসল ফলের পরিবর্তে কৃত্রিমভাবে শিশুখাদ্য তৈরি করেন তারা। কারখানার ভেতরের আরেকটি কক্ষে গিয়ে দেখা যায় আরও ভয়াবহ চিত্র। সেখানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে পচা পণ্য ও ময়লা-আবর্জনা। সেখান থেকেই জেলি বের করছেন কয়েকজন। পরে এসব জেলি আবার প্যাকেটজাত করে বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি চলছে। সাভারের আরেকটি কারখানায় তৈরি হচ্ছে শিশুদের চকলেট ও সন্দেশ। সেখানে অসংখ্য ড্রামে জমিয়ে রাখা হয়েছে পাঁচ থেকে ছয় দিন আগের পচা মিষ্টির সিরা। সেই সিরা দিয়েই তৈরি হচ্ছে শিশুদের জন্য সন্দেশ, যা কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে ছড়িয়ে দেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। প্যাকেটের গায়ে দুধ, চিনি ও বিভিন্ন উপাদানের কথা উল্লেখ থাকলেও ড্রামগুলোতে রয়েছে শুধু মিষ্টির সিরা ও পচা দই। এর মধ্যে মরে পচে আছে মাছি ও বিভিন্ন পোকামাকড়।  এসব উপাদান গরম করেই তৈরি করা হচ্ছে সন্দেশ ও চকলেট। কারখানার পরিবেশও অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। চারদিকে দুর্গন্ধে টেকা দায়। মিষ্টির সিরা ও ফ্লেভার ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানার এক কর্মচারী জানান, মিষ্টির দোকান থেকে ফেলে দেওয়া মিষ্টির সিরা সংগ্রহ করে আটা দিয়ে জ্বাল দেওয়া হয়। এতে মিষ্টির স্বাদ ও ফ্লেভার পাওয়া যায়। শুধু একটি বা দুটি কারখানা নয়, রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সাভার ও আশুলিয়ায় তৈরি হচ্ছে এমন ক্ষতিকর শিশুখাদ্য। এসব কারখানায় তৈরি পণ্যের গন্তব্য পুরান ঢাকার চকবাজার। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে এসব খাবার। এ বিষয়ে মুদি দোকানিরা বলছেন, তারা বিক্রি বন্ধ করলেও অন্য দোকানে এসব পণ্য বিক্রি হবে। একজন দোকানি বলেন, আমি যদি না বিক্রি করি, দেখা যাবে আমার পরিবর্তে আরেকটা দোকান বিক্রি করবে। বাংলাদেশে জন্মলগ্ন থেকেই এসব চলছে, এর কী হবে? এসব জিনিস বিক্রি করলেও আমি আমার বাচ্চাকে খাওয়াই না। দেশের শিশুখাদ্যের এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কী করছে, তা জানতে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হয় সময় সংবাদ। তবে তাদের বক্তব্যে উঠে আসে হতাশার চিত্র। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্যশিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ভেজালবিরোধী বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করছি। তারপরও এসব কমছে না। এর মূল কারণ তাদের অসততা। সরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করি, তাদের পক্ষে এককভাবে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এসব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আরটিভি/এসআর
পচা দই-মিষ্টির সিরায় তৈরি হচ্ছে শিশুদের চকলেট-সন্দেশ!
আরও পড়ুন
ভোটের আগে বাড়ি বাড়ি ফেডারেল এজেন্ট, অভিবাসীদের উদ্বেগ
বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে
বারেক ব্যাপারীর বাদ্যযন্ত্রে তল্লাশি, লুকানো ছিল বিদেশি পিস্তল
দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ