
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে পুরুষদের চেহারা ও সৌন্দর্যের মানদণ্ড দ্রুত বদলাচ্ছে। কেবল নারীরাই নন, নিজেদের শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে নানা প্রত্যাশার মুখোমুখি হচ্ছেন পুরুষেরা। এই ধারাবাহিকতায় অতি পরিচিত ঠোঁটের ফিলারের মতোই এখন আলোচনায় এসেছে পুরুষাঙ্গ বা পেনিস ফিলার নেওয়ার প্রবণতা। তবে এ ধরনের কসমেটিক চিকিৎসায় বড় ঝুঁকি দেখছেন চিকিৎসকেরা।
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা জেসন (ছদ্মনাম) অস্ত্রোপচারের জটিলতা এড়াতে বেছে নিয়েছেন হায়ালুরোনিক অ্যাসিড নামের একধরনের সাময়িক ফিলার। লিঙ্গের দৈর্ঘ্য নিয়ে অসন্তোষ না থাকলেও পরিধি বা স্থূলতা ১৮ শতাংশ বাড়াতে তিনি এই ইনজেকশন নিয়েছেন। জেসন বলেন, ‘এটি পুরোপুরি কাজ করে, শুধু সামান্য বাড়তি প্রস্থ এসেছে। এতে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’
জেসনের মতো যুক্তরাজ্যের কতজন পুরুষ এই সেবা নিচ্ছেন, তার স্পষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি বেশ সীমিত। এমনকি আইনগতভাবে এই ফিলার দেওয়ার জন্য কোনো চিকিৎসাগত প্রশিক্ষণেরও বাধ্যবাধকতা নেই। তবে চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অনলাইন বিজ্ঞাপন ও পর্নোগ্রাফির সামাজিক চাপের কারণে এ ধরনের প্রক্রিয়া নেওয়ার আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অস্ত্রোপচার ছাড়া লিঙ্গে জেল-সদৃশ পদার্থ হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ইনজেকশন দেওয়ার মাধ্যমে এই চিকিৎসা দেওয়া হয়। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের এক কসমেটিক চিকিৎসক ডা. জাভেদ হুসেইন জানান, এক থেকে দেড় বছর মেয়াদি এই প্রক্রিয়ায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বেশি) পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এটি সাময়িকভাবে পরিধি ১০ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করে।
সামান্য স্বস্তি বা আত্মবিশ্বাস বাড়লেও এই ফিলার নেওয়ার পেছনে মারাত্মক সব স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। যুক্তরাজ্যের অ্যান্ড্রোলজিস্ট ও ইউরোলজিক্যাল সার্জন প্রফেসর বৈভব মোদগিল জানিয়েছেন, ফিলার নেওয়া ব্যর্থ হলে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি ‘টিস্যু নেক্রোসিস’ বা পচন ধরে ত্বক কালো হয়ে খসে পড়ার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটছে। এতে অনেক পুরুষ সারাজীবনের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ঝুঁকির তীব্রতা বিবেচনা করে ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস (বাউস) সম্প্রতি এক নির্দেশনায় এ ধরনের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। প্রায় পৌনে চার হাজার পুরুষের ওপর পরিচালিত ৩৬টি গবেষণা পর্যালোচনা করে তারা জানায়, দীর্ঘমেয়াদে ফিলারের প্রভাব কতটা নিরাপদ, তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।
পেনিস ফিলারের বাজার ও চিকিৎসা ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। চিকিৎসকদের পরামর্শ, যেকোনো ধরনের কসমেটিক সিদ্ধান্তের আগে ক্ষণস্থায়ী প্রচারণায় কান না দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শারীরিক নিরাপত্তার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/এআর


-1790770887-406790_1790770893.jpg)