ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

ঝুঁকি জেনেও লিঙ্গের আকার বড় করতে কেন ফিলার নিচ্ছেন পুরুষরা?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে পুরুষদের চেহারা ও সৌন্দর্যের মানদণ্ড দ্রুত বদলাচ্ছে। কেবল নারীরাই নন, নিজেদের শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে নানা প্রত্যাশার মুখোমুখি হচ্ছেন পুরুষেরা। এই ধারাবাহিকতায় অতি পরিচিত ঠোঁটের ফিলারের মতোই এখন আলোচনায় এসেছে পুরুষাঙ্গ বা পেনিস ফিলার নেওয়ার প্রবণতা। তবে এ ধরনের কসমেটিক চিকিৎসায় বড় ঝুঁকি দেখছেন চিকিৎসকেরা।

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা জেসন (ছদ্মনাম) অস্ত্রোপচারের জটিলতা এড়াতে বেছে নিয়েছেন হায়ালুরোনিক অ্যাসিড নামের একধরনের সাময়িক ফিলার। লিঙ্গের দৈর্ঘ্য নিয়ে অসন্তোষ না থাকলেও পরিধি বা স্থূলতা ১৮ শতাংশ বাড়াতে তিনি এই ইনজেকশন নিয়েছেন। জেসন বলেন, ‘এটি পুরোপুরি কাজ করে, শুধু সামান্য বাড়তি প্রস্থ এসেছে। এতে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’

জেসনের মতো যুক্তরাজ্যের কতজন পুরুষ এই সেবা নিচ্ছেন, তার স্পষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি বেশ সীমিত। এমনকি আইনগতভাবে এই ফিলার দেওয়ার জন্য কোনো চিকিৎসাগত প্রশিক্ষণেরও বাধ্যবাধকতা নেই। তবে চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অনলাইন বিজ্ঞাপন ও পর্নোগ্রাফির সামাজিক চাপের কারণে এ ধরনের প্রক্রিয়া নেওয়ার আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন

অস্ত্রোপচার ছাড়া লিঙ্গে জেল-সদৃশ পদার্থ হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ইনজেকশন দেওয়ার মাধ্যমে এই চিকিৎসা দেওয়া হয়। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের এক কসমেটিক চিকিৎসক ডা. জাভেদ হুসেইন জানান, এক থেকে দেড় বছর মেয়াদি এই প্রক্রিয়ায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বেশি) পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এটি সাময়িকভাবে পরিধি ১০ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করে।

সামান্য স্বস্তি বা আত্মবিশ্বাস বাড়লেও এই ফিলার নেওয়ার পেছনে মারাত্মক সব স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। যুক্তরাজ্যের অ্যান্ড্রোলজিস্ট ও ইউরোলজিক্যাল সার্জন প্রফেসর বৈভব মোদগিল জানিয়েছেন, ফিলার নেওয়া ব্যর্থ হলে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি ‘টিস্যু নেক্রোসিস’ বা পচন ধরে ত্বক কালো হয়ে খসে পড়ার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটছে। এতে অনেক পুরুষ সারাজীবনের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ঝুঁকির তীব্রতা বিবেচনা করে ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস (বাউস) সম্প্রতি এক নির্দেশনায় এ ধরনের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। প্রায় পৌনে চার হাজার পুরুষের ওপর পরিচালিত ৩৬টি গবেষণা পর্যালোচনা করে তারা জানায়, দীর্ঘমেয়াদে ফিলারের প্রভাব কতটা নিরাপদ, তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।

পেনিস ফিলারের বাজার ও চিকিৎসা ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। চিকিৎসকদের পরামর্শ, যেকোনো ধরনের কসমেটিক সিদ্ধান্তের আগে ক্ষণস্থায়ী প্রচারণায় কান না দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শারীরিক নিরাপত্তার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১২৯৯
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।
ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১২৯৯
হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ৭ শিশুর
এ নিয়ে চলতি বছরে হাম উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ১ হাজার ২১৪ শিশুর। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে দেশের ১০৪ শিশু।
হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ৭ শিশুর
স্তন ক্যানসার সচেতনতায় ‘গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা’
বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেছেন, পরিবারের সব সদস্যের যত্ন নিলেও নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হন না। লজ্জাবোধের কারণে অনেক নারী স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা সমস্যা দেখা দিলেও চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। তাই পরিবারের প্রতিটি নারী সদস্যকে নিজের প্রতি যত্নবান হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করা ও স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ডাকবাংলা মোড়ে ‘গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা’ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, এই গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা মূলত ঢাকা শহরকেন্দ্রিক ছিল। তবে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে ২০২০ সালের পর থেকে ঢাকার বাইরেও এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। স্তন ক্যানসার সচেতনতার বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, বাঙালি নারীরা পরিবারের সবার প্রতি যত্নবান হলেও অনেক সময় নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে অবহেলা করেন। আবার লজ্জাবোধের কারণেও অনেকে স্তন ক্যানসারের লক্ষণ দেখা দিলে তা গোপন রাখেন। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে নারীদের নিজের শরীরের প্রতি সচেতন হতে হবে এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। স্তন ক্যানসার বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা থেকে বরিশাল অভিমুখে শুরু হয়েছে ‘গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা’। শুক্রবার সকালে শ্রীনগর উপজেলার ডাকবাংলা মোড় থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশসহ স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করা অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গোলাপি রঙে সজ্জিত একটি বিশেষ বাসে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, বিশেষজ্ঞ সার্জন, ক্যানসারজয়ী ব্যক্তি, সংগঠক ও সংস্কৃতিকর্মীরা এ অভিযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। প্রথম দিনের কর্মসূচিতে শ্রীনগর, ভাঙ্গা, টেকেরহাট, রাজৈর, কালকিনি, টরকী বন্দর, গৌরনদী, বাটাজোর, শিকারপুর ও উজিরপুর হয়ে বরিশালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে শোভাযাত্রাটির। নির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও লিফলেট বিতরণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের বরিশালে রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে বরিশাল থেকে যাত্রা শুরু করে নলছিটি, ঝালকাঠি, দুর্গাসাগর, বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ, রহমতপুর, মস্তফাপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও নড়িয়াসহ প্রায় ৪০টি ছোট-বড় জনপদে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও প্রচারপত্র বিতরণ শেষে শোভাযাত্রাটি ঢাকায় ফিরে আসবে। শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী ও ক্যানসার রোগতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। আরটিভি/টিআর
স্তন ক্যানসার সচেতনতায় ‘গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা’
ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৫১২
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজন মারা গেছেন। একই সময়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫১২ জন।
ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৫১২
ছয় মাসে হাম ও উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যু ১২০৭
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট প্রাণহানি ১ হাজার ২০৭ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ৩১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। 
ছয় মাসে হাম ও উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যু ১২০৭
আরও পড়ুন
সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়া কর্মী: উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
হাসপাতালের টয়লেট নিজ হাতে পরিষ্কার করলেন এমপি খোকন
শিক্ষার্থীদের অদৃশ্য লড়াই ও মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট: প্রয়োজন এক সহমর্মী ক্যাম্পাস
সমকামী পুরুষদের মধ্যে এইচআইভির ঝুঁকি বেশি কেন?