
দেশে মৃত্যুর শীর্ষ কারণগুলোর অন্যমত হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির রোগ বা কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ। একটি পরিসংখ্যান বলছে, দেশে মোট মৃত্যুর ৩৪ শতাংশের পেছনে আছে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির রোগ।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বাজেটের বরাদ্দ বাড়ানো গেলে হৃদরোগজনিত অকালমৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব বলে অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সোমবার আয়োজিত ‘তরুণদের উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বাজেট: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহায়তায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ‘হার্ট ডিজিজ ক্যান হাইড ইন প্লেইন সাইট: ডোন্ট মিস এ বিট’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত হবে।
ওয়েবিনারে জানানো হয়, বিশ্বে প্রতি বছর হৃদরোগে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ অকালমৃত্যুবরণ করেন। এর অন্যতম প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ। বাংলাদেশেও হৃদরোগজনিত মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
বক্তারা জানান, ২০২৪ সালে দেশে হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ মারা যান। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ। এসব মৃত্যুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অকালমৃত্যু।
‘বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে, ২০১৮’-এর তথ্য তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। ফলে তরুণদের মধ্যেও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ৫ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা প্রশংসনীয়। বর্ধিত বরাদ্দের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চ রক্তচাপের ওষুধে ব্যয় করা হলে দেশে উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
‘উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে’ উল্লেখ করেন ডা. মো. মারুফ হক খান।
গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব উল্লেখ করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান বলেন, তরুণদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগে হলেও এ খাতে স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।
ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন ও ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কনসালটেন্ট আমিনুল ইসলাম সুজন।
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল।
বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস’ সোসাইটি, প্ল্যাটফরম ডক্টরস ফাউন্ডেশনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ওয়েবিনারে অংশ নেন।
আরটিভি/এমএ


