ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

পুরুষের তুলনায় নারীদের রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি ১১ গুণ বেশি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
গ্রামীণ নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতার হার পুরুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ, মাঝারি মাত্রার রক্তস্বল্পতায় ঝুঁকি ১১ গুণের বেশি। ছবি: সংগৃহীত

দেশের গ্রামীণ নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে এক গবেষণায়। স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা নারীদের প্রায় ৭৮ শতাংশ রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত। বিপরীতে পুরুষদের মধ্যে এ হার ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারীদের রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত হওয়ার হার প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে মাঝারি মাত্রার রক্তস্বল্পতায় নারীদের ঝুঁকি পুরুষের তুলনায় ১১ দশমিক ৫৩ গুণ বেশি।

চট্টগ্রাম বিভাগের চারটি গ্রামীণ ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা প্রাপ্তবয়স্কদের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘হেলথ সায়েন্স রিপোর্টস’-এ গত ১০ অক্টোবর প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, হিমোগ্লোবিন পরীক্ষার তথ্য পাওয়া ৪৫৯ জনের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন।

গবেষণায় নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতায় আক্রান্তের হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে ২৭ শতাংশ মৃদু, ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ মাঝারি এবং ২ দশমিক ৬ শতাংশ তীব্র রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীদের মৃদু রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি ২ দশমিক ৫১ গুণ এবং মাঝারি রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি ১১ দশমিক ৫৩ গুণ বেশি। এছাড়া স্বাভাবিক ওজনের মানুষের তুলনায় কম ওজনের ব্যক্তিদের মাঝারি মাত্রার রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩ দশমিক ৪২ গুণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের রক্তস্বল্পতার অন্যতম কারণ পুষ্টিহীনতা, মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, কম বয়সে বিয়ে ও মাতৃত্ব। গর্ভাবস্থা এবং সন্তান জন্মদানের সময় শরীরে পুষ্টির চাহিদা বেড়ে গেলেও অনেক নারী প্রয়োজনীয় আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ খাবার পান না। ফলে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বাড়ে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আফসানা হাবিব শিউলী গণমাধ্যমকে বলেন, নারীদের পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী খাবার নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য পুষ্টিবিষয়ক শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব রক্তস্বল্পতার কারণ আয়রনের অভাব নয়। ফলেট ও ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, সংক্রমণ এবং বংশগত রক্তরোগের কারণেও এ সমস্যা হতে পারে। তাই রক্তস্বল্পতা শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

গবেষণার সহগবেষক ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, গ্রামীণ নারীদের নিয়মিত রক্তের হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে কিশোরী, সন্তান ধারণের বয়সী নারী ও গর্ভবতীদের। পাশাপাশি আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের বড়ি গ্রহণ এবং চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, খাবারের তালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ও শাকসবজি রাখতে হবে। আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি-যুক্ত ফল খেলে শরীরে আয়রন শোষণে সহায়তা হয়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নিরাপদ মাতৃত্ব এবং সন্তান জন্মদানের মধ্যে যথেষ্ট বিরতি নিশ্চিত করাও জরুরি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সালাহউদ্দিন শাহ গণমাধ্যমকে জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তের হার বেশি। তাই রক্তস্বল্পতার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

তবে গবেষণাটির ফলাফল দেশের সব নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ, তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে এবং হিমোগ্লোবিন পরীক্ষার তথ্য পাওয়া ৪৫৯ জনকে চূড়ান্ত বিশ্লেষণে রাখা হয়েছিল। গবেষণায় রক্তস্বল্পতার সব সম্ভাব্য কারণও আলাদাভাবে নির্ণয় করা হয়নি।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২৩৩৩
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৩৩৩ জন।
ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২৩৩৩
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ ধরা পড়েছে ১ হাজার ২২৫ শিশুর শরীরে। রোববার (৮ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগেই হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যনুযায়ী, একদিনে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে হামের উপসর্গে একজন করে মোট দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮২ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৫ ও হাম উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর আরও জানিয়েছে, গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ২২৫ শিশুর শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হমে আক্রান্ত হয়েছে ৮৭ শিশু। এ ছাড়া, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ২ লাখ ১২ হাজার ৯৭৯ রোগী ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ লাখ ৪ হাজার ৪৯ শিশু। আরটিভি/টিআর
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
হামের টিকায় অনিয়ম / তদন্তে ৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠন
হামের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠন করেছে সরকার। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়-দায়িত্বও নির্ধারণ করবে এই কমিশন। গত বুধবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিশনের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মামনুন রহমান। এর অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, হামের টিকা ক্রয় ও বিতরণ কার্যক্রমে কেন বিলম্ব হয়েছে, কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল কি না এবং এসব ঘটনার জন্য কারা দায়ী, তা তদন্ত করে চিহ্নিত করবে কমিশন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সুপারিশ করবে। এ ছাড়া কমিশন প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও সুপারিশ দিতে পারবে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশনকে বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য দেশের যেকোনো স্থানে পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে কমিশন। প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকে পরবর্তী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা ও অন্যান্য সহযোগিতা দেবে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। এ ছাড়া তদন্তের ব্যয় নির্বাহ এবং কার্যক্রমে সহায়তার জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কিংবা এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।       আরটিভি/এসআর
তদন্তে ৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠন
আরও ৩ প্রাণ কেড়ে নিলো ডেঙ্গু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৬৭৪
শনিবার (৭ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও ৩ প্রাণ কেড়ে নিলো ডেঙ্গু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৬৭৪
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু
শনিবার (৭ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু
আরও পড়ুন
দেশে আক্রান্ত রোগী ৭০ হাজারের বেশি