ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

তেলেঙ্গানার স্থানীয় নির্বাচনেও বিজেপির ট্রাম্পকার্ড ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ও রোহিঙ্গা ইস্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০২:২৬ পিএম
ভারতের শিক্ষা ও মানব সম্পদমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দুই রাজ্য- আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশ থেকে কথিত অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়টিকে বিজেপি নেতারা ভোটের ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু এবার সুদূর দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ শহরের পৌর নির্বাচনেও কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গ আনা হয়েছে।

বুধবার এক নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিজেপি নেত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি একটি জাতীয় টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বলেছেন যে, মুসলিমদের রাজনৈতিক দল এমআইএম নেতাদের নাম ছাপানো প্যাডে ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ নাম ভোটার তালিকায় তোলার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এবং তেলেঙ্গানা সরকারকে ওই রোহিঙ্গা এবং ‘বেআইনিভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের’ জায়গা দেয়ার জন্য দায়ী করেছে বিজেপি। বিজেপি তেলেঙ্গানা রাজ্য সভাপতি এবং সংসদ সদস্য বান্ডি সঞ্জয় এক নির্বাচনীয় সভায় তেলুগু ভাষায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, আমাদের দল পৌর নির্বাচনে জিতলেই রোহিঙ্গা এবং পাকিস্তানিদের এক সার্জিকাল স্ট্রাইক করে পুরনো হায়দরাবাদ শহর থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে।

তার আরও অভিযোগ যে, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি এবং এমআইএম দল দুটি রোহিঙ্গা, পাকিস্তানি এবং আফগানদের ভোট পেয়ে নির্বাচনে জেতার চেষ্টা করছে। এমআইএম দলের প্রধান ও হায়দরাবাদের এমপি আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এই অভিযোগের জবাব দেন আরেকটি জনসভায়।

ওয়াইসি বলেন, বিজেপি অভিযোগ করছে যে হায়দরাবাদে নাকি ভোটার তালিকায় ৩০-৪০ হাজার রোহিঙ্গা আছে। যদি ৩০ হাজার রোহিঙ্গা হায়দরাবাদে থাকে, তাহলে অমিত শাহ কি করছেন! তিনি কি ঘুমিয়ে আছেন? তিনি তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তার তো দেখার কথা যে ৩০-৪০ হাজার রোহিঙ্গার নাম ভোটার লিস্টে কি করে ঢুকলো!

রোহিঙ্গা আর অবৈধ বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গে বান্ডি সঞ্জয়ের ভাষণের পরে বিতর্কের মধ্যেই বুধবার হায়দরাবাদে দলের প্রর্থীদের হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। সেখানে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, একটি স্থানীয় টিভি চ্যানেলে তো দেখানো হয়েছে যে ভোটার লিস্টে নাম তুলে দেয়ার জন্য এমআইএম এবং তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীকে খোলাখুলিভাবেই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে একজন রোহিঙ্গা মুসলিম।

স্মৃতি ইরানি অভিযোগ করে বলেন, আবার একটি জাতীয় চ্যানেলের প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে যে এমআইএম নেতাদের নাম ছাপা প্যাডে চিঠি লেখা হয়েছে যাতে অবৈধ বাংলাদেশিদের নাম ভোটার তালিকায় তোলা হয়।

হায়দরাবাদে ১২-১৩ শত রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিবার বাস করছে ৭-৮ বছর ধরে। এদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই বেসরকারী জমিতে ঝুপড়ি বানিয়ে থাকেন আর কায়িক শ্রমের কাজ করে রোজগার করেন। এরকমই একজন রোহিঙ্গা শরণার্থী নূর বাশার।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, কোনও রাজনৈতিক দল কখনই আমাদের কাছে এসে এটা বলেনি যে দলে এসো তোমাদের নাগরিকত্ব পাইয়ে দেবো বা ভোটার লিস্টে নাম তুলে দেবো। কিন্তু কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে এরকম খবর দেখানো হয়েছে।

নূর বাশার বলেন, সমস্যাটা আসলে ভাষার। শরণার্থীদের বেশিরভাগই স্থানীয় ভাষা বোঝেন না। আর আমার সামনেই একবার সংবাদকর্মীদের কিছুটা রাজনৈতিক প্রশ্ন করতে দেখেছি। সাংবাদিক কাউকে জিজ্ঞাসা করেছে আপনার নাম ভোটার লিস্টে আছে? কোনও শরণার্থী বলে দিয়েছে ‘হ্যাঁ’। আবার প্রশ্ন করেছে এজন্য কি এমআইএম আর মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আপনি কৃতজ্ঞ? সে তাতেও ‘হ্যাঁ’ বলেছে। কিন্তু আসলে তো প্রশ্নটাই বুঝতে পারেনি ওই শরণার্থী!

রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর সদস্যরা বলছেন যে, তাদের প্রায় সবারই জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর থেকে দেয়া পরিচয়পত্র রয়েছে। যাদের সেই পরিচয়পত্র নেই, তাদের বয়স ১৮-র নিচে। প্রাপ্তবয়স্ক হলেই সেই পরিচয়পত্র পাওয়া যাবে বলেও রোহিঙ্গারা জানাচ্ছেন। যেমনটা হয়েছিল বাশারের ছোট ভাইয়ের ক্ষেত্রে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে হঠাৎ হায়দরাবাদের পৌরসভা নির্বাচনে কেন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা- এসব প্রসঙ্গ তোলা হল? বিশ্লেষকরা বলছেন, হায়দরাবাদের পুরসভা ভোট নয়, বিজেপি হিসাব কষেই এই ইস্যুটা এখন তুলেছে। তবে তাদের আসল লক্ষ্য তিন বছর পরের বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা।

হায়দরাবাদের ইংরেজী দৈনিক ডেকান ক্রনিকালের রেসিডেন্ট এডিটর শ্রীরাম কারি বলছিলেন, তিন বছর পরের বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়েই বিজেপি এখন রাজ্য সরকারকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। সেজন্যই তারা হিন্দু মুসলিম ন্যারেটিভ সামনে এনে বিভাজনের চেষ্টা শুরু করেছে।

কারির বলেন, আর পুরনো হায়দরাবাদ শহর- যে অঞ্চল রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসাদুদ্দিন ওয়াইসির এমআইএম, সেখানেই এই তত্ত্ব চালানোর চেষ্টা হচ্ছে যে ওয়াইসির দল অবৈধভাবে বাস করা পাকিস্তানি, বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে।

তবে তিনি এও বলছিলেন, এটা খুবই দুর্ভাগ্যের। পুর নির্বাচনে ইস্যু হওয়ার কথা রাস্তা, আলো, পানি, চিকিৎসা ব্যবস্থার ইস্যু। তার বদলে বহু দূরের একটা ইস্যু- অবৈধ অনুপ্রবেশ, রোহিঙ্গা- এসব নিয়ে আসা হলো। বিজেপি নেতাদের তাড়িয়ে দেয়ার হুমকির পরেও অবশ্য স্থানীয় রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিশেষ বিচলিত নন।

তারা বলছেন যে, তাদের সবার কাছেই জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের দিল্লি দপ্তর থেকে দেয়া বৈধ নথি রয়েছে। তাই যা সিদ্ধান্ত ভারত সরকার নেবে, সেটাই তারা মেনে চলবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
নতুন বছরের শুরু থেকে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকবে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় হাইকমিশন। হাইকমিশনের দূতাবাস প্রধান রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশটির সরকারি বিধি-নিষেধ অনুযায়ী কুয়ালালামপুরের আম্পাং শাখার পাসপোর্ট অফিসের কার্যালয় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী রোববার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত সাময়িকভাবে সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম আরও বেগবান করার মাধ্যমে প্রত্যাশীদের সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, যারা অ্যাপয়ন্টমেন্ট নিয়ে রেখেছেন তাদের নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়। এক্ষেত্রে ১০ জানুয়ারির পর কাছাকাছি সময়ে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন পুনরায় নির্ধারণ করে যথাসময়ে অবহিত করা হবে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ২ ও ৩ জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ার জহুর বারু প্রদেশে পাসপোর্ট ডেলিভারি সেবার কার্যক্রম অব্যহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এফএ
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভারতের আসাম প্রদেশে ৭০০ মাদরাসাকে স্কুলে রূপান্তর করবে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি সরকার বলছে, মসজিদের ঈমামের চেয়ে ভারতে ডাক্তার, পুলিশ, আমলা ও শিক্ষক বেশি প্রয়োজন। তাই মাদরাসার সিলেবাসকে নিম্নমানের শিক্ষা আখ্যায়িত করে স্কুলে রূপান্তরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।  এই সংক্রান্ত একটি বিল বৃহস্পতিবার আসামের আইনসভায় পাস হয়েছে। আসামের শিক্ষামন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মা প্রাদেশিক আইনসভাকে জানিয়েছেন, নতুন বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৭০০ এর অধিক মাদরাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর গার্ডিয়ান। হেমন্ত বিশ্বাসের দাবি মাদ্রাসায় পার্থিব বা বৈষয়িক কোনো বিষয় পড়ানো হয় না। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট দেশে মোদি সরকারের মুসলিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ওয়াজেদ আলী চৌধুরী নামে কংগ্রেসের একজন আইনপ্রণেতা বলেন, ‘এটা মুসলিমদের শেকড় উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত।’ এফএ
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে বেশ কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে নিজেদের তৈরি করা ভয়ংকর অত্যাধুনিক চতুর্থ প্রজন্মের  যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থানডার ব্লক-৩ প্রদর্শন করলো পাকিস্তান। গেলো বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির বিমানবাহিনীর দূরবর্তী উচ্চ রাডার প্রযুক্তি ও ফায়ারিং ক্ষমতা সম্পন্ন ১৪টি যুদ্ধবিমান পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স হস্তান্তর করা হয়। পাকিস্তানের প্রভাবশালী মিডিয়া ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মুজাহিদ আনোয়ার খান জানান, জাতীয় বহরে দেশের ইতিহাসে এটি গুরুত্বর্পূণ মাইলফলক। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনী যখন আঞ্চলিক ভূখণ্ড লঙ্ঘন করে, সেসময় জেএফ-১৭ থানডার যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।   একই সঙ্গে পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উৎপাদন ও চীনা বিমান শিল্পের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন। এম
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
মহামারি করোনা ভাইরাসকে সাথে করেই পেছনে ফেলতে হচ্ছে আরও একটি বছর। শুরু হবে নতুন বছর। ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করার জন্য বিভিন্ন রকম রীতি রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অবাক করার বিষয় হল, বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের বর্ষবরণ উদযাপনের রীতি একদমই ব্যতিক্রম। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ উদযাপনের রীতিনীতি তুলে ধরা হল নিচে- ১. কলম্বিয়ায় খালি স্যুটকেস নিয়ে বেরিয়ে পড়া: দেশটির মানুষ ঘুরতে অনেক ভালোবাসেন। তাদের কাছে ভ্রমণ এতটাই পছন্দ যে, নতুন বছর উদযাপনেও তাদের প্রত্যাশা থাকে ঘুরতে যাওয়া। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাত ১২টা বাজলে কলম্বিয়ার মানুষ একটি খালি স্যুটকেস হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। বাড়ির চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন তারা। নতুন বছরের কোনো এক সময় এই খালি স্যুটকেস পূর্ণ হবে- এ আশাতেই পালন করেন এই রীতি। ২. জাপানে প্রাকৃতিক সাজসজ্জা : জাপানে নতুন বর্ষবরণ করাকে বলা হয় ‘ওশোগাতসু’। দেশটিতে এই উৎসবটি পরিবারের সাথে উদযাপন করা হয়। সেখানে পরিবারের সবাই একসাথে ঘরকে পরিষ্কার এবং সজ্জিত করে। এরপর তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য  প্রাকৃতিক সাজসজ্জা যেমন পাইন শাখা, বরই ফুল এবং বাঁশগুলি প্রস্তুত করতে থাকে। ৩. ইকুয়েডরে বিখ্যাতদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো : ইকুয়েডরের মানুষরা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তায় বের হয়ে ‘কুশপুত্তলিকা’ পুড়িয়ে থাকে। দেশের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় এবং অভিনয়শিল্পীসহ বিখ্যাত সকল ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়। আগামী বছর এ উদযাপন ভাগ্য ফেরাবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৪. চীনে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা : দেশটিতে নতুন বছরে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা হয়ে থাকে। দেশটিতে লাল রঙকে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। আর এভাবেই দেশটিতে বরণ করা হয় নতুন বছর। ৫. জার্মানিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয় সিসার টুকরায় : জার্মানিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য বছরের শেষ মুহূর্তে সবাই ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় মেতে উঠেন। ভাগ্য পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটিও ব্যতিক্রম। শুরুতে সিসার টুকরা গরম করে গলিয়ে তাতে পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করা হয়। পরে সিসার আকৃতি অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস জার্মানদের। সিসা হৃদয়ের মত হলে ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর মুকুটের মত হলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবেন- এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা। ৬. সুইজারল্যান্ডে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রাখা : দেশটির মানুষজনের নতুন বছর উদযাপন এক অদ্ভুত সাংস্কৃতির। তারা নতুন বছর উপলক্ষে না খেয়ে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রেখে দেয় এবং তাদের বিশ্বাস নতুন বছরে ঐশ্বর্য আসবে। ৭. লাতিন আমেরিকায় অন্তর্বাসের রঙের ওপর ভাগ্য নির্ধারণ : লাতিন আমেরিকার দেশ অর্থাৎ মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া ইত্যাদি দেশগুলোয় বছরের শেষ মুহূর্তে নতুন অন্তর্বাস কেনার জন্য সবাই মার্কেটে ভিড় জমায়। তাদের বিশ্বাস, বর্ষ বরণে নতুন অন্তর্বাস পড়নে থাকলে নতুন বছরে ভালো কিছু আসবে। তবে এই অন্তর্বাসের জন্য নির্দিষ্ট দুটি রঙও রয়েছে- লাল ও হলুদ রঙ। লাল পড়লে ভালোবাসা পাবে এবং হলুদ বয়ে আনবে সফলতা। ৮. ফিলিপাইনে অদ্ভুত খাবার খাওয়া : ফিলিপাইনে নতুন বর্ষবরণে সকল বয়সী মানুষ গোলাকার খাবার খায়। এছাড়াও তারা এদিন পকেটে মুদ্রা রাখে এবং প্রচুর পোশাক পড়েন। গোলাকার আকৃতি মূলত নতুন বছরে আর্থিক উৎসাহ বৃদ্ধি করবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৯. ইতালিতে ঘরের আসবাব ছুড়ে ফেলা: ইতালিতে নববর্ষে দেশটির নেপলস শহরবাসীরা উদ্ভটভাবে নতুন বর্ষকে বরণ করেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, তারা বছরের শেষ দিন ঘরের আসবাব, রান্নাঘরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলেন। পুরাতন সব কিছু ফেলে দিয়ে নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার প্রতীকী অর্থে এসব করেন ওই শহরের বাসিন্দারা। ১০. স্পেনে আঙুর খেয়ে বর্ষবরণ: স্পেনের নাগরিকদের বর্ষবরণ বলা যেতে পারে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ১২টি করে আঙুর খেয়ে থাকেন স্প্যানিশরা। নতুন বছরে উন্নতি হবে এমন আশায় নির্দিষ্ট-সংখ্যক আঙুর খাওয়ার রীতি পালন করে থাকেন তারা। ১৯০৯ সাল থেকে দেশটির আলিকান্তে শহরের ওয়াইন প্রস্তুতকারীরা ব্যতিক্রমী এই রীতি চালু করেন। যা এখনো প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে। এসআর/এমকে
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় রয়েছেন করোনা ভ্যাকসিনের টিকা প্রস্তুতকারী ফার্ম ও বোতলজাত পানি ব্যবসায়ী ঝং শানশান। ই–কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মাকে পেছনে ফেলেছে। ২০২০ সালেই ঝংয়ের সম্পদ বেড়েছে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। ঝং শানশানের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৭ হাজার ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার। সূত্র বিবিসি ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় ঝং শানশান। যিনি বিশ্বের ১১তম শীর্ষ ধনী। ঝং পরিচিত বেশি লোন উলফ নামে। ঝংয়ের কর্মজীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। সাংবাদিকতা, মাশরুমের চাষ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করেছেন তিনি। এপ্রিলে ভ্যাকসিন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনার তিন মাস পর হংকংয়ের শেয়ারবাজারে আনেন তার বোতলজাত পানির প্রতিষ্ঠান নোংফু স্প্রিংকে। ১৯৯৬ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশে এটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে নোংফুর শেয়ার। বেইজিং ওয়ানটাই বায়োলজিক্যালের শেয়ার বেড়েছে দুই হাজার শতাংশের বেশি। করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো এটি। ৬৬ বছর বয়সী ঝং শানশান সেপ্টেম্বরে জ্যাক মাকে সরিয়ে চীনের শীর্ষ ধনীর অবস্থান নেন। এবার মুকেশ আম্বানিকে সরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন। এফএ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
আরও পড়ুন
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় স্ত্রীকে ডিভোর্সের নোটিশ বিজেপি এমপির!
তিন বিজেপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা, থমথমে কাশ্মীর
ফেসবুক ছাড়লেন বিজেপি নিয়ে বিতর্কে জড়ানো আঁখি দাস