
অল্পের জন্য ব্রিটিশ সাময়িকী দি ইকোনোমিস্টের ‘বর্ষসেরা দেশ’ নির্বাচিত হতে পারল না বাংলাদেশ। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার কারণে ওই তালিকায় মনোনয়ন পায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ক্রমাগত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্যের হার কমে যাওয়াটাও মনোনয়নের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে লন্ডনভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনটি।
তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ‘বর্ষসেরা দেশ’ হিসেবে বেছে নেয়নি দি ইকোনোমিস্ট। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, নাগরিকদের স্বাধীনতা খর্ব ও প্রকাশ্যে ইসলামী উগ্রপন্থীদের আতঙ্ক ছড়ানোর সুযোগ দেয়ার কারণে ‘বর্ষসেরা দেশ’ হতে পারেনি বাংলাদেশ।
চলতি বছর ‘বর্ষসেরা দেশ’ হয়েছে ফ্রান্স। ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অভূতপূর্ব বিজয়কে বিবেচনায় রেখে তাদের সেরা ঘোষণা করা হয়।
দি ইকোনোমিস্ট বলছে, একটি সমাজের মুক্ত ও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে যুদ্ধটাই এখন সারাবিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। ফ্রান্স সেই জায়গায় একটা সেতু তৈরি করে বিরোধ মিটিয়েছে। তাই সেরার মুকুট মিলেছে ফ্রান্সেরই।
যদিও শেষ পর্যন্ত সেরা নির্বাচিত হওয়ার তালিকায় আলোচনা চলে আর্জেন্টিনা, সাউথ কোরিয়া ও ফ্রান্সকে নিয়ে।
এদিকে ২০১৫ সালের সেরা দেশ নির্বাচনের সিদ্ধান্তও ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছে ম্যাগাজিনটি। ওই সময় মিয়ানমারকে ‘বর্ষসেরা দেশ’ ঘোষণা করা হয়। ওই বছরই স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের উত্তরণ শুরু করার কারণে মিয়ানমারকে বর্ষসেরা নির্বাচিত করা হয়।
দি ইকোনোমিস্ট বলছে, রোহিঙ্গা নৃগোষ্ঠীর প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে তা মর্যাদাহানিকর। এটা দ্রুতই কতটা খারাপ হয়ে উঠবে, সেটা তারা অনুধাবন করতে পারছে না। গত ২৫ আগস্ট থেকে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা সেনাবাহিনীর নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।
২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর এই পুরস্কার ঘোষণা করে আসছে দি ইকোনোমিস্ট। বছরজুড়ে যেসব দেশ উল্লেখ করার পরিবর্তন এনেছে এবং বিশ্ব আলোকিত করেছে সেসব দেশকেই বর্ষসেরা নির্বাচিত করা হয়।
এ/কে




