ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যে দশ কারণে ট্রাম্প বা হ্যারিস জিততে পারেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:২৪ এএম
ফাইল ছবি

শুধু মার্কিনীদেরই নয়, গোটা বিশ্বের রাজনীতি, নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ভাগ্য অনেকাংশে নির্ভর করেবে যুক্তরাষ্ট্রের আজকের নির্বাচনের ওপর। তাইতো বিশ্ববাসীর নজর এখন যুক্তরাজ্যের দিকে। জনমত জরিপগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের মধ্যে ব্যবধান যৎসামান্য। তাই ধারণা করা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প বা কমলা হ্যারিস— যেই জিতুক না কেন, খুব অল্প ভোটের হেরফের হবে।

ঠিক কী কী কারণে হ্যারিস বা ট্রাম্প জিততে পারেন এমন দশটি কারণ বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি।

নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হলে তিনি হবেন ১৩০ বছরের মধ্যে প্রথম সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি আগে একবার পরাজিত হয়েছেন। এমন ইতিহাস সৃষ্টির সম্ভাবনা দিয়ে ট্রাম্পের জয়ের পাঁচটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে।

১. তিনি ক্ষমতায় নেই

এবারের ভোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অর্থনীতি। যেখানে দেখানো হচ্ছে, বেকারত্ব কম এবং স্টক মার্কেট ফুলে ফেঁপে উঠছে, সেখানে বেশির ভাগ আমেরিকান বলেছেন, তারা প্রতিদিন উচ্চমূল্যের সঙ্গে লড়াই করছেন। করোনাভাইরাস মহামারি পরবর্তী সময়ে মুদ্রাস্ফীতি সত্তরের দশকের পর থেকে এমন উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় এটাই ছিল ট্রাম্পের প্রধান ‘ট্রাম্প কার্ড’। মুদ্রাস্ফীতিই ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করার সুযোগ দিয়েছে, ‘আপনি কি চার বছর আগের চেয়ে এখন ভালো আছেন?’

২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ভোটাররা বেশ কয়েকবার ক্ষমতায় থাকা দলকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে করোনা-পরবর্তী জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে। মার্কিন ভোটাররাও পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে। মাত্র এক-চতুর্থাংশ আমেরিকান বলেছেন, তাঁরা দেশটি যে দিকে যাচ্ছে তাতে সন্তুষ্ট।

কমলা হ্যারিস তথাকথিত পরিবর্তনের প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে অজনপ্রিয় জো বাইডেনের কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে তিনি লড়াই করছেন।

২. দুঃসময়েও ট্রাম্পের অবিচল ভাবমূর্তি

২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ইউএস ক্যাপিটলে দাঙ্গা, একের পর এক অভিযোগ ও ফৌজদারি অপরাধে নজিরবিহীনভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও ট্রাম্পের সমর্থন সারা বছর ৪০ শতাংশ বা তারও বেশি স্থিতিশীল থেকেছে।

ডেমোক্র্যাট ও ‘নেভার-ট্রাম্প’ শিবিরের আন্দোলনকারীরা বলছেন, তিনি হোয়াইট হাউসের জন্য অযোগ্য। আর বেশির ভাগ রিপাবলিকানই ট্রাম্পের সঙ্গে একমত যে, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। দুই পক্ষেরই এই ধারণা এত বদ্ধমূল যে, ট্রাম্পের এখন দরকার সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সেই অংশের যথেষ্ট সমর্থন পাওয়া যাদের তাঁর সম্পর্কে এমন কোনো বদ্ধমূল ধারণা বা দৃষ্টিভঙ্গি নেই।

৩. অবৈধ অভিবাসন ইস্যু

অর্থনৈতিক অবস্থার বাইরেও আবেগ বা দুর্বলতা থেকেও প্রায় ক্ষেত্রে নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে দেন ভোটাররা। ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাশা, অভিবাসন ইস্যু হয়তো আর কাজে দেবে না। আর ট্রাম্প বাজি ধরে বলছেন, অভিবাসন সমস্যার সমাধানের জন্যই তাঁকে আবার ক্ষমতায় আসকে হবে।

বাইডেনের শাসনামলে সীমান্তে বিনা-বিচারে হত্যার সংখ্যা রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। সীমান্ত থেকে দূরের রাজ্যগুলোতে অভিবাসনের সংখ্যাও প্রভাব ফেলেছে। এর প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ভোটাররা অভিবাসনের বিষয়ে ট্রাম্পের ওপর বেশি আস্থা রাখছেন। ল্যাটিনোদের মধ্যেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আগেরবারের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

৪. কৃষ্ণাঙ্গ ও হিসপানিক পুরুষদের সমর্থন

ডেমোক্র্যাটরা দীর্ঘদিন ধরেই হিসপানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের বেশি সমর্থন পেয়ে এসেছে। তবে এবার হাওয়া বদলেছে। শেষ সময়ের পরিচালিত জরিপগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প হিসপানিক পুরুষ এবং কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন বেশি পাচ্ছেন।

রয়টার্স/ইপসোস পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, আগের চেয়ে অনেক বেশি হিসপানিক পুরুষদের সমর্থন পাচ্ছেন ট্রাম্প। নিউ জার্সির হিসপ্যানিক এক ভোটার বলেছেন, তিনি ব্যবসায়ী হিসাবে ট্রাম্পের পেশাকে শ্রদ্ধা করেন এবং তাঁকেই ভোট দেবেন বলে স্থির করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে হিসপ্যানিক ভোটারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ১৯৭০-এর দশক থেকেই হিসপ্যানিক ভোটাররা বেশির ভাগ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের অনেক বেশি সমর্থন দিয়ে এসেছে। অথচ এ বছরের নির্বাচনে তাদেরই উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প।

৫. বিশ্বে শান্তির জন্য ট্রাম্পের ওপর আস্থা

ট্রাম্পের সমালোচকদের কথায়, তিনি কর্তৃত্ববাদী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে আমেরিকার জোটকে দুর্বল করছেন। তবে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট নীতি-নির্ধারণে চমক দেখানোর বৈশিষ্ট্যকে নিজের শক্তি মনে করেন। এবারের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প এও উল্লেখ করেছেন, তিনি হোয়াইট হাউসে থাকাকালে কোনো বড় যুদ্ধ শুরু হয়নি।

অন্যদিকে, দেশটির ইতিহাসে এবারই প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত কোনো নারী প্রার্থীর মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। তিনি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস হবে। প্রথম কোন নারী প্রেসিডেন্ট পাবে দেশটি। তার জয়ের জন্য যেসব কারণ উল্লেখ করেছে বিবিসি:

১. তিনি ট্রাম্প নন

ট্রাম্প বিভিন্ন দিক থেকে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও তিনি আমেরিকার রাজনীতিতে মেরুকরণকারী ব্যক্তি হিসাবে রয়ে গেছেন। ২০২০ সালে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে রেকর্ড সংখ্যক ভোট জিতেছিলেন। কিন্তু পরাজিত হয়েছিলেন কারণ আরও ৭০ লাখ আমেরিকান বাইডেনকে সমর্থন করেছিলেন।

এবার হ্যারিস ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তিনি তাঁকে ‘ফ্যাসিবাদী’ ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের নাটকীয় কীর্তিকলাপ ও সংঘাতের পথ থেকে সরে তিনি ভিন্ন পথে চলার অঙ্গীকার করেছেন।

জুলাইয়ে রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন মার্কিনির মধ্যে চারজন মনে করেন দেশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কমলা হ্যারিস আশা করছেন, স্থিতিশীলতা ফেরাতে ভোটাররা, বিশেষ করে মধ্যপন্থী রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্ররা তাঁকে সম্ভাবনাময় একজন প্রার্থী হিসেবে দেখবে।

২. তিনি বাইডেনও নন

মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে পৌঢ় বাইডেন ট্রাম্পের কাছে ধরাশায়ী হলে ডেমোক্র্যাটরা এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতার মাঠ থেকে প্রায় ছিটকে পড়েছিল। এমন সময় ডেমোক্রেটদের কর্ণধার হন কমলা। তিনি আসার পর রিপাবলিকানরা মনে করেছিলেন, বাইডেনের অজনপ্রিয় নীতিই আওড়াবেন কমলা। তবে কমলা সেই ভুল ভেঙে দিয়েছেন নির্বাচনী প্রচারে।

ট্রাম্পকে পরাজিত করতে এককাট্টা হয়ে দলটি দ্রুত কমলাকে নিয়ে প্রচার চালিয়েছে ও বেশ সাঁড়া ফেলেছে। বাইডেনের বয়স নিয়ে বিতর্ক ছিল, যেটা কমলার নেই। এখন নির্বাচনী মাঠ উল্টে গেছে। এ দৌড়ে এখন ট্রাম্পই সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি।

৩. তিনি নারী অধিকারের চ্যাম্পিয়ন

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রো ভি ওয়েড ও গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করার পর এটিই প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। গর্ভপাতের অধিকার রক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটাররা জোরালোভাবে কমলাকে সমর্থন করছেন। অতীতের নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, বিশেষত ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন— মার্কিন নির্বাচনে গর্ভপাত অন্যতম প্রধান ইস্যু ও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

এবার দোদুল্যমান রাজ্য অ্যারিজোনাসহ ১০টি রাজ্যে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে গর্ভপাতের অধিকার পুনর্বহালের বিষয়ে। এতে বেশির ভাগ ভোটারই নারীর গর্ভাপাতের পক্ষে মত দিয়েছেন। ফলে কমলা এসব ভোটার নিজের ব্যালটে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া নির্বাচিত হলে তিনি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। ফলেস তিনি নারী ভোটারদেরও টানবেন নিজের ব্যালটে।

৪. তার ভোটার উপস্থিতি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা

কমলা হ্যারিসকে বেশি ভোট দেবেন তরুণ কলেজে পড়ুয়ারা ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনার জরিপে দেখা গেছে, ২০২০ সালে যারা নিবন্ধিত ছিলেন কিন্তু ভোট দেননি তাদের মধ্যে ট্রাম্প বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এবার তারা হাজির হবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

৫. নির্বাচনের জন্য বিপুল অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়

এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে, আমেরিকার নির্বাচন ব্যয়বহুল ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল হওয়ার পথে রয়েছে। এবার খরচ করার ক্ষেত্রে শীর্ষে কমলা।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুসারে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে পুরো সময়কালে ট্রাম্প যতটা তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছেন হ্যারিস জুলাইয়ে প্রার্থী হওয়ার পর থেকে তার চেয়ে অনেক বেশি তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। একইভাবে নির্বাচনী প্রচার এবং বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পের চেয়ে দ্বিগুণ খরচও করেছেন হ্যারিস। তার এই খরচই কাজে আসতে পারে দোদুল্যমান রাজ্যগুলোর ভোটার দলে টানতে। বিজ্ঞাপনের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে সেখানে হ্যারিসের পক্ষে ভোট দিতে পারেন ভোটাররা।

আরটিভি/এসএপি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দেশটির সিউল ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্তের দায়িত্বে থাকা দ্য করাপশন ইনভেস্টিগেশন অফিস ফর দ্য হাই-র‌্যাঙ্কিং অফিশিয়ালস (সিআইও) নিশ্চিত করেছে, সামরিক আইন জারিকে কেন্দ্র করে তদন্তকারীদের অনুরোধে প্রেসিডেন্ট ইউনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে সিউল ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট।   স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো।   প্রসঙ্গত, ৩ ডিসেম্বর দেশে সামরিক আইন জারি করেছিলেন ইউন। কিন্তু জনগণ এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানালে সামরিক আইন জারির ছয় ঘণ্টার মাথায় তা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। এর জেরে ১৪ ডিসেম্বর পার্লামেন্টে তিনি অভিশংসিত হন। তাকে বরখাস্ত করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
ভারতীয় ভিসা বন্ধে ভ্রমণ খাতে বিরূপ প্রভাব 
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা বন্ধের জেরে যশোরের বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে দুই দেশের মধ্যে একেবারে কমেছে পাসপোর্টধারী যাত্রীর চলাচল। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে উভয় দেশের ভ্রমণ খাতে। বাংলাদেশের ক্ষতির পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে অচলাবস্থা নেমে এসেছে।   সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে ভারতে গেছেন ১৪৭১ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী। এর মধ্যে বাংলাদেশি ছিলেন ১ হাজার ১৯৪ জন, ভারতীয় ২৭৪, জাপানের ২ ও একজন নেপালের পাসপোর্টধারী ছিলেন। এছাড়া খুলনা-কলকাতা রুটে ‘বন্ধন’ রেলে যাত্রীসেবা এখনও বন্ধ থাকায় নিরাপদ যাতায়াতে বেড়েছে ভোগান্তি। তবে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভিসা সীমিত ও দু’দেশের মধ্যে রেলপথে যাত্রী সেবা বন্ধ করে দেয় ভারত।   সূত্রমতে, যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ যান চিকিৎসা ও দর্শনীয় স্থান ভ্রমণে। অন্যদিকে, যেসব ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে আসেন, তাদের একটি বড় অংশ আসেন কম খরচে মেডিকেল শিক্ষার জন্য। বর্তমানে দেশের ১০৮টি মেডিকেল কলেজে ১০ হাজারের বেশি বিদেশি অধ্যয়নরত, যাদের বেশিরভাগ ভারতীয়। এছাড়া ট্যুরিস্ট ও ওয়ার্ক ভিসায় দেশে প্রায় ১০ লাখের মতো ভারতীয় চাকরি করছেন।  বাংলাদেশ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলেও নানান অজুহাত দেখিয়ে এখনও স্বাভাবিক ভিসা প্রদান ও রেল পথে বেনাপোল-পেট্রাপোল হয়ে যাত্রী সেবা বন্ধ রেখেছে ভারত সরকার। এতে একদিকে ভিসা না পেয়ে যাত্রী যাতায়াত যেমন কমে এসেছে, তেমনি স্বাভাবিক সময়ে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর ব্যবহার করে দুদেশের মধ্যে ৮ থেকে ১০ হাজার পাসপোর্টধারী যাতায়াত করলেও এখন তা কমে দেড় হাজারের ঘরে নেমেছে।  সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রে দুই দেশেই ক্ষতির শিকার হচ্ছে। কেবল বেনাপোল রুটে ভ্রমণ খাতে ভিসা ফি বাবদ বাংলাদেশিদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় করে থাকে ভারতীয় দূতাবাস। তবে এখনও ‘বন্ধন’ রেল পরিষেবা বন্ধ থাকায় এ পথে যাতায়াতকারী পাসপোর্টধারীদের ভোগান্তি বেড়েছে।  বিষয়টি নিশ্চিত করে বেনাপোল স্থলবন্দর প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ইনচার্জ আব্দুল হাফিজ জানিয়েছেন, ভিসা স্বাভাবিক না থাকায় যাত্রী একেবারে কমে এসেছে। আরটিভি/কেএইচ
ভারতীয় ভিসা বন্ধে ভ্রমণ খাতে বিরূপ প্রভাব 
হাসপাতালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার (২৯ ডিসেম্বর) তার প্রস্টেট অপসারণের অস্ত্রপচার হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অস্ত্রপচার সফল হয়েছে এবং তিনি ভালো আছেন। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের হাদাসাহ মেডিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জ্ঞান ফিরেছে, তিনি ভালো আছেন। শনিবার নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক ঘোষণায় জানিয়েছে যে, তিনি মূত্রনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। গত মার্চে নেতানিয়াহুর হার্নিয়ার অস্ত্রপচার হয়েছিল। এর আগে, গত ২৩ ডিসেম্বর দুর্নীতি মামলায় নিজের বক্তব্য পেশ করতে আদালতে হাজির হয়েছিলেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন অবস্থায় ফৌজদারি অপরাধের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করছেন তিনি। এদিকে গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫ হাজার ৫১৪ জনে পৌঁছেছে বলে রোববার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। চলমান এই হামলায় আরও অন্তত এক লাখ ৮ হাজার ১৮৯ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ৩০ জন নিহত এবং আরও ৯৯ জন আহত হয়েছেন।   আরটিভি/এস
হাসপাতালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ৩০ জন নিহত এবং আরও ৯৯ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন। গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত এক লাখ ৮ হাজার ১৮৯ জন। এ ছাড়া দখলদারদের হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। উল্লেখ্য, ইসরায়েল ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। আরটিভি/আরএ
ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। স্থানীয় সময় রোববার (২৯ ডিসেম্বর) জিমি কার্টার সেন্টার এক বিবৃতি এই তথ্য জানিয়েছে। খবর এনবিসি নিউজের। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন কার্টার। কার্টার এক মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জর্জিয়ায় নিজ শহর প্লেইনসে জীবনের শেষ সময়ের সেবাযত্নে ছিলেন। এনবিসি নিউজের তথ্যমতে, জিমি কার্টারই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি তার ১০০তম জন্মদিনে পৌঁছেছিলেন।  যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচা প্রেসিডেন্ট কার্টার। ২০০২ সালে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন তিনি। কার্টারের যাত্রা শুরু হয়েছিল জর্জিয়ার প্লেইন্সের ছোট্ট শহরে। তিনি সেখানে ১ অক্টোবর, ১৯২৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে একজন অফিসার হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের পারমাণবিক সাবমেরিন বহরের উন্নয়নে সহায়তা করেছিলেন। নৌবাহিনীতে একজন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পরকার্টার পারিবারিক চিনাবাদাম চাষের ব্যবসা চালানোর জন্য ১৯৫৩ সালে তার নিজ শহরে ফিরে আসেন। তিনি ১৯৬০-এর দশকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত রাজ্যের ৭৬তম গভর্নর হওয়ার আগে জর্জিয়ার বিধায়ক হিসাবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্টার, একজন ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান ক্ষমতাসীন জেরাল্ড ফোর্ডের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যিনি ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে রিচার্ড নিক্সন পদত্যাগ করার পরে রাষ্ট্রপতির পদে অভিষিক্ত হন। কার্টার ফোর্ডকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট হন। আরটিভি/একে
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন
আরও পড়ুন
বিপিএলের প্রথম দিনের র‍্যাফেল ড্র বিজয়ী হৃদয়
বরিশালের কাছে হেরে যে আক্ষেপে পুড়ছেন বিজয়
আতশবাজি-ফানুস উৎসব নিয়ে যে বার্তা দিলেন জয়া
সিলেটে একটি কমলা বিক্রি হলো ২ লাখ টাকায়