
ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় ‘অড’ অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ৭৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রিবোত গ্রামের কাছে শুরু হওয়া আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে প্যারিস শহরের আয়তনের চেয়েও বড় এলাকায়, এখন পর্যন্ত পুড়ে গেছে অন্তত ১৭ হাজার হেক্টর (৪২ হাজার একর) বন ও বসতি এলাকা।
আগুনে এখন পর্যন্ত একজন নারী মারা গেছেন এবং ১১ জন দমকলকর্মীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দাবানল মোকাবেলায় দুই হাজারেরও বেশি দমকলকর্মী ও সেনাসদস্য মাঠে আছেন। ৫০০টিরও বেশি অগ্নিনির্বাপক যানবাহন ও পানিবাহী বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে।
যদিও আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবুও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন ধরে তা জ্বলতে থাকবে। বনাঞ্চলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। ১৭টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, বাসিন্দাদের বাড়ি ফিরতে নিষেধ করা হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরু একে “অভূতপূর্ব দুর্যোগ” হিসেবে বর্ণনা করে জলবায়ু পরিবর্তন ও খরাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পরিবেশমন্ত্রী আগনেস পানিয়ে-রুনাশেও একই মত প্রকাশ করেছেন। তীব্র বাতাস, শুকনো গাছপালা ও প্রচণ্ড গরম দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করেছে বলে জানানো হয়েছে।
জোনকিয়ের গ্রামে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন গ্রামটির মেয়র জ্যাক পিরো। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, “রাষ্ট্রের সব সম্পদ এই দুর্যোগ মোকাবেলায় নিয়োজিত রয়েছে” এবং সবাইকে “চূড়ান্ত সতর্কতা” মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরটিভি/এসকে




