
খুবই জরুরি সময়ে ঢুকলেন টয়লেটে, আর দেখলেন টয়লেট পেপার নিতে গেলেই সামনে ভেসে উঠছে একটা কিউআর কোড! মানে, টয়লেট পেপার পেতে হলে আগে দেখতে হবে ছোট্ট একটি বিজ্ঞাপন। এর জন্য প্রথমে স্ক্যান করতে হবে সেই কিউআর কোড তারপরই মিলবে স্বস্তি! শুনে অবাক লাগছে নিশ্চয়ই। কিন্তু না, চীনের কিছু পাবলিক টয়লেটে সম্প্রতি চালু হয়েছে এমনই নতুন নিয়ম। তবে কেউ যদি বিজ্ঞাপন দেখতে না চান, তাহলে দিতে হবে দশমিক পাঁচ রেনমিনবি—মানে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় পাঁচ থেকে ছয় টাকা।
দ্য স্ট্রেইটস টাইমস, এনডিটিভিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ভাইরাল সেই ভিডিওতে দেখা যায়, কেউ কেউ নিয়ম মেনে স্ক্যান করে, বিজ্ঞাপন দেখছেন, তারপর নিচ্ছেন নির্দিষ্ট পরিমাণ টিস্যু। কিন্তু যাদের তাড়া রয়েছে, তারা বিজ্ঞাপন এড়িয়ে সরাসরি টাকা দিয়েই নিচ্ছেন পেপার।
কি বুঝলেন, তাহলে এখন আর বিনা পয়সায় ইচ্ছে মতো ব্যবহার করা যাবে না টয়লেট পেপার। এরজন্য গুণতে হবে অর্থ, নয়তো দেখতে হবে বিজ্ঞাপন। কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, এই নিয়মের উদ্দেশ্য একটাই অপচয় রোধ করা। অনেকেই অকারণে বেশি টিস্যু নিয়ে নষ্ট করেন, তাই চালু করা হয়েছে এই ‘ডিজিটাল টয়লেট সিস্টেম’।
কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বলছেন, ‘টয়লেটে ঢুকে বিজ্ঞাপন দেখা কি সত্যিই জরুরি?’
সমালোচকেরা বলছেন, ভাবনাটা যতই আধুনিক শোনাক, বাস্তবে এমন নিয়ম জরুরি মুহূর্তে অনেকের কাছেই হয়ে উঠছে ঝামেলার।
আসলে চীনে পাবলিক টয়লেট নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ২০১৭ সালে বেইজিংয়ের টেম্পল অব হেভেনে চালু হয়েছিল মুখ চিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ টিস্যু দেওয়ার সিস্টেম, এমনকি একজন মানুষ নয় মিনিটের আগে নিতে পারতেন না দ্বিতীয়বার টিস্যু। এরপর নানজিং ও চংকিং শহরের টয়লেটগুলোতেও দেখা গিয়েছিল কিউআর কোড স্ক্যান করে টিস্যু পাওয়ার প্রযুক্তি।
এখন সেই ধারাবাহিকতারই নতুন সংস্করণ এই বিজ্ঞাপন-ভিত্তিক সিস্টেম। যেখানে কর্তৃপক্ষ চাইছেন টিস্যু বাঁচাতে; অন্যদিকে নাগরিকরা ভাবছেন, বিজ্ঞাপন দেখে অন্তত একটু দরকারি কাজ সারতে।
আরটিভি/এআর




