
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের জন্য সুপরিচিত ব্রিটিশ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার সামি হামদিকে সম্প্রতি আটক করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। পাশাপাশি তার ভিসাটিও বাতিল করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশটির বিরুদ্ধে বাকস্বাধীনতার লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠস্বর দমনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি-এর মুখপাত্র ট্রিশিয়া ম্যাকলফলিন এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ ঘোষণা করেছেন, সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইসিই কর্মকর্তারা হামদি-কে আটক করে এবং তার ভিসা বাতিল করা হয়। তাকে এখন আইসিই হেফাজতে রেখে দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।
ম্যাকলফলিন আরও বলেন , প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করে এবং আমেরিকার জাতীয় সুরক্ষার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এমন বিদেশিদের এই দেশে কাজ করতে বা সফর করতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সি(সিএআইআর) এই আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা-র বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণেই হামদি-কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সিএআইআর অভিযোগ করেছে, চরমপন্থী ইসরায়েল ফার্স্ট সমর্থক গোষ্ঠীর প্ররোচনায় সরকার এই সমালোচককে আটক করেছে।
সিএআইআর-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্য একটি দেশের সমালোচনা করার অপরাধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে সফররত একজন ব্রিটিশ নাগরিককে অপহরণ করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর সুস্পষ্ট আঘাত। হামদি এর আগে সিএআইআর স্যাক্রামেন্টোর বার্ষিক গালা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছিলেন এবং ফ্লোরিডাতেও তার একটি বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল।
যদিও স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ডিএইচএস হামদির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের সমর্থনের অভিযোগ এনে তার ভিসার বৈধতা বাতিল করেছে, তবে বিবিসি’র কাছে তাদের এই দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি সংস্থাগুলি।
হামদির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ফিলিস্তিনি অ্যাক্টিভিস্ট লায়লা এল-হাদ্দাদ জানান, অতীতে একাধিকবার বৈধ ভিসা নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন এবং তার একমাত্র অপরাধ হল মুখ খোলা।
ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী লরা লুমারের মতো ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠদের পক্ষ থেকে হামদির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সমর্থনের অভিযোগ তুলে এক্স-এ পোস্ট করার পরই এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের সমালোচনাকারী বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করেছে বা গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছে, যার মধ্যে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফিলিস্তিনপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট মাহমুদ খলিলের ঘটনাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস জানিয়েছে, তারা হামদির পরিবার এবং স্থানীয় মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তারা মন্তব্য করেছে, মার্কিন নীতি একান্তই যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বিষয়।
আরটিভি/এআর




