
চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক ঘিরে চলা অনিশ্চয়তার অবসান হতে যাচ্ছে। ডেটা নিরাপত্তা ও চীনা মালিকানার কারণে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম চালু রাখার পথ তৈরি করেছে জনপ্রিয় এই ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ।
চীনা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কার্যক্রমের একটি বড় অংশ হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত সপ্তাহে একদল মার্কিন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য TikTok USDS Joint Venture LLC নামে একটি নতুন যৌথ প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানই অ্যাপটির দৈনন্দিন পরিচালনা, ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষা, অ্যালগরিদম তদারকি ও কনটেন্ট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।
নতুন বিনিয়োগকারী দলে রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকল, প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম সিলভার লেক এবং বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এমজিএক্স। তাদের সম্মিলিত মালিকানা হবে ৪৫ শতাংশ। বাইটড্যান্সের হাতে থাকবে প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার, আর বাকি অংশ থাকবে অন্যান্য অংশীদারদের কাছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বরাতে জানা গেছে, টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র অংশের বাজারমূল্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার। নতুন প্রতিষ্ঠানটি অ্যালগরিদম নিরাপত্তা, সফটওয়্যার যাচাই এবং জাতীয় নিরাপত্তা–সংক্রান্ত শর্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
চুক্তি অনুযায়ী, বাইটড্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের কোনো ডেটায় প্রবেশ করতে পারবে না এবং অ্যালগরিদম পরিচালনায় তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আলাদা একটি অ্যালগরিদম তৈরি করা হবে, যেখানে বাইটড্যান্সের সম্পৃক্ততা থাকবে না।
ওরাকল এই উদ্যোগে প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত অডিট পরিচালনা করবে এবং চুক্তির শর্তগুলো মানা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করবে।
বাইটড্যান্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের আইন মেনে চলবে এবং মার্কিন ব্যবহারকারীদের জন্য টিকটক চালু রাখবে। চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ধরা হয়েছে ২২ জানুয়ারি ২০২৬।
এদিকে ব্লুমবার্গ জানায়, চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ব্যবহৃত টিকটক অ্যাপটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ব্যবহারকারীদের নতুন একটি প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর করা হতে পারে। তবে নতুন অ্যাপটির ফিচার বা কাঠামো সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্কের জটিল বাস্তবতাও নতুন করে সামনে আনবে।
আরটিভি/এসকে




