
ইসরায়েলে বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতে যোগদানের আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে জেরুজালেমে কয়েক লাখ অতি রক্ষণশীল ইহুদি, বা আলট্রা-অর্থোডক্স, রাস্তায় নেমে এসেছেন। এই বিক্ষোভ ডেমোনেস্ট্রেশন অব দ্য মিলিয়ন নামে পরিচিতি পেয়েছে। সাদা টুপি, কালো কোট এবং হাতে তোরাহ নিয়ে এই গোষ্ঠীর সদস্যরা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন—আমরা সৈনিক নই, আমরা প্রার্থনাকারী। খবরটি প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই।
ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই আলট্রা-অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক বিদ্যমান। যদিও ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়ন এই ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সেনা পরিষেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন, কিন্তু সেটি কখনোই পুরোপুরি আইনে পরিণত হয়নি। সম্প্রতি সামরিক পুলিশ সেনা যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানো কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করার পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ নিউজের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক নতুন কমিটির চেয়ারম্যান বোয়াজ বিসমুথ একটি নতুন খসড়া আইন প্রস্তুত করতেই এই বিতর্ক আবারও তীব্র হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২০ বছর বয়সী তরুণ ইয়েহুদা হির্শ বলেন, আজ সব আলট্রা-অর্থোডক্স গোষ্ঠী একত্র হয়েছে। কোনো পরিস্থিতিতেই সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন না তাঁরা।
তিনি উল্লেখ করেন, তারা হামাস বা ইসরায়েলি সেনাবাহিনী—কোনোটিতেই যোগ দেবেন না, কারণ তারা নিজেদের প্রার্থনাকারী মনে করেন।
চাবাদ নামের এক গোষ্ঠীর র্যাবাইরা এই সমাবেশের ডাক দেন। জেরুজালেমের পথে তখন মানুষের ঢল নামে। পুলিশের বাধা এবং রাস্তায় ব্যারিকেড সত্ত্বেও ভিড় থামেনি। বিক্ষোভকারীরা এটিকে বিশ্বাস বনাম কর্তব্য এবং আত্মা বনাম রাষ্ট্র এর লড়াই হিসেবে দেখছেন। অনেকে এই নতুন খসড়া আইনকে কোনো প্রকৃত সমাধান না বলে কেবল রাজনৈতিক আপস বলে মনে করছেন।
আরটিভি/এআর




