
ক্যান্সারে আক্রান্ত মুমূর্ষু শিশুদের জীবন বাঁচানোর কথা বলে বিশ্বজুড়ে অনলাইনে সংগৃহীত তহবিলের অর্থ নিয়ে চলছে ভয়াবহ জালিয়াতি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, অসুস্থ শিশুদের আবেগঘন ভিডিও প্রচার করে কোটি কোটি টাকা তোলা হলেও তার সিংহভাগই ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে পরিবারগুলো জানতই না যে তাদের সন্তানদের ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে আন্তর্জাতিকভাবে অর্থ সংগ্রহের এই রমরমা ব্যবসা চলছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, ৩ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের এই ক্যাম্পেইনের জন্য বেছে নেওয়া হতো। ফিলিপাইনের ৭ বছর বয়সী শিশু খলিলের মা আলজিন তাবাসা জানান, তার ছেলেকে ন্যাড়া করে এবং কৃত্রিমভাবে কাঁদিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, এই ভিডিওর মাধ্যমে খলিলের ক্যান্সারের চিকিৎসার ব্যয় মেটানো হবে। অথচ খলিলের নামে ২৭ হাজার ডলার উঠলেও তার পরিবার পেয়েছিল মাত্র ৭০০ ডলার। শেষ পর্যন্ত টাকার অভাবে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে খলিল মারা যায়।
সবচেয়ে আঁতকে ওঠার মতো তথ্য হলো, যেসব শিশু চিকিৎসার অভাবে ইতিপূর্বেই মারা গেছে, তাদের ছবি ও পুরনো ভিডিও ব্যবহার করে এখনো অনলাইনে অর্থ সংগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছে প্রতারক চক্রগুলো। কলম্বিয়া, ইউক্রেন ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ১৫টি পরিবার একই ধরনের ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
বিবিসির অনুসন্ধানে ‘চান্স ফর হোপ’ নামক একটি সংগঠনের নাম উঠে এসেছে, যা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত। এই সংস্থাটিই আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্যাম্পেইন চালিয়েছিল। যদিও বিবিসির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা ব্যক্তিরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে আবেগী বিজ্ঞাপন দেখে দান করার আগে দাতাদের অবশ্যই সেই সংস্থার স্বচ্ছতা যাচাই করা জরুরি।
মুঠোফোনে আসা ছোট ছোট ভিডিওর আড়ালে শিশুদের করুণ মৃত্যুকে পুঁজি করে এই আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরটিভি/এআর




