
নিকোলাস মাদুরো—এক সময়কার সাধারণ বাসচালক থেকে হয়ে উঠেছিলেন দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম প্রভাবশালী ও বিতর্কিত রাষ্ট্রপ্রধান। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন অভিযানে তার নাটকীয় পতনের পর বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনা হলো, কীভাবে একজন সাধারণ শ্রমিক থেকে ১২ বছর একটি দেশ শাসন করলেন তিনি? মাদুরোর এই উত্থানের গল্পটি শুরু হয়েছিল কারাকাসের রাজপথ থেকে, যেখানে তিনি বাসের স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে জীবন পার করতেন।
১৯৬২ সালে এক শ্রমজীবী পরিবারে জন্ম নেওয়া মাদুরো ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তার বাবা ছিলেন একজন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, যার আদর্শ মাদুরোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন সেনা কর্মকর্তা হুগো চাভেজ এক ব্যর্থ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে কারাগারে যান, তখন মাদুরো ছিলেন একজন সাধারণ বাসচালক। চাভেজের মুক্তির দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে রাজপথে সরব হয়েই তিনি চাভেজের নজরে আসেন।
হুগো চাভেজের সঙ্গে মাদুরোর পরিচয় কেবল রাজনৈতিক ছিল না, বরং তা ছিল এক গভীর আনুগত্যের সম্পর্ক। ১৯৯৮ সালে চাভেজ যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, মাদুরো তখন আইনসভায় আসন পান। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও অটল বিশ্বাসের কারণে তিনি দ্রুত ওপরের দিকে উঠে আসেন। প্রথমে জাতীয় পরিষদের সভাপতি এবং পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ভেনেজুয়েলার তেলভিত্তিক কূটনীতিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেন।
২০১২ সালে ক্যানসার আক্রান্ত চাভেজ যখন বুঝতে পারেন তার আয়ু ফুরিয়ে আসছে, তখন তিনি সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাদুরোকে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেন। ২০১৩ সালে চাভেজের মৃত্যুর পর এক শ্বাসরুদ্ধকর নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় বসেন মাদুরো। এরপর থেকে টানা ১২ বছর নানা বিতর্ক, নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও তিনি ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে ছিলেন। আজ সেই দীর্ঘ শাসনের অবসান হলো মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের এক ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে, যা ল্যাটিন আমেরিকার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
আরটিভি/এআর




