
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে নির্যাতনসহ নতুন কয়েকটি অপরাধের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশ করা নতুন অভিযোগপত্রে তার শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ যুক্ত করা হয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস জানুয়ারির শুরু থেকে নিউইয়র্কের কারাগারে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে তাদের বাসভবন থেকে আটক করে নিয়ে যায়। মাদুরো ২০১৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
মাদুরো ও তার স্ত্রী—দুজনই তাদের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কয়েক বছর আগে দায়ের করা মামলায় তাদের পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল সিলিয়া ফ্লোরেসের। তার আইনজীবীরা তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে নিউইয়র্কের একটি বাসায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার মধ্যে রাখার আবেদন জানিয়েছেন। তাদের দাবি, ফ্লোরেসের হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা রয়েছে এবং কারাগারে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না।
ফ্লোরেসের আইনজীবীদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সময় তাকে দেয়াল বা আসবাবের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। এতে তার শরীরে স্থায়ী দাগ হয়েছে। কারাগারে থাকার সময় তার ওজন প্রায় ২৫ পাউন্ড কমে গেছে বলেও দাবি করেছেন তারা। চিকিৎসকেরা তাকে হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন। এছাড়া তার মাথা হালকা লাগা, মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যাও রয়েছে। গত জুলাইয়ে তার সামান্য হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা।
তবে ফ্লোরেসের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করেছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে তারা বলেছেন, মুক্তি পেলে ফ্লোরেসের পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং তিনি জনসাধারণের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। একই সঙ্গে, প্রয়োজন হলে তাকে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
মাদুরোকে আটক করতে চালানো অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নির্ভুল আইন প্রয়োগ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে মাদুরো নিজেকে যুদ্ধবন্দি বলে দাবি করেছেন এবং তার আটকের ঘটনাকে অপহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ফ্লোরেসের বিরুদ্ধেও স্বামীর সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার আইনজীবীদের দাবি, স্বামীর পাশে থাকার দৃঢ় ইচ্ছা থাকায় তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


