
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার মার্কিন কংগ্রেসে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস।
আগামী ৩ জানুয়ারি নতুন কংগ্রেস অধিবেশন শুরু হওয়ার পর স্পিকার পদের জন্য সহকর্মীদের ভোটে লড়বেন ৫৬ বছর বয়সী এই কৃষ্ণাঙ্গ নেতা। এই দায়িত্ব সফলভাবে পেলে তিনিই হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সারিতে দ্বিতীয় এবং সংবিধিবদ্ধ একমাত্র শীর্ষ নেতৃত্ব।
যেহেতু মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে একচ্ছত্র আধিপত্য পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা, তাই বলাই যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হয়ে ইতিহাস গড়াটা হাকিম জেফ্রিসের জন্য এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের বিজয় উৎসবে ‘স্পিকার! স্পিকার!’ স্লোগানে হাকিম জেফ্রিসকে বরণ করে নেওয়া হয়। হাকিম জেফ্রিস বলেন, এটি কোনও দলীয় মুহূর্ত নয়। এটি একটি দেশপ্রেমের মুহূর্ত।
আমেরিকান জনগণ পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আপনাদের কথা শুনতে পেয়েছি। আপনারা যে নাটকীয় পরিবর্তনের যোগ্য, তা বাস্তবায়ন করতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করব।
ব্রুকলিনের জন্ম নেওয়া এবং নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করা আইনজীবী হাকিম জেফ্রিস ২০১৩ সাল থেকে কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ছবি পোস্ট করে তার সমালোচনা করলেও জেফ্রিস ট্রাম্পের শেষ দুই বছরের মেয়াদ মোকাবিলায় বদ্ধপরিকর।
ডেমোক্র্যাট দলের নেতৃত্বে ক্যাথরিন ক্লার্ক ও পিটে আগুইলারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা জেফ্রিস জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, ট্রাম্প প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং প্রয়োজনে অভিশংসনের পথ খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০০ দিনের একটি শক্তিশালী এজেন্ডা ঘোষণা করেছেন।
ব্রুকলিনের এক কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারে বেড়ে ওঠা এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক ও জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করা জেফ্রিস নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে দায়িত্ব পালনের পর কংগ্রেসে আসেন। ১৮৭০ সালে প্রতিনিধি পরিষদে প্রথম নির্বাচিত কৃষ্ণাঙ্গ আইনপ্রণেতা জোসেফ রেইনির পথ ধরেই এবার স্পিকারের আসনে বসতে চলেছেন তিনি।
আরটিভি/এসএইচএম




