জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ০৬:২২ পিএম


জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন রূপ নিয়েছে। জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। 

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা টিভি অনলাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একই সঙ্গে আগাম সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার আটকে দেওয়ার দাবিও করেছে তারা।

অন্যদিকে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয় বলে জানানো হলেও, সেগুলোর নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর ইরাকের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরানের এই সামরিক প্রতিক্রিয়া এল।

আরও পড়ুন

হুমকি নিরসনে ওয়াশিংটন ও রিয়াদ জানিয়েছে, পূর্ব ইরাকে ইরান ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত একাধিক গোপন আস্তানায় অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এসব স্থান ব্যবহার করে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছিল।

সৌদি আরব জানায়, দেশের পূর্বাঞ্চলীয় তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা কয়েকটি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এসব হামলার জন্য ইরাকভিত্তিক ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে রিয়াদ।

যৌথ বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ও সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অঞ্চলে নতুন করে আরও হামলা প্রতিহত করতে এবং স্থিতিশীলতা আনতেই এই সীমিত সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।

ইরাকের আধা-সামরিক বাহিনী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের এ যৌথ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা একে ইরাকের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং নতুন করে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। 

পিএমএফের দাবি, এই হামলায় তাদের বেশ কয়েকটি প্রধান কার্যালয় ধ্বংস হয়েছে এবং এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

তবে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতির জন্য ভিত্তিহীনভাবে ইরানকে দায়ী করা হলে তা হবে একটি বড় ধরনের 'ভুল হিসাব' এবং এর ফলে পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission