ইরান যুদ্ধে শত শত বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৫৫ পিএম


ইরান যুদ্ধে শত শত বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানে হামলা চালিয়েছিলেন তখন তার ধারণা ছিল এই যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু পাঁচ মাস পার হলেও এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ নেই। উল্টো যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মার্কিন করদাতাদের ওপর আর্থিক বোঝা দিন দিন বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। খবর যুক্তরাজ্যের দ্য টেলিগ্রাফের। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ পরিচালনায় এ পর্যন্ত সরকারের অন্তত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়ে গেছে এবং পেন্টাগনের বরাদ্দকৃত অর্থ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

তবে অর্থনীতিবিদ ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পেন্টাগনের এই হিসাব আসল খরচের সামান্য অংশমাত্র। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং যুদ্ধবিষয়ক অর্থনীতিবিদ লিন্ডা জে বিলমস বলেন, ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাবটি হিমশৈল্যের চূড়ামাত্র। মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি নানা আনুসঙ্গিক খরচ যুক্ত করলে এই যুদ্ধের চূড়ান্ত আর্থিক ধাক্কা ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারে পৌঁছাতে পারে।

আরও পড়ুন

‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৪ জুলাই পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন অর্থনীতির প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। সংঘাত এভাবে চলতে থাকলে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই তা ৩১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হ্য,এই সংঘাতের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমেরিকার সাধারণ মানুষের ওপর। জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। যুদ্ধ না থাকলে যে দামে তেল পাওয়ার কথা ছিল, তার তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম ২১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সামনে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত দাম মার্কিন ভোটারদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে। ফলে আগামী নির্বাচনে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে যাচ্ছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ইতিপূর্বে মাইনাস ১১ শতাংশে থাকলেও যুদ্ধ শুরুর পর তা নেমে মাইনাস ১৯ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি সামরিক ও মানবিক দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে, যদিও এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পর নিহত চার সেনাকে পেন্টাগন তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি।

প্রতিবেদন আরও বলা হয়, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০টি সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে থাকা তিনটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম) পুরোপুরি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্পদ ও মনোযোগের অপচয় প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও রাশিয়াকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে সুবিধা করে দিচ্ছে। কারণ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে আমেরিকার সামরিক শক্তি সরে যাওয়াটাই চীনের সবচেয়ে বড় চাওয়া ছিল।

আরটিভি/এআর  

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission