সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে সাতটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) ভোরে শহরের দক্ষিণাঞ্চলের জেবেল আলি শিল্পাঞ্চল ও বন্দর এলাকায় এসব বিস্ফোরণ ঘটে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। এসব ভিডিও ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর জানিয়েছে, অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর অন্তত সাতটি বিস্ফোরণ ঘটে। তবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
মেহর নিউজ আরও দাবি করেছে, ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণের অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে কয়েকটি ইরাকি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইয়েমেন থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে আমিরাতের সরকারি বা মূলধারার কোনো সংবাদমাধ্যমও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
অন্যদিকে নাসার তাপীয় উপগ্রহচিত্রে জেবেল আলি বন্দরের পাশের একটি গুদাম এলাকায় আগুনের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই গুদামটি জ্বালানি সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হতো।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আবাসিক এলাকার কাছাকাছি থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার পুরো সময়জুড়েই সংযুক্ত আরব আমিরাত উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় অতীতেও দেশটি সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলে বিভিন্ন সময়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিস্ফোরণের কারণ এবং আটকের বিষয়সহ কয়েকটি দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
সূত্র: এনডিটিভি, মেহর নিউজ
আরটিভি/এসকে



