যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথে শারীরিকভাবে দুর্বল এক বৃদ্ধাকে ভুলবশত কুকুরের খাবার খাওয়ানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও সামাজিক পরিচর্যাবিষয়ক ন্যায়পালের তদন্তে শুধু এই ঘটনাই নয়, তার পরিচর্যায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অবহেলা ও অনিয়মের তথ্যও উঠে এসেছে।
পরিচয় গোপন রাখতে তদন্ত প্রতিবেদনে ওই নারীকে ‘মিসেস ওয়াই’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। পড়ে গিয়ে চলাফেরার সক্ষমতা হারানোর পর তিনি নিজ বাড়িতেই পরিচর্যা সেবা নিচ্ছিলেন। পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিলের চুক্তির আওতায় রাডিস কমিউনিটি কেয়ার নামে একটি প্রতিষ্ঠান তাকে এই সেবা দিচ্ছিল।
তদন্তে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুনে দুই পরিচর্যাকর্মী তার বাড়িতে গিয়ে ফ্রিজে রাখা একটি প্যাকেটকে ভেড়ার মাংসের খাবার মনে করে মাইক্রোওয়েভে গরম করেন। বৃদ্ধাকে তিনবার খাওয়ানোর পর অপর কর্মী বুঝতে পারেন, সেটি আসলে প্রাপ্তবয়স্ক কুকুর ও কুকুরছানার জন্য তৈরি খাবার। ঘটনাটি দৈনিক পরিচর্যার নথিতে ভুলভাবে ‘ল্যাম্ব ডিনার’ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল।
তবে তদন্তে বলা হয়েছে, কুকুরের খাবার খাওয়ানোর সঙ্গে বৃদ্ধার মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। প্রায় এক মাস পর, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তার মৃত্যু হয়। করোনারের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ন্যায়পালের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পরিচর্যাকর্মীরা অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে যাননি, উপস্থিত না হয়েও ভিজিটের রেকর্ড তৈরি করেছেন এবং রোগীর পরিচর্যা পরিকল্পনা অনুসরণ করেননি। বৃদ্ধার খাবার ও পানীয় গ্রহণের তথ্যও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। এমনকি তাকে বাসি ও খাওয়ার অনুপযোগী খাবার দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। গিলতে সমস্যা থাকায় নরম খাবার দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তা মানা হয়নি।
পরিবারের স্থাপন করা সিসিটিভি ফুটেজে এক পরিচর্যাকর্মীকে জোর করে খাবার খাওয়াতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করেছে পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া তাকে দীর্ঘ সময় ভেজা অবস্থায় কিংবা রাতভর অন্ধকারে ফেলে রাখা, চলাফেরায় প্রয়োজনীয় সহায়তা না দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার মতো গুরুতর অনিয়মও তদন্তে উঠে এসেছে।
বৃদ্ধার পরিবার মৃত্যুর কয়েক মাস আগেই পরিচর্যার মান নিয়ে অভিযোগ করলেও ২০২৪ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া সুরক্ষা তদন্ত প্রায় ছয় মাস অমীমাংসিত ছিল। ন্যায়পালের ভাষ্য, পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিল রাডিসের অভ্যন্তরীণ তদন্তের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছে এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
ঘটনার জন্য পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিল। পাশাপাশি পরিচর্যার জন্য দেওয়া অর্থ ফেরত এবং এক হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাউন্সিল জানিয়েছে, রাডিসের সঙ্গে তাদের চুক্তি নির্ধারিত সময়ের আগেই বাতিল করা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কোনো সেবা নেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে, রাডিস কমিউনিটি কেয়ার জানিয়েছে, কুকুরের খাবার খাওয়ানোর ঘটনাটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তারা এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মী বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন। ঘটনার সময় উপস্থিত দ্বিতীয় কর্মীর বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিল। ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ, আকস্মিক পরিদর্শন এবং গুরুতর অভিযোগ দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর জন্য নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
আরটিভি/এসকে



