
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেটার ইমরান খানের মুক্তির জন্য যুক্তরাজ্যকে দেশটির ওপর থাকা প্রভাব কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, রাজনীতিবিদ ও লেখক বোরিস জনসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি মেইলে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী লেখায় তিনি ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থার সমালোচনা করে দ্রুত তার আপিল শুনানির দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই লেখায় জনসন দাবি করেন, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান পাকিস্তানের একটি কারাগারের ছোট ও স্যাঁতসেঁতে প্রকোষ্ঠে দীর্ঘদিন ধরে বন্দি আছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকোষ্ঠটির আয়তন প্রায় ৬ ফুট বাই ৮ ফুট এবং এর মধ্যেই শৌচাগার রয়েছে। সেখানে জানালা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
জনসন আরও লেখেন, ইমরান খানকে দিনের পর দিন একাকী রাখা হয় এবং দীর্ঘ সময় বই, সংবাদপত্র ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও দূরে রাখা হয়। তার দাবি, দীর্ঘদিন যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় ইমরান খানের ডান চোখের ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়েছে।

ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থার বিষয়ে জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক গত দুই বছরে তিনবার উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে জনসন তার লেখায় উল্লেখ করেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উদ্বেগ এবং পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের চিকিৎসাসংক্রান্ত পর্যবেক্ষণের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ইমরান খানের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলার বেশির ভাগই পরে বাতিল বা ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেন জনসন। তবে আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সাজা রয়েছে এবং ইমরান খান সেই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করছেন।
জনসনের বক্তব্য, এই মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া অর্থ থেকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন—এমন বিষয় পাকিস্তানি প্রসিকিউটররা স্বীকার করেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মামলাটির বিষয়ে ইমরানের আপিল দ্রুত ও স্বাধীন আদালতে শুনানি হওয়া উচিত।
তবে মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব ইমরান খানকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়—এমন দাবি করেছেন জনসন। এটি তার নিজের রাজনৈতিক মূল্যায়ন, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
লেখায় জনসন জানান, তিনি ইমরান খানকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং তার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ইমরান খানের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ এবং নারীদের শিক্ষার প্রসারে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসাও করেন তিনি।
তবে ইমরানের সব অবস্থানের সঙ্গে তিনি একমত নন বলেও স্পষ্ট করেছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ইমরানের অবস্থান এবং তালেবান বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনাও করেন জনসন।
জনসন তার লেখায় ইমরান খানের ক্রিকেট ক্যারিয়ারও তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ইমরান পাকিস্তানকে ১৯৯২ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেন। এর আগে ভারত ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও পাকিস্তানের প্রথম টেস্ট জয়গুলোর নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।
জনসনের মতে, ইমরানের বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি দাবি করেন, ইমরান মুক্তি পেলে তার সমর্থকেরা তাকে পরবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের সমর্থন দিতে পারেন। তবে এটি জনসনের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, নিশ্চিত নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস নয়।
জনসন বলেন, ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিমের ব্রিটিশ পাসপোর্ট রয়েছে। ইমরান নিজেও যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন এবং দেশটির ক্রিকেটেও খেলেছেন।
তার মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের আরও জোরালোভাবে অবস্থান নেওয়া উচিত।
লেখার শেষাংশে জনসন ইমরান খানকে কারাগার থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানান এবং তার আপিলের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির কথা বলেন।
সূত্র: দ্য ডেইলি মেইল
আরটিভি/জেএমএ


