
যাত্রীবাহী বা কার্গো বিমানে চেপে নিঃশব্দে জার্মানির মাটিতে পা রেখেছিল এক বিষাক্ত অ্যানোফিলিস মশা। হাজার মাইল দূর থেকে বিমানে করে আসা সেই অচেনা মশার কামড়েই শেষ পর্যন্ত জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে প্রাণ হারিয়েছেন দুজন কর্মী।
জার্মানির সবচেয়ে ব্যস্ত এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি তৈরি হয় এক ভূতুড়ে স্বাস্থ্যসংকট। ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে কাজ করা ছয়জন পুরুষ কর্মী হঠাৎ রহস্যজনক জ্বরে আক্রান্ত হন। তাদের শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু ধরা পড়ে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন কর্মী মারা যান। বাকি চারজন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন। বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রাপোর্ট’ ও স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিভাগ এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিরল 'এয়ারপোর্ট ম্যালেরিয়া'র এক নির্মম উদাহরণ। ক্রান্তীয় বা ম্যালেরিয়াপ্রবণ কোনো দেশ থেকে ছেড়ে আসা বিমানে চড়ে পরজীবী বহনকারী মশা হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অন্য দেশের বিমানবন্দরে পৌঁছে যায়। বিমান কিংবা কনটেইনার থেকে বেরিয়ে সেই মশা স্থানীয় বাসিন্দা বা বিমানবন্দর কর্মীদের কামড়ালে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ ঘটে।
জার্মান সরকারের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) জানায়, আক্রান্ত ওই কর্মীরা মূলত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরে নেদারল্যান্ডসের জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানায়, এই ম্যালেরিয়ার পেছনে দায়ী ম্যালেরিয়া পরজীবীর সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী প্রজাতি ‘প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম’।
হত্যাকারী মশাটির প্রজাতি ও এটি ভৌগোলিকভাবে ঠিক কোন দেশ থেকে বিমানে উঠেছিল, তা শনাক্ত করতে কাজ চলছে। বিমানবন্দর এলাকায় পাতা ফাঁদে ধরা পড়া মশার জেনেটিক বিশ্লেষণ বেলজিয়ামের ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনে পাঠানো হয়েছে।
অবশ্য ফ্রাঙ্কফুর্ট স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান পিটার টিনেমান আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ঘাতক মশাটি হয়তো ইতিমধ্যেই মারা গেছে, তাই সাধারণ মানুষ বা বিমানযাত্রীদের নতুন করে আতঙ্কের কারণ নেই। তবে ইউরোপের মতো দেশে সচরাচর ম্যালেরিয়া না থাকায় চিকিৎসকেরা প্রাথমিক লক্ষণ দেখে রোগটি শনাক্ত করতে দেরি করেন, যার খেসারত দিতে হলো ওই দুই বিমানবন্দর কর্মীকে।
আরটিভি/এআর


