ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে তৈরি করা হয়নি: তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে তুর্কি সরকার।

শনিবার (৮ আগস্ট) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে ইরান বা অন্য কোনো দেশকে যৌথ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

মক্কায় শুক্রবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী স্বাক্ষরকারী যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা তিন দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।

আরও পড়ুন

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই চুক্তিটি ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’-এর মতো যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অনুকরণে হলেও আক্রমণ হলে কোনো দেশ কী ধরনের সহায়তা পাবে তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। সহায়তার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিক, গোলাবারুদ বা সেনা মোতায়েন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

এছাড়া সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় এবং রাজনৈতিক ও সামরিক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা ভাগাভাগি করার বিষয়টিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

ফিদান আরও জানান, এই চুক্তির প্রস্তুতি প্রায় দুই বছর আট মাস ধরে চলছিল, ফলে এটি কেবল সাম্প্রতিক ইরান উত্তেজনার প্রতিক্রিয়া নয়। এতে ভবিষ্যতে মিশরসহ অন্যান্য আঞ্চলিক দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে তুরস্কের আশ্বাসের পরেও ইরানি কর্মকর্তারা এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইরানের পার্লামেন্টারি ন্যাশনাল সিকিউরিটি ও ফরেন পলিসি কমিশনের সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ান ও ইব্রাহিম রেজাই এটিকে একটি ‘কাগজি চুক্তি’ বলে আখ্যা দেন এবং রিয়াদকে নিরাপত্তার জন্য নতুন সঙ্গীদের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সরাসরি চুক্তি নিয়ে কথা না বললেও আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজেদের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপ, যা কথা হলো
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনে দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 
ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপ, যা কথা হলো
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি
একসময় আমেরিকার প্রায় প্রতিটি পকেট, কয়েনের জার কিংবা শিশুর পিগি ব্যাংকে দেখা যেত ছোট্ট এক সেন্টের মুদ্রা—পেনি। দোকানের কাউন্টারে খুচরা ফেরত, ছোটখাটো কেনাকাটা কিংবা সঞ্চয়ের প্রথম ধাপ—দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে ছিল এই ছোট্ট মুদ্রাটি। কিন্তু ২৩৪ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার সেই পরিচিত পেনি বিদায়ের পথে। মার্কিন সিনেটে পেনি তৈরির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির বিল পাস হয়েছে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই বিল এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য যাচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রচলনের জন্য নতুন পেনি তৈরির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পেনির গল্প আজকের নয়।  ১৭৯২ সালের ‘কয়েনেজ অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এক সেন্টের মুদ্রা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর ১৭৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল প্রথম পেনি তৈরি করে। সেই সময়ের পেনি ছিল বর্তমান মুদ্রার তুলনায় বড় এবং মূলত তামা দিয়ে তৈরি। এরপর আমেরিকার ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে থেকেছে পেনি।  ১৯০৯ সালে মুদ্রাটিতে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবি যুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তামার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৪৩ সালে পেনির একটি সংস্করণ তামার পরিবর্তে ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এর ধাতব উপাদানও পরিবর্তিত হয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রার পর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর ফিলাডেলফিয়া টাকশালে প্রচলনের জন্য শেষ পেনিটি তৈরি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রচলিত পেনির নিয়মিত উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাসের অবসান ঘটে। তবে মানুষের হাতে থাকা পেনিগুলো এখনো বৈধ মুদ্রা হিসেবে থাকবে এবং সেগুলো দিয়ে লেনদেন করা যাবে। পেনি তৈরির খরচই মূলত এর বিদায়ের অন্যতম বড় কারণ। মার্কিন টাকশালের হিসাবে, ২০২৪ সালে একটি পেনি তৈরি করতে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ সেন্ট খরচ হয়েছে। অথচ মুদ্রাটির মূল্য মাত্র ১ সেন্ট। একই বছরে প্রায় ৩২০ কোটি পেনি তৈরি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে নগদ অর্থের ব্যবহারও কমেছে।  কার্ড, মোবাইল পেমেন্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় হওয়ায় এক সেন্টের মতো ছোট মূল্যমানের মুদ্রার ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক কমেছে। পেনি সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে গেলে নগদ লেনদেনে নতুন নিয়ম চালু হতে পারে।  ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’-এ মোট বিলের অঙ্ক কাছের পাঁচ সেন্টে সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো মোট বিলের শেষ অঙ্ক ১, ২, ৬ বা ৭ হলে তা নিচের পাঁচ সেন্টে নামিয়ে নেওয়া হবে।  আর শেষ অঙ্ক ৩, ৪, ৮ বা ৯ হলে তা ওপরের পাঁচ সেন্টে নেওয়া হবে। এই নিয়ম শুধু নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে আগের মতোই নির্দিষ্ট সেন্ট পর্যন্ত সঠিক মূল্য পরিশোধ করা যাবে। অর্থাৎ, আমেরিকার পকেট থেকে পেনি হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু দোকানের কাউন্টারে খুচরা হিসেবে পাওয়া সেই ছোট্ট কয়েন, শিশুর পিগি ব্যাংকে জমিয়ে রাখা প্রথম সঞ্চয় কিংবা পুরোনো কয়েনের জারে পড়ে থাকা এক সেন্ট—এসব স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ২৩৪ বছরের ইতিহাস সহজে মুছে যাওয়ার নয়। আরটিভি/এসআর
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ মানবজাতির জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন বৈশ্বিক উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক স্বেচ্ছামূলক চুক্তিতে সই করেছেন প্রযুক্তি খাতের ছয় শীর্ষ নির্বাহী।
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
ইরাকে থাকা সব সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে নিয়ে দীর্ঘ দুই দশকের উপস্থিতি শেষে চূড়ান্তভাবে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
অষ্টম তলা থেকে পড়ে বেঁচে গেলেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে অষ্টম তলার জানালা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েও বেঁচে গেছেন ২১ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী।
অষ্টম তলা থেকে পড়ে বেঁচে গেলেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী
আরও পড়ুন
ইরানের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ জব্দ করল তুরস্ক
আগামী দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর তিন দেশ সফরের প্রস্তুতি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার আশায় ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারবাজার চাঙ্গা
পবিত্র মক্কায় জরুরি সতর্কতা জারি, সৌদিজুড়ে হামলার আতঙ্ক