
পুকুরে জাল ফেললেই উঠে আসবে টাটকা ইলিশ এতদিন যা ছিল বাঙালির কল্পনা, তা এবার বাস্তবের পথে। বদ্ধ জলাশয়ে ইলিশকে বড় করে তোলার পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা।
ব্যারাকপুরের মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রে কয়েক বছর ধরে চলছে এই গবেষণা। রহড়া কেন্দ্রে পরীক্ষার পাশাপাশি কোলাঘাট ও কাকদ্বীপেও গবেষণার কাজ এগিয়ে চলছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে বদ্ধ জলাশয়েও ইলিশকে বড় করা সম্ভব হয়েছে।
ইলিশের স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি গবেষণায় ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও পুষ্টিকর ফিড। জলের গুণমান, অক্সিজেনের মাত্রা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের দাবি, বদ্ধ জলাশয়ে ইলিশের বৃদ্ধির হার ধীর হলেও আশাব্যঞ্জক। প্রথম বছরে একটি ইলিশের ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম হয়। দ্বিতীয় বছরে তা বেড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামে পৌঁছায়। পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা প্রায় এক কেজি ওজনের ইলিশও বড় করতে সক্ষম হয়েছেন। একটি ইলিশের ওজন পাওয়া গেছে ৯৯২ গ্রাম।
তবে এখনই পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে ইলিশ চাষ শুরু করা সম্ভব বলে মনে করছেন না বিজ্ঞানীরা। ভারতের কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান শ্রীকান্ত সামন্ত জানিয়েছেন, বদ্ধ জলাশয়ে ইলিশের সম্পূর্ণ প্রজনন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। সেই পরীক্ষাতেও সাফল্য এলে ইলিশ চাষে খুলে যেতে পারে নতুন সম্ভাবনার দরজা।
তবে এই চাষে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ইলিশের শরীরে পটকা না থাকায় তার অক্সিজেনের চাহিদা বেশি। ফলে এক জলাশয় থেকে অন্য জলাশয়ে ইলিশ স্থানান্তর করা ঝুঁকিপূর্ণ। পানির মান ঠিক রাখা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্য ইলিশের স্বাদ নিয়ে। নদীর ইলিশের সঙ্গে পুকুরে বেড়ে ওঠা ইলিশের স্বাদের পার্থক্য কতটা হবে, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে। এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য বেশ আশাব্যঞ্জক পুকুরের ইলিশের স্বাদও ‘লা জবাব’ বলেই দাবি তাদের।
গবেষণায় আরও সাফল্য এলে ভবিষ্যতে রুই-কাতলা-মৃগেলের পাশাপাশি পুকুরের পানিতেও উঠে আসতে পারে ইলিশ। তখন বর্ষার ইলিশের জন্য নদীর দিকে তাকিয়ে থাকার প্রয়োজন হয়তো অনেকটাই কমে যাবে।
আরটিভি/এসকে


