
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্কে অবস্থিত ডিলানি হল অভিবাসন আটককেন্দ্রে আটক থাকার পর আরও এক অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনে। মৃত ব্যক্তি গুয়াতেমালার নাগরিক।
ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আইসিই (ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) পরিচালিত আটককেন্দ্রে অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পুনরায় চালু হওয়া ডিলানি হল আটককেন্দ্রে এটি তৃতীয় মৃত্যুর ঘটনা। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রটি আবার চালু করা হয়েছিল।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটককেন্দ্রে থাকা অবস্থায় হোসে চাখোন-রাখসোন হঠাৎ খিঁচুনির মতো শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হন। দায়িত্বরত একজন নার্স তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেন এবং পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের ডাকা হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আইসিই জানায়, গত ১৮ জুলাই চাখোন-রাখসোনকে গ্রেপ্তার করে ডিলানি হলে আনা হয়। তবে চার দিন পর, ২২ জুলাই তাকে আইসিইর হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। কেন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল বা এরপর হাসপাতালে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
ডিএইচএস এক বিবৃতিতে বলেছে, আইসিইর নীতিমালা অনুযায়ী, কেউ হেফাজতের বাইরে চলে গেলে তার পরবর্তী মৃত্যু পর্যবেক্ষণ বা পর্যালোচনার দায়িত্ব সংস্থার থাকে না।
তবে এই অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছেন নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রব মেনেনডেজ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, এই নীতির কারণে একটি "ফাঁক" তৈরি হয়েছে। এর ফলে কাউকে হেফাজত থেকে ছেড়ে দিয়ে পরে তার মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত বা কংগ্রেস ও জনগণকে জানানো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের শুরুতে আইসিই একটি নীতিগত পরিবর্তন আনে। এর আগে বাইডেন প্রশাসনের সময় ২০২১ সালে চালু হওয়া নীতি অনুযায়ী, হেফাজত থেকে মুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে সেটিও প্রকাশ করা হতো। নতুন নীতিতে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
চাখোন-রাখসোনের মৃত্যুর বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আসেনি। গত সপ্তাহে কংগ্রেসম্যান রব মেনেনডেজ বিষয়টি প্রকাশ করার পর ঘটনাটি সামনে আসে।
ডিলানি হল আটককেন্দ্রে এর আগেও দুটি মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে আইসিইর হেফাজতে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার পর এল সালভাদরের নাগরিক এডউইন লোপেজ-করনেহোর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ডিসেম্বরে একই কেন্দ্রে আটক থাকা হাইতির নাগরিক জিন উইলসন ব্রুটাসেরও মৃত্যু হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর হেফাজতে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এসব সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোর চিকিৎসাসেবা ও বন্দিদের জীবনযাপনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
ডিলানি হল আটককেন্দ্র নিয়েও গত কয়েক মাসে নানা অভিযোগ উঠেছে। বন্দিদের ওপর প্রহরীদের শারীরিক নির্যাতন, নষ্ট খাবার সরবরাহ এবং অপর্যাপ্ত সেবার অভিযোগে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। মে মাসের শেষ দিকে অন্তত ৩০০ অভিবাসী অনশন ও কর্মবিরতিতে অংশ নেন। পরে নারী বন্দিরাও পৃথকভাবে অনশন শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল, আটককেন্দ্রের পরিস্থিতির উন্নতি এবং ২১ বছরের কম বয়সী নারী, অসুস্থ নারী ও মায়েদের মুক্তি দেওয়া।
তবে আইসিইর দাবি, তাদের হেফাজতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
আরটিভি/এমএম




