ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানের সামরিক শক্তির পুনর্গঠনের গতি দেখে হতবাক ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতবিক্ষত ইরানের দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের গতি দেখে হতবাক ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) তেল আবিবের সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট বরাত দিয়ে ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের মূল পর্ব শেষ হওয়ার পর ইরান দ্রুত তার সামরিক বাহিনী পুনর্গঠন করতে সক্ষম হওয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ বিস্মিত হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠনের বিষয়ে উদ্বিগ্ন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান জুনের শুরুতে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সংঘাত আরও তীব্র হয় জুলাইয়ের শুরুতে। এ সময় অঞ্চলটির বিভিন্ন আরব দেশেও নতুন করে হামলা চালায় তেহরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় দেশটি।

জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এখন স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন যে ইরান তার আক্রমণাত্মক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য নতুন ও সৃজনশীল পদ্ধতি বের করেছে। প্রতিবেদনে দেয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় ইরানের কাছে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর সময় সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০-তে পৌঁছেছিল।

ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্যও সংবাদমাধ্যমটি যাচাই করেছে বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত গতিতে নতুন অস্ত্র উৎপাদন করছে।

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নেও একই ধরনের উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। মে মাসে সিএনএনকে চার মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরান তার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে মার্কিন গোয়েন্দাদের পূর্বাভাস দেয়া ‘সব সময়সীমা’ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, সে সময় গোয়েন্দা মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছিল, ইরান ছয় মাসের মধ্যে, অর্থাৎ নভেম্বরের মধ্যে তার ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে পারে।

এদিকে, মূল্যায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদান চীন থেকে ইরানে সরবরাহ অব্যাহত ছিল। তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ এই সরবরাহে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাত চলাকালে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মার্কিন মজুত কমে আসছে।

সূত্রের বরাতে রয়টার্স চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রায় সব এটিএসিএমএস ও প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মানবচালিত বোমারু বিমান অভিযানের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।

ইসরায়েলি বাহিনী জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছে, ইরান কীভাবে তার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে, তা তারা ‘ঘনিষ্ঠভাবে ও ধারাবাহিকভাবে’ পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতির প্রকৃত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের মূল্যায়ন নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। তবে আইডিএফ বলেছে, পুনর্গঠনের গতি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো মূল্যায়ন প্রকাশ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করলে তাদের গোয়েন্দা সূত্র ও পদ্ধতি প্রকাশ হয়ে যেতে পারে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদন পেল মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
তুরস্কের পার্লামেন্টে ২৭৯ ভোটে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়। চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেন ১১৯ জন। পার্লামেন্টের ৫৯২ সদস্যের মধ্যে ভোটে অংশ নেন ৩৯৮ জন।
তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদন পেল মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
মৃত্যুর পর দাফন বা সৎকারের রীতি দেশ ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন। তবে ইউরোপের কিছু অঞ্চলে একসময় প্রচলিত ছিল অদ্ভুত এক বিশ্বাস—কবর দেওয়া মৃত ব্যক্তিও নাকি ফিরে আসতে পারেন জীবিতদের মাঝে!
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
ধারের টাকা পরিশোধের জন্য গোয়ালের গরু বিক্রি করতে চেয়েছিলেন ট্রাকচালক চুন্নিলাল কুমাওয়াত (৫৬)। তবে এতে তার স্ত্রী চুঙ্কি দেবী (৫২) আপত্তি জানান।
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
ইরানের কাছে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছে রাশিয়া। হেলিকপ্টার থেকে পরিচালিত এসব লঞ্চারের মাধ্যমে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদনসংক্রান্ত নথিতে ‘এপিইউ-এল’ মডেলের ৯০টি লঞ্চার রপ্তানির আদেশের তথ্য রয়েছে। সেখানে ক্রেতার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ‘কে-১০’ সাংকেতিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।  রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নথিতে এই সংকেত দিয়ে ইরানকে বোঝানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে এসব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে ইরানের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লঞ্চারগুলো রাশিয়ার এমআই-২৮ মডেলের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপন করা যায়। প্রতিটি লঞ্চারে দুটি করে ‘এলএমইউআর’ নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। আকাশে উড্ডয়নের সময়ও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। ফলে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ তৈরি হয়। এফটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে মস্কো। ‘সি৪৩০এল’ নামের একটি গোপন প্রকল্পের আওতায় রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এর আগে ইরানের কাছ থেকে শাহেদ ড্রোন সংগ্রহ করেছিল রাশিয়া। পাশাপাশি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতেও সহযোগিতা করছে মস্কো। বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ক্রেমলিনের অন্যতম লক্ষ্য।  এ কারণে রুশ সামরিক সহায়তায় ইরানের সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আরটিভি/এসআর  
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
আরও পড়ুন
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
হরমুজ পার হতে বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: রাষ্ট্রদূত
‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’, তেহরানে বিশাল বিলবোর্ডে ইরানের হুমকি