
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে’ মিসরও যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি জানান, পারস্পরিক সহযোগিতার এই চুক্তিটি ভবিষ্যতে আরও দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং মিসরের এতে যুক্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
কাতারের আল জাজিরা আরবি চ্যানেলের ‘আল মুকাবালা’ (দ্য ইন্টারভিউ) অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান এরদোয়ান। সাক্ষাৎকারে তিনি মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রেক্ষাপট ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পবিত্র মক্কা নগরীতে সম্প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যৌথভাবে ‘মক্কা চুক্তি’ সই করেন। চুক্তির শর্তানুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি সশস্ত্র হামলার শিকার হলে তা জোটের সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। বিশ্লেষকেরা এই ধারাটিকে ন্যাটোর বিখ্যাত ‘অনুচ্ছেদ ৫’-এর সমতুল্য বলে মন্তব্য করলেও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত শত্রুভাবাপন্ন জোট নয়।
সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালি দ্রুত পুনরায় চালু করাকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অগ্রাধিকার বলে অভিহিত করেন এরদোয়ান। একই সঙ্গে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার চলমান সংকট সামলাতে তুরস্ক প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশে থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। গাজা ইস্যুতে হামাস তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করলেও ইসরায়েল অব্যাহত আগ্রাসন চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও জানান, আঙ্কারা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহের আশ্বাস মিলেছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়া বর্তমানে তুরস্কের প্রধান অগ্রাধিকার নয় উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, আঙ্কারাকে বাদ রাখলে দিনশেষে ইউরোপই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আরটিভি/এআর

