
বয়স ৪৭ বছর। তবে গবেষণায় তার শরীরের জৈবিক বয়স পাওয়া গেছে প্রায় ৩২ বছর। অর্থাৎ প্রকৃত বয়সের চেয়ে প্রায় ১৫ বছর কম। নিজের শরীরকে গবেষণার বিষয় বানিয়ে এমন ফল পেয়েছেন সিঙ্গাপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের অধ্যাপক ডিন হো।
সিঙ্গাপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ং লু লিন চিকিৎসা অনুষদের ডিজিটাল চিকিৎসা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডিন হো নিজেকেই একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার একমাত্র অংশগ্রহণকারী হিসেবে বেছে নেন।
গবেষণাটির নাম ডেল্টা। এর মূল লক্ষ্য ছিল বছরে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে শরীরের অবস্থা জানার প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে, শরীর সময়ের সঙ্গে কীভাবে পরিবর্তিত হয় তা পর্যবেক্ষণ করা।
গবেষণার অংশ হিসেবে অধ্যাপক হো নিজের জীবনযাপনে নানা পরিবর্তন আনেন। প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘণ্টা উপবাস, কয়েক দফা ৪৮ ঘণ্টার উপবাস, প্রতিদিন সকালে ৯০ মিনিট শরীরচর্চা এবং নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেন তিনি।
তার খাদ্যতালিকায় ছিল শাকসবজি, বীজ, জলপাইয়ের তেল, কম চর্বিযুক্ত প্রোটিনসহ ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের খাবার। পানীয় হিসেবে তিনি মূলত পানি, খনিজ লবণযুক্ত পানি, দুধ-চিনি ছাড়া কালো কফি ও চা গ্রহণ করতেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, তার শরীরের বিপাকক্রিয়ার পরিবর্তনের গতি আগের চেয়ে বেড়েছে। আগে শরীরের শক্তির উৎস হিসেবে শর্করা থেকে চর্বিতে পরিবর্তন হতে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লাগলেও তা কমে প্রায় ১৬ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে নেমে এসেছে।
গবেষক দলের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর একটি পদ্ধতি অধ্যাপক হোর জৈবিক বয়স প্রায় ৩২ বছর নির্ধারণ করেছে। তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, এটি প্রচলিত বয়স নির্ধারণের মতো শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের স্বাস্থ্য তথ্যের ওপর নির্ভর করেনি। বরং চাপ ও পরিবর্তনের সঙ্গে শরীর কত দ্রুত মানিয়ে নেয় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, সেটিও বিবেচনা করা হয়েছে।
গবেষণায় তার হৃদস্পন্দনেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশ্রাম অবস্থায় তার হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬৫ থেকে কমে ৪৬-এ নেমে এসেছে।
ঘুমের ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে তিনি রাত ১২টার পর ঘুমাতে যেতেন এবং প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতেন। পরে তার ঘুমের সময় এগিয়ে রাত ৯টার দিকে আসে এবং ঘুমের সময় বেড়ে প্রায় আট ঘণ্টা হয়। গভীর ঘুমের পরিমাণও বেড়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
অন্ত্রের জীবাণু পরিবেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। গবেষণার সব পরিমাপে ক্ষতিকর এক ধরনের জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টের মাঝামাঝি শুরু হওয়া গবেষণাটি এখনো চলছে। প্রায় আট মাস ধরে তিন ধরনের শরীরে পরিধানযোগ্য যন্ত্র ব্যবহার করে তার শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, সবার শরীর এক রকম নয়। বয়স, মানসিক চাপ, ঘুম, খাবার, ব্যায়াম ও অসুস্থতার কারণে প্রত্যেক মানুষের শরীর ভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়। তাই সবার জন্য একই ধরনের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার পরিবর্তে নিজের শরীরের তথ্য বুঝে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
সূত্র: সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
আরটিভি/জেএমএ


