
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এক নারীর অন্তর্বাসের ভেতর থেকে দুটি জীবন্ত কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে। বিমানে ওঠার আগে নিরাপত্তা স্ক্যানারে তার বুকের অংশে অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়ার পর তল্লাশি চালিয়ে কচ্ছপ দুটির সন্ধান পান কর্মকর্তারা।
ঘটনাটি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঘটলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে কয়েক মাস পর। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন পরে ঘটনাটির ছবি প্রকাশ করে। তবে ওই নারীর পরিচয় জানানো হয়নি।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কচ্ছপ দুটিকে কাপড় ও প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় রাখা হয়েছিল। কচ্ছপগুলোর কোন প্রজাতির ছিল, তা জানানো হয়নি।
নিরাপত্তা স্ক্যানারে প্রথমে নারীর বুকের অংশে সন্দেহজনক কিছু শনাক্ত হয়। এরপর তাকে আলাদা করে তল্লাশি করা হলে পোশাকের ভেতর থেকে দুটি কচ্ছপ বের করা হয়।
তবে ঘটনার পর দুঃখজনকভাবে কচ্ছপ দুটির একটি মারা যায়। বেঁচে যাওয়া কচ্ছপটিকে ফ্লোরিডার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার পর যাত্রীদের সতর্ক করে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন জানায়, ছোট পোষা প্রাণী নিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়া সম্ভব হলেও শরীরের পোশাকের নিচে লুকিয়ে তা নেওয়া যাবে না।
নিরাপত্তা সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, ছোট পোষা প্রাণী নিয়ে ভ্রমণ করলে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় প্রাণীটিকে বহনকারী খাঁচা বা ব্যাগ থেকে বের করে হাতে রাখতে হয়। পাশাপাশি বিমানে পোষা প্রাণী নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার নিয়মও জেনে নিতে হয়।
মায়ামির এই ঘটনাই অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে প্রাণী লুকিয়ে নেওয়ার প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ব্যক্তির প্যান্টের ভেতর থেকে একটি জীবন্ত কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই কচ্ছপটি অবশ্য জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া ২০২৩ সালে মায়ামি বিমানবন্দরে একটি ব্যাগ থেকে পাখির ডাক শোনার পর অ্যামাজন প্রজাতির পাখির ডিম ও জীবন্ত পাখি উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালেও এক ব্যক্তিকে ব্যাগে সাপ নিয়ে বিমানে ওঠার চেষ্টা থেকে আটক করা হয় বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত যাত্রী, বিমান ও অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি। তাই প্রাণী পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষ করে শরীরের সঙ্গে প্রাণী লুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা যাত্রীর পাশাপাশি প্রাণীটির জন্যও বিপজ্জনক হতে পারে। মায়ামির ঘটনায় একটি কচ্ছপের মৃত্যুর ঘটনাটি সেই ঝুঁকিই সামনে এনেছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)
আরটিভি/জেএমএ




