
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বাড়তে থাকায় পরিবারের মাসিক বাজার খরচ কমানো অনেকের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ঘরে রান্নার জন্য কেনা খাবারের দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
তবে কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে বাজার খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষ করে বাংলাদেশি পরিবারগুলো নিয়মিত কেনে এমন চাল, ডাল, মাংস, সবজি ও মসলার ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে কেনাকাটা করলে সাশ্রয় করা যেতে পারে।
১. কম দামের দোকান খুঁজে নিন
একই পণ্যের দাম সব দোকানে সমান নয়। দুধ, ডিম, চাল, সবজি ও মাংসের মতো নিয়মিত কেনা পণ্যের এককপ্রতি দাম বিভিন্ন দোকানে তুলনা করে কেনাকাটা করা ভালো।
২. দেশি দোকানের দামও তুলনা করুন
বাংলাদেশি বা অন্যান্য দেশি খাবারের দোকানে শাক, করলা, কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজির দাম তুলনা করে দেখতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে এসব দোকানে বড় দোকানের চেয়ে দাম কম হতে পারে।
৩. সদস্য কার্ড ও ছাড়ের সুবিধা নিন
অনেক গ্রোসারি দোকানে সদস্য কার্ড বা মোবাইল সুবিধার মাধ্যমে বিশেষ দাম, কুপন ও ছাড় দেওয়া হয়। বাজারে যাওয়ার আগে সপ্তাহের ছাড়গুলো দেখে নিলে অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার প্রবণতাও কমে।
৪. মাংস বড় প্যাকেটে কিনে ভাগ করে রাখুন
পরিবারে নিয়মিত মাংস খাওয়া হলে তুলনামূলক বড় প্যাকেট কিনে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাগ করে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। তবে কেনার আগে প্রতি পাউন্ডের দাম, পরিবারের চাহিদা এবং ফ্রিজে জায়গা আছে কি না—এসব হিসাব করা জরুরি।
৫. সরকারি খাদ্য সহায়তার যোগ্যতা যাচাই করুন
আয় ও পারিবারিক পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সম্পূরক পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি এবং নারী, শিশু ও নবজাতকের পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি। এসব সুবিধা পেতে আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়।
৬. সপ্তাহের খাবারের পরিকল্পনা করুন
সপ্তাহের শুরুতেই কোন দিন কী রান্না হবে এবং ঘরে কী কী আছে, তা দেখে বাজারের তালিকা তৈরি করুন। একই উপকরণ দিয়ে একাধিক দিনের খাবার তৈরি করলে অপচয় ও অতিরিক্ত কেনাকাটা কমানো সম্ভব।
৭. স্থানীয় খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের সুবিধা নিন
যোগ্য হলে স্থানীয় খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র থেকেও বিনা মূল্যে খাদ্যসামগ্রী পাওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা ও বিতরণের নিয়ম আলাদা।
৮. প্যাকেটের দাম নয়, এককপ্রতি দাম দেখুন
চাল, ডাল, লবণ, মসলা, টিস্যু ও অন্যান্য শুকনা পণ্য কেনার সময় শুধু প্যাকেটের দাম দেখলে হবে না। প্রতি আউন্স, পাউন্ড বা এককপ্রতি দাম তুলনা করলে কোন পণ্যটি প্রকৃতপক্ষে সস্তা, তা সহজেই বোঝা যায়।
৯. ছাড়ের খাবার কেনার আগে তারিখ ও মান দেখুন
খাবারের গায়ে থাকা তারিখ দেখেই সেটিকে নষ্ট মনে করা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক খাবারের তারিখ মূলত খাবারের মান বা গুণগত অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। তবে খাবার কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পচন বা নষ্ট হওয়ার কোনো লক্ষণ আছে কি না, তা অবশ্যই দেখতে হবে।
মাংস ও মুরগির ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কাঁচা কিমা করা মাংস ও মুরগি সাধারণত ফ্রিজে এক থেকে দুই দিন রাখা যায়। কিছু ধরনের গোশত তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত রাখা যায়। দীর্ঘ সময় রাখতে হলে ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা নিরাপদ পদ্ধতি।
১০. অর্থ ফেরত বা পুরস্কারের সুবিধা বুঝে ব্যবহার করুন
বৈধ অর্থ ফেরত বা পুরস্কারভিত্তিক কর্মসূচি ব্যবহার করে কিছুটা সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে শুধু ছাড় বা অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য প্রয়োজনের বাইরে পণ্য কেনা উচিত নয়। এতে বরং মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশি পরিবারের জন্য চাল, ডাল ও অন্যান্য শুকনা পণ্য বড় প্যাকেটে কেনার সময়ও সতর্ক থাকা জরুরি। বড় প্যাকেট সবসময় সস্তা হয় না। তাই ছোট ও বড় প্যাকেটের এককপ্রতি দাম তুলনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।
স্কুলগামী শিশু থাকলে স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বিনা মূল্যে বা কম দামে স্কুলের খাবার পাওয়ার সুযোগ আছে কি না, সেটিও যাচাই করা যেতে পারে। তবে এ সুবিধার নিয়ম ও যোগ্যতা এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে।
তবে বাজার খরচ কমিয়ে মাসে নির্দিষ্ট ১৫০ থেকে ২৫০ ডলার বা বছরে ২ হাজার ৭৬০ ডলার সাশ্রয় হবেই—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বসবাসের শহর, খাবারের ধরন, কোন দোকান থেকে কেনাকাটা করা হচ্ছে এবং মোট কেনাকাটার পরিমাণের ওপর সাশ্রয়ের অঙ্ক নির্ভর করে।
তাই সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো গত কয়েক মাসের বাজার খরচের হিসাব রেখে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী খরচের সঙ্গে তা তুলনা করা। এতে নিজের পরিবারের জন্য কোন কৌশল সবচেয়ে বেশি কাজে দিচ্ছে, তা সহজেই বোঝা যাবে।
আরটিভি/জেএমএ




