
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অনেক পরিবার রান্নার সুবিধার জন্য বাড়ির গ্যারাজে অতিরিক্ত চুলা বসিয়ে থাকেন। বিশেষ করে তেল-মসলা দিয়ে রান্না বা ভাজাপোড়া করার জন্য অনেকে গ্যারাজে আলাদা রান্নার ব্যবস্থা করেন। তবে গ্যারাজে চুলা বসানো বা সেটিকে রান্নাঘরে রূপান্তর করার আগে স্থানীয় আইন ও অনুমতির নিয়ম জানা জরুরি। কারণ নিয়ম না মেনে এমন পরিবর্তন করলে নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জরিমানা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্যারাজে রান্নার ব্যবস্থা নিয়ে সারা দেশের জন্য একক কোনো নিয়ম নেই। শহর, কাউন্টি ও অঙ্গরাজ্যভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে। তবে গ্যারাজে স্থায়ীভাবে চুলা বসানোর সঙ্গে গ্যাস বা প্রোপেনের সংযোগ, বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির লাইন, ধোঁয়া বের করার ব্যবস্থা কিংবা ভবনের কাঠামোগত পরিবর্তন যুক্ত হলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও পরিদর্শনের প্রয়োজন হতে পারে।
অনেকে আলাদা গ্যাসের লাইন না নিয়ে বহনযোগ্য প্রোপেনের সিলিন্ডার ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে বিষয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না। চুলাটি ওই জায়গায় ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কি না, সিলিন্ডার কোথায় রাখা যাবে, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা আছে কি না এবং অগ্নিনিরাপত্তা ঠিক আছে কি না—এসব বিষয়ও স্থানীয় নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তা বিধির আওতায় পড়তে পারে।
বিশেষ করে বাইরে ব্যবহারের জন্য তৈরি প্রোপেনের চুলা গ্যারাজের ভেতরে নিয়মিত রান্নার কাজে ব্যবহার করা যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
নিউইয়র্ক শহরেও রান্নাঘর সংস্কারের কাজের ধরন অনুযায়ী অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। গ্যাসের পাইপ পরিবর্তন, নতুন বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির পাইপের কাজ কিংবা ভবনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মতো কাজে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া নির্মাণ করলে জরিমানা বা আইনভঙ্গের অভিযোগে পড়তে হতে পারে।
গ্যারাজে রান্নার ক্ষেত্রে অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক ভবনে আগুন লাগার অন্যতম প্রধান কারণ রান্না। বিশেষ করে তেল ও চর্বি দিয়ে রান্নার সময় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। গ্যারাজে গাড়ি, জ্বালানি ও অন্যান্য দাহ্য জিনিসপত্র থাকায় সেখানে রান্নার আগুন আরও বড় বিপদ তৈরি করতে পারে।
বাড়ির বিমার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। অনুমতি ছাড়া ভবনে পরিবর্তন করা হলে কিংবা বিমার শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক রান্নার ব্যবস্থা থাকলে ভবিষ্যতে আগুন বা অন্য কোনো ক্ষতির ঘটনায় বিমার অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে শুধু গ্যারাজে চুলা থাকার কারণে সব ক্ষেত্রে বিমার খরচ বেড়ে যাবে বা ক্ষতিপূরণের দাবি বাতিল হবে—এমন কোনো একক নিয়ম নেই। তাই আগে নিজের বিমা কোম্পানি বা প্রতিনিধির কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অন্য কেউ গ্যারাজে চুলা ব্যবহার করছেন দেখে নিজের বাড়িতেও একই ব্যবস্থা করা নিরাপদ বা বৈধ—এমনটা ধরে নেওয়া যাবে না। গ্যারাজে নিয়মিত রান্নার ব্যবস্থা করার আগে নিজের শহর বা কাউন্টির নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুমতির প্রয়োজন আছে কি না জেনে নেওয়া উচিত।
প্রয়োজন হলে অনুমতি নিয়ে এবং কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন সম্পন্ন করেই গ্যারাজে রান্নার ব্যবস্থা করা সবচেয়ে নিরাপদ। এতে একদিকে যেমন জরিমানা বা আইনগত জটিলতা এড়ানো সম্ভব, অন্যদিকে আগুনের ঝুঁকিও কমানো যায়।
আরটিভি/জেএমএ


