ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

একজন শিক্ষার্থীর জন্য দৈনিক ৫ কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যান শিক্ষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৬ এএম
শিক্ষক জীবন মিথারি ও শিক্ষার্থী স্বরা : ছবি সংগৃহীত

প্রতিদিন সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে শিক্ষার্থীদের আগে ছুটতে থাকেন শিক্ষকেরা। বেশির ভাগ শিক্ষক যখন গাড়ি বা গণপরিবহনে করে বিদ্যালয়ে যান, তখন ৫৫ বছর বয়সী জীবন মিথারিকে বেছে নিতে হয় ভিন্ন এক পথ।

এই শিক্ষককে প্রতিদিন ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। যাতায়াতের জন্য ভালো কোনো সড়ক নেই। পথে থাকে নানা ঝুঁকি। প্রবল বৃষ্টি, বন্য প্রাণীর আনাগোনা। তবু প্রতিদিন এই পথ পাড়ি দিতে হয় তাকে। তাও আবার শুধু একজন শিক্ষার্থীকে পড়ানোর জন্য।

মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর জেলার শিক্ষক জীবন মিথারি গত ১৩ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন কোলহাপুর-সিন্ধুদুর্গ সীমান্তের কাছে গগনবাওয়াড়া তালুকের প্রত্যন্ত জনপদ কাওয়ালটেক ধাঙ্গারওয়াড়ার জেলা পরিষদ বিদ্যালয়ে।

গ্রামটিতে বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যালয় পর্যন্ত কোনো যানবাহনও যেতে পারে না। নিকটতম সড়ক থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। তাই প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে আড়াই কিলোমিটার এবং ফিরতেও একই দূরত্ব হাঁটতে হয় তাকে।

মিথারি বলেন, ২০১৩ সালের ২৬ জুলাই এখানে যোগ দিয়েছিলাম। এরপর থেকে এখানেই কাজ করে যাচ্ছি।

একসময় এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ভালোই ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে অনেক পরিবার জীবিকার ভালো সুযোগের সন্ধানে কোলহাপুর শহরে চলে যায়। কমতে থাকে গ্রামের জনসংখ্যা। একইসঙ্গে কমে যায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।

এখন বিদ্যালয়টিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বরা বোদাকে ছাড়া আর কেউ নেই। স্বরার ছোট বোনও এই বিদ্যালয়ে ক্লাস করে তবে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী নয়।

প্রত্যন্ত এই বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত মিথারির জন্য সহজ ছিল না। এর আগে তিনি কোলহাপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার কয়েকজন সহকর্মী বলেছিলেন, প্রভাবশালী পদে থাকা ব্যক্তিরা সাধারণত তুলনামূলক আরামদায়ক কর্মস্থল বেছে নিতে পারেন। অন্যদিকে কঠিন ও দুর্গম জায়গাগুলোতে কাজ করতে হয় অন্যদের।

মিথারি সেই চ্যালেঞ্জই গ্রহণ করেন। প্রত্যন্ত বিদ্যালয়টিতে পোস্টিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নিয়েছিলেন। তাই শিক্ষার্থীর সংখ্যা মিথারির কাছে বড় বিষয় নয়। তিনি বলেন, একজন শিশুই যদি থাকে, তবু আমাকে আমার কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

জীবন মিথারির প্রতিদিনের বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথটিও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এই এলাকায় গাউর ও চিতাবাঘের মতো বন্য প্রাণী রয়েছে। পথে মিথারি গাউরের মুখোমুখি হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, তা তাকে শিখিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ ছাড়া গবাদিপশুর ওপর হামলার পর গ্রামের কাছেই একটি চিতাবাঘকেও দেখা গেছে।

মিথারি স্বীকার করেন, কখনো কখনো তার ভয় লাগে। তবে প্রতিদিনের এই পথচলা এখন তার জীবনের নিয়মিত অংশ হয়ে গেছে।

তার কাছে শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়। প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরাও যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করাকে নিজের দায়িত্ব মনে করেন তিনি। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই একজন শিক্ষার্থীকে পড়াতে প্রতিদিন প্রায় ৫ কিলোমিটার দুর্গম পথ পাড়ি দেন ৫৫ বছর বয়সী জীবন মিথারি।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গুলি করে সেনাবাহিনীর মেজরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে অনুমোদন ট্রাম্পের
ফোর্ট হুডে ১৩ সেনাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির সামরিক বাহিনীতে এই পদ্ধতিতে এটিই হবে প্রথম মৃত্যুদণ্ড।
গুলি করে সেনাবাহিনীর মেজরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে অনুমোদন ট্রাম্পের
দুই নৌকার ভয়াবহ সংঘর্ষে কঙ্গোতে নিহত ৩০
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) কঙ্গো নদীতে দুই নৌকার সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
দুই নৌকার ভয়াবহ সংঘর্ষে কঙ্গোতে নিহত ৩০
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় বিমানবন্দর দুটির বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা
ইমরান খানের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তান সরকারের কড়া সমালোচনা করলেন রবি শাস্ত্রি
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খান। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পাকিস্তান সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। এবার সেই তালিকায় যোগ দিয়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও জনপ্রিয় ক্রিকেট বিশ্লেষক রবি শাস্ত্রি। তার মতে, রাজনৈতিক বিষয় বাদ দিলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। সম্প্রতি  রিপাবলিক ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। রবি শাস্ত্রি বলেন, ইমরানের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই তার প্রাপ্য নয়। শাস্ত্রির মতে, ইমরান শুধু পাকিস্তানের একজন রাজনৈতিক নেতা নন, ক্রিকেটবিশ্বেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। ইমরানের সুস্বাস্থ্য কামনা করে শাস্ত্রি বলেন, ক্রিকেটে তার অবদান অসাধারণ। ইমরানকে নিজের দেখা অন্যতম সেরা নেতা হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।  তরুণদের অনুপ্রাণিত করা এবং তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ইমরানের অসাধারণ দক্ষতা ছিল বলে মন্তব্য করেন শাস্ত্রি। তার নেতৃত্বেই তুলনামূলক তরুণ একটি পাকিস্তান দল ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল—সেটিও স্মরণ করেন তিনি। ইমরান কবে কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন, এমন প্রশ্নে শাস্ত্রি আশা প্রকাশ করেন, তিনি দ্রুতই বেরিয়ে আসবেন এবং এরপর তার সঙ্গে আরও ভালো আচরণ করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা ইমরানের অবস্থাকে অমানবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।  ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে রাজনীতিতে যোগ দেন পাকিস্তানের ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আছেন ইমরান।  দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় তাকে একাধিক মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ইমরান ও তার দল এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। কারাগারে থাকা অবস্থায় ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।  তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে গত আগস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দেন ২১ জন সাবেক অধিনায়ক। এর আগে ফেব্রুয়ারিতেও ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক একই দাবিতে সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের হয়ে ইমরান খান ৮৮টি টেস্ট ও ১৭৫টি ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান খান। ক্রিকেট ইতিহাসে পাকিস্তানের অন্যতম সেরা অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার হিসেবে তার অবস্থান এখনো অমলিন। আরটিভি/এসআর
ইমরান খানের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তান সরকারের কড়া সমালোচনা করলেন রবি শাস্ত্রি
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ান বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন।  মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ১৯৪৪ সালে বেলজিয়ামের টিনেন শহরে জন্মগ্রহণ করেন হালজেন। বেলজিয়ামের কে ইউ লিউভেন থেকে ১৯৬৯ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন এই বিজ্ঞানী। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস জানিয়েছে, ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’তে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করার ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে হালজেনকে এ বছরের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ মেরুর বরফকে কাজে লাগিয়ে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণার অন্যতম পথিকৃৎ হালজেন। তার এই চিন্তাই পরবর্তী সময়ে ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ তৈরির ভিত্তি তৈরি করে।  প্রায় এক ঘনকিলোমিটার আয়তনের বিশাল বরফস্তরের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য আলোকসংবেদী সেন্সর। এসব যন্ত্রের সাহায্যে মহাবিশ্বের দূরবর্তী শক্তিশালী বিভিন্ন উৎস থেকে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করা হয়। ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণা সামনে আনেন হালজেন। কোনো নিউট্রিনো যখন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, তখন সেখানে ক্ষীণ আলোর ঝলক তৈরি হতে পারে। দক্ষিণ মেরুর স্বচ্ছ ও গভীর বরফে স্থাপিত সংবেদনশীল সেন্সরের সাহায্যে সেই আলোর সংকেত শনাক্ত করা সম্ভব। গবেষণার জন্য দক্ষিণ মেরুর বরফকে উপযোগী করে তোলে এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বাইরের নানা ধরনের প্রভাব থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত এই বিশাল বরফস্তর এবং ওই অঞ্চলের ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা গবেষণার জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করে। হালজেনের ধারণা তাই পরবর্তী সময়ে অন্য গবেষকদের সমর্থন পায় এবং দক্ষিণ মেরুতে সেন্সর স্থাপনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হয়। উল্লেখ্য, ১৯০১ সাল থেকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই বিভাগে ১১৯ বার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে সবচেয়ে কম বয়সী নোবেলজয়ী হিসেবে পদার্থবিজ্ঞানের পুরস্কার পেয়েছিলেন লরেন্স ব্র্যাগ। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বয়সে এই পুরস্কার পাওয়া বিজ্ঞানী আর্থার আসকিন। ২০১৮ সালে ৯৬ বছর বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল অর্জন করেন তিনি। আরটিভি/এসআর
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
আরও পড়ুন
বদরুন্নেসা কলেজে নানা আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন
নতুন পে-স্কেলের মধ্যেই প্রাইমারির প্রধান শিক্ষকদের বেতন বাড়াল সরকার
মরণোত্তর ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ পেলেন জামাল নজরুলসহ চবির আরও দুই অধ্যাপক
সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ে বড় সুখবর