ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বর্জ্য হিসেবে ফেলা হয় ১২ হাজার টন কমলার খোসা, ১৬ বছর পর ‘চোখ ছানাবড়া’ বিজ্ঞানীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

জায়গাটি ছিল অনুর্বর। ঘাস আর পাথরে ভরা। এ ছাড়া তেমন কিছুই ছিল না। সেই জায়গায় ১২ হাজার টন কমলার খোসা ও কমলার পাল্প ফেলে রেখেছিল একটি প্রতিষ্ঠান। ১৬ বছর পর সেখানে গিয়ে বিজ্ঞানীরাও অবাক হয়েছিলেন।

ঘটনাটি মধ্য আমেরিকার দেশ কোস্টারিকার একটি জাতীয় উদ্যানের।

গবেষকেরা পরে দেখতে পান, যে তিন হেক্টর জমিতে কমলার খোসা ফেলা হয়েছিল, সেখানে গাছের বায়োমাস (একটি এলাকায় থাকা গাছপালার মোট ভর) বেড়েছিল ১৭৬ শতাংশ।

শুধু তাই নয়, সেখানে মাটির গুণমান, গাছের বৈচিত্র্য এবং বনের ঘনত্ব, সবই পাশের জমির চেয়ে তুলনামূলক বেশি ছিল। কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এমনটা?

কমলার খোসা থেকেই শুরু
১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের কথা। কোস্টারিকার উত্তর সীমান্তে তখন কমলার জুস তৈরির কারখানা চালু করেছে ডেল অরো নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

পরিবেশবিদ ড্যানিয়েল জানজেন ও উইনি হলভাক্স তখন কোস্টারিকার গুয়ানাকাস্তে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কাজ করছিলেন। তারা ডেল অরোকে একটি প্রস্তাব দেন।

প্রতিষ্ঠানটি যদি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জন্য কিছু বনভূমি দান করে, তাহলে জাতীয় উদ্যানের ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে তাদের কমলার খোসা ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য ফেলার সুযোগ দেওয়া হবে। সেখানে সেসব ধীরে ধীরে পচে মাটির সঙ্গে মিশে যাবে।

প্রস্তাবটিতে রাজি হয় ডেল অরো। ১৯৯৭ সালের চুক্তির পর প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কমলার খোসা ও পাল্প ট্রাকে করে নিয়ে গিয়ে অনুর্বর জমিটিতে ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু বছর না ঘুরতেই শুরু হয় আইনি ঝামেলা।

ডেল অরোর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান টিকোফ্রুট অভিযোগ করে, জাতীয় উদ্যানে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলে জায়গাটি ‘নষ্ট’ করা হয়েছে।

মামলাটি শেষ পর্যন্ত কোস্টারিকার সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আদালত টিকোফ্রুটের পক্ষে রায় দেন। এরপর প্রায় ১৫ বছর জায়গাটির কথা তেমন কেউ মনে রাখেনি।

২০১৩ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টিমোথি ট্রয়ের পরিবেশবিদ ড্যানিয়েল জানজেনের সঙ্গে গবেষণার সম্ভাব্য বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন। তখনই উঠে আসে সেই পুরোনো কমলার খোসার জায়গাটির কথা। ট্রয় সেখানে গিয়ে যা দেখলেন, তা তার কল্পনার চেয়েও বেশি চমকপ্রদ।

জায়গাটি এতটাই ঘন গাছপালা ও লতায় ঢেকে গিয়েছিল যে রাস্তার পাশের প্রায় ৭ ফুট লম্বা উজ্জ্বল হলুদ সাইনবোর্ডটিও গাছের আড়ালে পড়ে গিয়েছিল, কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।

পাশের জমির সঙ্গে তুলনা
গবেষকেরা এবার জানতে চাইলেন, কমলার খোসা আসলেই কি এই পরিবর্তনের কারণ? তারা কমলার খোসা ফেলা জমি এবং রাস্তার অপর পাশে থাকা একই রকম একটি জমির মধ্যে তুলনা করেন।

গবেষকেরা দুই জায়গায় গাছের সংখ্যা, গাছের আকার ও প্রজাতি পরিমাপ করেন। মাটির নমুনাও সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। ফলাফল ছিল স্পষ্ট।

কমলার খোসা ফেলা জমির মাটি ছিল বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ। সেখানে গাছের বায়োমাস বেশি, গাছের প্রজাতিও বেশি এবং বনের ওপরের সবুজ ছাউনিও ছিল বেশি ঘন।

অর্থাৎ যে বর্জ্য একসময় ছিল একেবারেই ফেলনা, সেটিই ধীরে ধীরে অনুর্বর জমিকে আবার সবুজ করে তুলেছিল।

প্রিন্সটনের গবেষকদের এই গবেষণা প্রকাশিত হয় ‘রেস্টোরেশন ইকোলজি’ সাময়িকীতে। গবেষণাটির অন্যতম লেখক টিমোথি ট্রয়ের মতে, কৃষি ও খাদ্যশিল্পের বর্জ্য ব্যবহার করে বন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব, এমন উদাহরণ খুব বেশি নেই।

এই ঘটনা আরও একটি বিষয় প্রমাণ করে। খাদ্য তৈরির সময় যে অংশটুকু আমাদের কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়, প্রকৃতির কাছে সেটি কখনো কখনো মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

প্রিন্সটনের পরিবেশবিদ ডেভিড উইলকোভের ভাষায়, মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি করতে গিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় পরিবেশগত সমস্যাও তৈরি করে। তবে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করা মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে সেই সমস্যার কিছুটা সমাধানও করা সম্ভব।

সূত্র: প্রিন্সটন ডটএডু

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পছন্দের পুরুষকে পেতে ১০০ ফুট উঁচু টাওয়ারে উঠে গেলেন তরুণী, অতঃপর...
পছন্দের পুরুষকে মেনে নিচ্ছিলো না পরিবার। তাই তাকে পাওয়ার জন্য অদ্ভুত এক কাণ্ড ঘটিয়ে বসেছেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। বিয়েতে পরিবারের সম্মতি আদায়ে চড়ে বসেন প্রায় ১০০ ফুট উঁচু এক মোবাইল নেটওয়ার্কের টাওয়ারে। আর ওই অবস্থাতেই ভিডিও কলে পছন্দের সেই পুরুষকে বিয়ে করে ক্ষান্ত হন তিনি।   চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশে বাহরাইচ জেলায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়েছে রোমাঞ্চকর এই বিয়ের ঘটনা।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণীর নাম সাহিবা বেগম, ডাক নাম মেহেক। নূরুদ্দিন নামে ২১ বছর বয়সী এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল তার। কিন্তু কোনোভাবেই এই সম্পর্ক মেনে নিচ্ছিল না মেহেকের পরিবার। সবশেষ মায়ের সঙ্গে তর্কের পর ১০০ ফুট উঁচু ওই টাওয়ারটিতে উঠে পড়েন তিনি। ঘটনার সময় প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে মুম্বাইয়ে কাজ করছিলেন নূরুদ্দিন। পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্যরা মিলে মেহেককে নিরাপদে নিচে নামানোর চেষ্টা করলেও তিনি প্রায় চার ঘণ্টা টাওয়ারে অবস্থান করেন। বিয়ের দাবি পূরণ না হলে টাওয়ার থেকে লাফ দেওয়ার হুমকিও দেন মেহেক। খবর পেয়ে নারী পুলিশ সদস্যসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নূরুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুই পরিবারের বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ভিডিও কলের মাধ্যমে স্থানীয় এক মুসলিম ধর্মীয় নেতা তাদের নিকাহ সম্পন্ন করেন। নূরুদ্দিন মুম্বাই থেকে ভিডিও কলে এই বিয়েতে অংশ নেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর মেহেক টাওয়ার থেকে নামতে রাজি হন। পরে নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে নিরাপদে নিচে নামতে সহায়তা করেন। আর এর মধ্য দিয়ে চরম উত্তেজনাপূর্ণ এক পরিস্থিতির অবসান ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলা হয়, ঘটনার পরে মেহেক ও তার পরিবারের সদস্যদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর মেহেককে মায়ের সঙ্গে বাড়িতে পাঠানো হয়। আরটিভি/এসএইচএম  
পছন্দের পুরুষকে পেতে ১০০ ফুট উঁচু টাওয়ারে উঠে গেলেন তরুণী, অতঃপর...
স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর... 
ভারতে বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সি এক তরুণী। স্বামী বাইক রাখতে কিছু দূরে গেলে প্রেমিকের বাইকে চড়ে সেখান থেকে চলে যান তিনি। 
স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর... 
পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সিন্ধু প্রদেশের থারপারকার জেলায় মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে।
পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯
‘নানি’ হলো ৯ শাবক জন্ম দেওয়া থাইল্যান্ডের সেই বাঘিনী
চোরাশিকার ও আবাসস্থল সংকটের কারণে দীর্ঘদিন হুমকিতে থাকা থাইল্যান্ডের বাঘের সংখ্যা বেড়ে ২১০ থেকে ২৫৭টিতে দাঁড়িয়েছে। দেশটির বাঘ সংরক্ষণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মায়ে কায়েও নামে একটি বাঘিনী। তিন দফায় ৯টি শাবকের জন্ম দেওয়া বাঘিনীটি এবার নানি হয়েছে। তার একটি মেয়ে বাঘও শাবকের জন্ম দিয়েছে।
‘নানি’ হলো ৯ শাবক জন্ম দেওয়া থাইল্যান্ডের সেই বাঘিনী
সুপার এল নিনোর প্রভাবে ভারতে ৫৫ হাজার মৃত্যুর শঙ্কা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণতাজনিত আবহাওয়াগত ঘটনা ‘এল নিনো’ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সুপার এল নিনোর প্রভাবে ভারতে ৫৫ হাজার মৃত্যুর শঙ্কা
আরও পড়ুন
মহাকাশে প্রথম সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান, গবেষণায় নতুন মোড়
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
টানা চতুর্থবার বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ড. খালিদ, বাংলাদেশে পঞ্চম
টানা দুইবার বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় কুবি শিক্ষক শফি উল্যাহ্