
দেশ ভাগ চাই না,বাংলা ভাগ চাই না, জয় বাংলা স্লোগানে টানা তিনদিন ধরে এনআরসি ও ক্যাবের প্রতিবাদে মিছিল করছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আজও হাওড়া ময়দান থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করেছেন তিনি। এদিন কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মমতা ব্যানার্জীর মিছিলে একই মঞ্চে সামিল হয়েছেন। প্রতিদিনের মতোই আজও শপথ পড়ান মমতা এবং বাউল গান দিয়ে মিছিলের স্লোগান ঠিক করে দেন।
শুক্রবার পার্ক সার্কাসে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। গতকাল ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন- ভোটার কার্ড, আধার কার্ড নাগরিকত্ব পরিচয় বহন করে না। এই বক্তব্যর তীব্র প্রতিবাদ জানান মমতা এবং নতুন কর্মসূচির ডাক দেন।
তৃণমূলের সুপ্রিমো বলেন, হিংসা চাই না বলেই পথে নেমেছি। গণতান্ত্রিক আন্দোলন বোমা, বুলেটে হয় না। গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয় পথে নেমে। যে বিজেপি করে সে ভারতীয় নাগরিক, আর যে বিজেপি করে না সে ভারতীয় না? ব্যাঙ্গাত্মক সুরে মোদির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন মমতা।
এ প্রসঙ্গে বাবরি মসজিদের ইস্যু তুলে আনেন মমতা। তিনি বলেন, আমি যখন আজ রাস্তায় নেমেছি এর প্রতিবাদে, তখন পশ্চিমবঙ্গের জনগণ আমাকে সহায়তা করছেন। কিন্তু কিছু লোক এটার ভাগ করছেন।
অমিত শাহকে উদ্দেশ্যে করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন- আগুন জ্বালাবেন না, আগুন কেন জ্বলছে একাধিক রাজ্যে? আধার কার্ড যদি নাগরিকদের পরিচয় বহন না করে তবে কেন আধার সংযুক্তি করেছেন? ক্যাবের আইন সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক প্রথা। এনআরসি, ক্যাব একটা ললিপপ বলেও মন্তব্য করেন মমতা।
আজকের মিছিলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত রয়েছেন। এদিকে আগামীকাল রাজা রাশমনি এভিনিউ থেকে মমতা নেতৃত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে ৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শেষে ২২ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা মনে করছেন, এই নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আরও মামলা দায়ের হতে পারে।
এ/পি




