ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

করোনাযুদ্ধে সবার ওপরে থাকা ৬ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই নারী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৪৮ পিএম
সংগৃহীত

তখন সবেমাত্র মারণ ভাইরাস করোনা বিশ্বে সাম্রাজ্য তৈরির আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্চ মাসের শুরুর দিকে। যে সময়টায় নারী দিবস উদযাপন করে বিশ্ব। আর ঠিক সেই সময়েই বিশ্বের যে গুটিকয়েক দেশগুলোতে নারী প্রধানমন্ত্রীরা রয়েছেন, তারা করোনা রুখতে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া শুরু করে দেন। খবর এই সময়ের।

করোনা মোকাবিলায় প্রথম সারির সফল কিছু দেশের মধ্যে রয়েছে নারী নেতৃত্ব থাকা এসব দেশ। আর সেই দেশগুলো হলো- জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং ডেনমার্ক। এই দেশগুলোর মধ্যে করোনার হানায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হয়েছিল ডেনমার্কের। কিন্তু সেই ডেনমার্কও শক্ত হাতে করোনার মোকাবিলা করে আজ প্রায় সংক্রমণ রুখেই দিয়েছে দেশে।

আসুন একবার দেখে নেয়া যাক, করোনা মোকাবিলায় এই ছয় দেশের প্রধানমন্ত্রীদের অনস্বীকার্য অবদান।

নিউজিল্যান্ড:

দেশে সন্ত্রাসী হামলার সময়ই বিশ্বজোড়া খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছিলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। জেসিন্ডার সেই নিউজিল্যান্ডই পুরো বিশ্বের কাছে করোনা মোকাবিলায় যেন অন্য এক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। যেমনই আক্রান্তের সংখ্যা কম, তেমনই কম মৃতের সংখ্যাও। গত শুক্রবার পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাটা ছিল এক হাজার ২৩৯। যার মধ্য়ে ৩১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরে গেছেন। সেই নিউজিল্যান্ডেই মঙ্গলবার আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৭২। সুস্থ হয়েছেন ৬২৮ জন। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেসিন্ডার দেশে ৯ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। দেশবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর আর্জি ছিল, অভিনয় করুন, যাতে মনে হয় আপনার শরীরে করোনাভাইরাস আছে। যে পদক্ষেপই এখন নেবেন, সেটা অন্য কারও কাছে ঝুঁকিপূর্ণ। আর সেই কারণেই পরিবার, বন্ধু, সন্তান, দাদা-দাদী, বাবা-মা-- নিকটস্থ সবার সঙ্গে তাই দেখা করা এখন বন্ধ। নিউজিল্যান্ডে কিন্তু এখনও লকডাউন চলছে।

জার্মানি:

মার্চ মাসের শুরুর দিকেই দেশবাসীকে সতর্ক করে অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলে দিয়েছিলেন, জার্মানির ৭০ শতাংশ মানুষ করোনা আক্রান্ত হবেন। তার হাতে গোনা এক সপ্তাহের মধ্যেই এক ডাক্তারের কাছ থেকে নিউমোকোকাল ভ্যাক্সিন নেন জার্মান চ্যান্সেলর। কিন্তু সেই ডাক্তারের শরীরেরই করোনা ধরা পড়ে। তারপরই নিজেকে কোয়ারেন্টিনে রাখেন মার্কেল। তবে জার্মানিতে শুরুর দিকে হু হু করেই বাড়ছিল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। যদিও সেই সংখ্যাটা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। আর সেই সংখ্যাটা কমানোর একমাত্র কারিগর মার্কেল নিজেই। গত শুক্রবার পর্যন্ত জার্মানিতে করোনা পজিটিভের সংখ্যা এক লাখ ১৮ হাজার। যার মধ্যে ৫২ হাজার ৪০৭ জন মানুষ সুস্থ হয়েছে। সেই সংখ্যাটাই ১৪ এপ্রিল আক্রান্তের হিসেবে এক লাখ ৩০ হাজার ৭২। মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ১৯৪ জনের। সুস্থ হয়েছে ৬৮ হাজার ২০০ জন।

বেলজিয়াম:

বেলজিয়ামের ১৮৯ বছরের ইতিহাসে প্রথম কোনও নারী প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসেন। প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন সোফি উইলমেস। তবে করোনার ধাক্কা সামলাতে প্রাথমিকভাবে হিমশিম খাচ্ছিলেন সোফি। ঝড়ের গতিতে করোনা সংক্রমণ শুরু হয়েছিল সে দেশে। ইতালি, স্পেনের পরই একটা সময়ে হু হু করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল বেলজিয়ামে। বাড়ছিল মৃতের সংখ্যাও। গত ১৪ মার্চ বেলজিয়ামের জাতীয় সুরক্ষা কাউন্সিল জরুরি অবস্থার ঘোষণা করেছিল পুরো দেশে। দেশের অর্থমন্ত্রী সে সময়ে জানিয়েছিলেন, দেশের ১০ লাখ মানুষকে অস্থায়ী বেকার বলা যেতে পারে। সবচেয়ে চমকে ওঠার মতো কাণ্ড ঘটে যখন বেলজিয়ামেই বিশ্বের প্রথম কোনও পোষ্য করোনা আক্রান্ত হয়। একটি বিড়ালের শরীরে মেলে করোনাভাইরাস। তবে এই মুহূর্তে চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে ঠিকই। তবে পাল্লা দিয়ে মৃতের সংখ্যা কমছে। এখন বেলজিয়ামে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা কমেছে ৫০ শতাংশ এবং সেরেওঠার প্রবণতা প্রায় ৬৭ শতাংশ। ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ হাজার ১১৯। মৃত্যু হয়েছে চার হাজার ১৫৭ জনের। আর পুরোপুরি সুস্থ হয়েছে ছয় হাজার ৮৬৮ জন।

ফিনল্যান্ড:

বিশ্বের সবচেয়ে কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী ফিনল্যান্ডেরই। সানা মারিনের ফিনল্যান্ডেও এখন করোনা সংক্রমণ খুবই কম। একই সঙ্গে মৃতের সংখ্যাও কমছে ফিনল্যান্ডে। অনেকটা আগেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ফিনল্যান্ডে করোনা সংক্রমণ শুরু হয়ে যায়। করোনাভাইরাসে সংক্রামিত বেশিরভাগ রোগীই দক্ষিণ ফিনল্যান্ডের। তাই রাজধানী হেলসিংকিসহ দক্ষিণ ফিনল্যান্ডকে সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল। অবস্থাটা এখনও ঠিক তাই। জানুয়ারির শেষদিকে উত্তর ফিনল্যান্ডের ল্যাপল্যান্ডে আগত ৩২ বছর বয়সী এক চীনা নারীর মধ্যে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়েছিল। সেই ফিনল্যান্ডেই এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ১৬১। সুস্থ হয়েছে ৩০০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৯ জনের। মে মাসের মাঝামাঝি সময় অবধি লকডাউন বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে সানা মারিনের দেশে।

আইসল্যান্ড:

করোনা সংক্রমণ রোধে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আইসল্যান্ড। পুরো বিশ্ব যখন মহামারি করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের পথ বেছে নিয়েছে। সেই সময়ে আইসল্যান্ড কিন্তু লকডাউনের রাস্তাতেই হাঁটেনি। বরং সংক্রমণ রুখতে দেশের ৪ লাখ মানুষের প্রায় সবাইকেই করোনার টেস্টিংয়ের আওতায় নিয়ে এসেছে এই দেশ। কিন্তু লকডাউন কেন নয়? তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আইসল্যান্ডের গবেষকরা দাবি করেছিলেন, লকডাউনের থেকেও ব্যাপক হারে টেস্টিং করোনার সংক্রমণ রোখার চাবিকাঠি হতে পারে। পাশাপাশিই তাদের আরও দাবি, টেস্টিংয়ের মাধ্যমেই একমাত্র করোনা সংক্রমণের আসল রূপরেখা ধরা সম্ভব। আর গবেষকদের দেখানো সেই পথে হেঁটেই আইসল্যান্ডে এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৭১১। মৃত আটজন এবং সুস্থ হয়েছে ৯৩৩ জন। আর আইসল্যান্ডে করোনার আঁচ আসতে না দেয়ার কারিগর অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী ক্যাটরিন জ্যাকবসডোটির।

ডেনমার্ক:

করোনা ঠেকাতে শুরু থেকেই তৎপরতা দেখিয়ে এসেছে ডেনমার্ক। গোটা দেশে লকডাউনের কারণে বেকারত্ব ঠেকাতে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফেডেরিক্সন ১৫ মার্চ একটি চুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন। কর্মীদের চাকরি যাওয়া বাঁচাতে দেশের ব্যবসায়ীদের মোটা অর্থ সাহায্যে করে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফেডেরিক্সনের বক্তব্য ছিল, আপনারা কর্মচারীদের দুই সপ্তাহের জন্যে ছুটিতে পাঠান তবে কাউকে বরখাস্ত করবেন না। আর তার এই বক্তব্য আর চুক্তির পেছনে যুক্তি ছিল, দেশের অর্থনীতিতে যেন ভাঁটা না পড়ে। অর্থনীতির পাশাপাশিই করোনা সংক্রমণ রোধেও জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ফেডেরিক্সন। এই মুহূর্তে ডেনমার্কে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছয় হাজার ৪৬৯। মৃত্যু হয়েছে ২৮৫ জনের আর সুস্থ হয়েছে দুই হাজার ২৩৫ জন।

এ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
নতুন বছরের শুরু থেকে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকবে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় হাইকমিশন। হাইকমিশনের দূতাবাস প্রধান রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশটির সরকারি বিধি-নিষেধ অনুযায়ী কুয়ালালামপুরের আম্পাং শাখার পাসপোর্ট অফিসের কার্যালয় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী রোববার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত সাময়িকভাবে সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম আরও বেগবান করার মাধ্যমে প্রত্যাশীদের সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, যারা অ্যাপয়ন্টমেন্ট নিয়ে রেখেছেন তাদের নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়। এক্ষেত্রে ১০ জানুয়ারির পর কাছাকাছি সময়ে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন পুনরায় নির্ধারণ করে যথাসময়ে অবহিত করা হবে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ২ ও ৩ জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ার জহুর বারু প্রদেশে পাসপোর্ট ডেলিভারি সেবার কার্যক্রম অব্যহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এফএ
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভারতের আসাম প্রদেশে ৭০০ মাদরাসাকে স্কুলে রূপান্তর করবে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি সরকার বলছে, মসজিদের ঈমামের চেয়ে ভারতে ডাক্তার, পুলিশ, আমলা ও শিক্ষক বেশি প্রয়োজন। তাই মাদরাসার সিলেবাসকে নিম্নমানের শিক্ষা আখ্যায়িত করে স্কুলে রূপান্তরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।  এই সংক্রান্ত একটি বিল বৃহস্পতিবার আসামের আইনসভায় পাস হয়েছে। আসামের শিক্ষামন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মা প্রাদেশিক আইনসভাকে জানিয়েছেন, নতুন বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৭০০ এর অধিক মাদরাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর গার্ডিয়ান। হেমন্ত বিশ্বাসের দাবি মাদ্রাসায় পার্থিব বা বৈষয়িক কোনো বিষয় পড়ানো হয় না। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট দেশে মোদি সরকারের মুসলিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ওয়াজেদ আলী চৌধুরী নামে কংগ্রেসের একজন আইনপ্রণেতা বলেন, ‘এটা মুসলিমদের শেকড় উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত।’ এফএ
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে বেশ কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে নিজেদের তৈরি করা ভয়ংকর অত্যাধুনিক চতুর্থ প্রজন্মের  যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থানডার ব্লক-৩ প্রদর্শন করলো পাকিস্তান। গেলো বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির বিমানবাহিনীর দূরবর্তী উচ্চ রাডার প্রযুক্তি ও ফায়ারিং ক্ষমতা সম্পন্ন ১৪টি যুদ্ধবিমান পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স হস্তান্তর করা হয়। পাকিস্তানের প্রভাবশালী মিডিয়া ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মুজাহিদ আনোয়ার খান জানান, জাতীয় বহরে দেশের ইতিহাসে এটি গুরুত্বর্পূণ মাইলফলক। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনী যখন আঞ্চলিক ভূখণ্ড লঙ্ঘন করে, সেসময় জেএফ-১৭ থানডার যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।   একই সঙ্গে পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উৎপাদন ও চীনা বিমান শিল্পের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন। এম
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
মহামারি করোনা ভাইরাসকে সাথে করেই পেছনে ফেলতে হচ্ছে আরও একটি বছর। শুরু হবে নতুন বছর। ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করার জন্য বিভিন্ন রকম রীতি রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অবাক করার বিষয় হল, বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের বর্ষবরণ উদযাপনের রীতি একদমই ব্যতিক্রম। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ উদযাপনের রীতিনীতি তুলে ধরা হল নিচে- ১. কলম্বিয়ায় খালি স্যুটকেস নিয়ে বেরিয়ে পড়া: দেশটির মানুষ ঘুরতে অনেক ভালোবাসেন। তাদের কাছে ভ্রমণ এতটাই পছন্দ যে, নতুন বছর উদযাপনেও তাদের প্রত্যাশা থাকে ঘুরতে যাওয়া। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাত ১২টা বাজলে কলম্বিয়ার মানুষ একটি খালি স্যুটকেস হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। বাড়ির চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন তারা। নতুন বছরের কোনো এক সময় এই খালি স্যুটকেস পূর্ণ হবে- এ আশাতেই পালন করেন এই রীতি। ২. জাপানে প্রাকৃতিক সাজসজ্জা : জাপানে নতুন বর্ষবরণ করাকে বলা হয় ‘ওশোগাতসু’। দেশটিতে এই উৎসবটি পরিবারের সাথে উদযাপন করা হয়। সেখানে পরিবারের সবাই একসাথে ঘরকে পরিষ্কার এবং সজ্জিত করে। এরপর তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য  প্রাকৃতিক সাজসজ্জা যেমন পাইন শাখা, বরই ফুল এবং বাঁশগুলি প্রস্তুত করতে থাকে। ৩. ইকুয়েডরে বিখ্যাতদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো : ইকুয়েডরের মানুষরা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তায় বের হয়ে ‘কুশপুত্তলিকা’ পুড়িয়ে থাকে। দেশের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় এবং অভিনয়শিল্পীসহ বিখ্যাত সকল ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়। আগামী বছর এ উদযাপন ভাগ্য ফেরাবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৪. চীনে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা : দেশটিতে নতুন বছরে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা হয়ে থাকে। দেশটিতে লাল রঙকে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। আর এভাবেই দেশটিতে বরণ করা হয় নতুন বছর। ৫. জার্মানিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয় সিসার টুকরায় : জার্মানিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য বছরের শেষ মুহূর্তে সবাই ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় মেতে উঠেন। ভাগ্য পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটিও ব্যতিক্রম। শুরুতে সিসার টুকরা গরম করে গলিয়ে তাতে পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করা হয়। পরে সিসার আকৃতি অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস জার্মানদের। সিসা হৃদয়ের মত হলে ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর মুকুটের মত হলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবেন- এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা। ৬. সুইজারল্যান্ডে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রাখা : দেশটির মানুষজনের নতুন বছর উদযাপন এক অদ্ভুত সাংস্কৃতির। তারা নতুন বছর উপলক্ষে না খেয়ে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রেখে দেয় এবং তাদের বিশ্বাস নতুন বছরে ঐশ্বর্য আসবে। ৭. লাতিন আমেরিকায় অন্তর্বাসের রঙের ওপর ভাগ্য নির্ধারণ : লাতিন আমেরিকার দেশ অর্থাৎ মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া ইত্যাদি দেশগুলোয় বছরের শেষ মুহূর্তে নতুন অন্তর্বাস কেনার জন্য সবাই মার্কেটে ভিড় জমায়। তাদের বিশ্বাস, বর্ষ বরণে নতুন অন্তর্বাস পড়নে থাকলে নতুন বছরে ভালো কিছু আসবে। তবে এই অন্তর্বাসের জন্য নির্দিষ্ট দুটি রঙও রয়েছে- লাল ও হলুদ রঙ। লাল পড়লে ভালোবাসা পাবে এবং হলুদ বয়ে আনবে সফলতা। ৮. ফিলিপাইনে অদ্ভুত খাবার খাওয়া : ফিলিপাইনে নতুন বর্ষবরণে সকল বয়সী মানুষ গোলাকার খাবার খায়। এছাড়াও তারা এদিন পকেটে মুদ্রা রাখে এবং প্রচুর পোশাক পড়েন। গোলাকার আকৃতি মূলত নতুন বছরে আর্থিক উৎসাহ বৃদ্ধি করবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৯. ইতালিতে ঘরের আসবাব ছুড়ে ফেলা: ইতালিতে নববর্ষে দেশটির নেপলস শহরবাসীরা উদ্ভটভাবে নতুন বর্ষকে বরণ করেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, তারা বছরের শেষ দিন ঘরের আসবাব, রান্নাঘরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলেন। পুরাতন সব কিছু ফেলে দিয়ে নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার প্রতীকী অর্থে এসব করেন ওই শহরের বাসিন্দারা। ১০. স্পেনে আঙুর খেয়ে বর্ষবরণ: স্পেনের নাগরিকদের বর্ষবরণ বলা যেতে পারে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ১২টি করে আঙুর খেয়ে থাকেন স্প্যানিশরা। নতুন বছরে উন্নতি হবে এমন আশায় নির্দিষ্ট-সংখ্যক আঙুর খাওয়ার রীতি পালন করে থাকেন তারা। ১৯০৯ সাল থেকে দেশটির আলিকান্তে শহরের ওয়াইন প্রস্তুতকারীরা ব্যতিক্রমী এই রীতি চালু করেন। যা এখনো প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে। এসআর/এমকে
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় রয়েছেন করোনা ভ্যাকসিনের টিকা প্রস্তুতকারী ফার্ম ও বোতলজাত পানি ব্যবসায়ী ঝং শানশান। ই–কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মাকে পেছনে ফেলেছে। ২০২০ সালেই ঝংয়ের সম্পদ বেড়েছে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। ঝং শানশানের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৭ হাজার ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার। সূত্র বিবিসি ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় ঝং শানশান। যিনি বিশ্বের ১১তম শীর্ষ ধনী। ঝং পরিচিত বেশি লোন উলফ নামে। ঝংয়ের কর্মজীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। সাংবাদিকতা, মাশরুমের চাষ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করেছেন তিনি। এপ্রিলে ভ্যাকসিন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনার তিন মাস পর হংকংয়ের শেয়ারবাজারে আনেন তার বোতলজাত পানির প্রতিষ্ঠান নোংফু স্প্রিংকে। ১৯৯৬ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশে এটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে নোংফুর শেয়ার। বেইজিং ওয়ানটাই বায়োলজিক্যালের শেয়ার বেড়েছে দুই হাজার শতাংশের বেশি। করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো এটি। ৬৬ বছর বয়সী ঝং শানশান সেপ্টেম্বরে জ্যাক মাকে সরিয়ে চীনের শীর্ষ ধনীর অবস্থান নেন। এবার মুকেশ আম্বানিকে সরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন। এফএ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
আরও পড়ুন
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
২০২১ সালকে স্বাগত জানালো নিউজিল্যান্ড
মানিকগঞ্জে পথচারীদের ২০ হাজার মাস্ক বিতরণ
সিনোফার্মের করোনা টিকা অনুমোদন দিলো চীন