ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফেসবুকের ট্রাম্প নীতির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের বিরল প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২০, ০৯:২৩ পিএম
এপি থেকে নেয়া

মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভকারীদের গুলি করার ইঙ্গিত দিয়ে করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পোস্ট রাখার ব্যাপারে ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করতে টুইটার ও ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ টুল ব্যবহার করছে ফেসবুকের কর্মীরা। খবর বার্তা সংস্থা এপির।

ট্রাম্প তার একটি টুইটে ‘লুটপাট শুরু হলে গুলি শুরু হয়’ এমন বাক্য ব্যবহার করার পর সেটি ফ্লাগ করে এবং ডিমোট করে টুইটার। কিন্তু ফেসবুক ট্রাম্পের ওই পোস্টের ব্যাপারে কিছু করেনি এবং শুক্রবার ফেসবুকে এক পোস্টে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন জাকারবার্গ।

জাকারবার্গ লিখেন, আমি জানি যে প্রেসিডেন্টের পোস্টটি কিছু না করায় অনেকে বিরক্ত হয়েছে, কিন্তু আমাদের অবস্থান হলো আমরা যতটা সম্ভব অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে দেবো যতক্ষণ পর্যন্ত এটি সুস্পষ্ট নীতিমালার মধ্যে নির্দিষ্ট ক্ষতি বা আসন্ন ঝুঁকি সৃষ্টি না করে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, যা ১৯৬০ এর দশকের পর ব্যাপকমাত্রায় বর্ণবাদী অস্থিরতা তৈরি করছে। হাতকড়া পরানো অবস্থায় একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি জর্জ ফ্লয়েডের ঘাড়ে একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার হাঁটু চেপে ধরার পর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে তার মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সহিংস সংঘর্ষ হয়েছে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি নাগরিক-অধিকার আন্দোলনের সময়ে ব্যবহৃত হওয়া একটি বাক্য, যা ১৯৬৭ সালে মিয়ামির পুলিশ প্রধান ব্যবহার করেছেন। কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় অস্থিরতার প্রেক্ষিতে পুলিশি আগ্রাসনের ব্যাপারে সতর্ক করতে গিয়ে এমন বাক্য ব্যবহার করেন মিয়ামির তৎকালীন পুলিশ প্রধান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেসবুকের সিনিয়র কর্মীদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্পের ওই পোস্টে হাত না দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফেসবুকের কয়েক ডজন কর্মী সোমবার ভার্চুয়াল ‘ওয়াকআউট’ করেন। খবরে বলা হয়, কয়েক ডজন ফেসবুক কর্মী ‘ফেসবুকের সিস্টেমে লগইন করে ডেঅফ নেয় এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করতে সময় চেয়ে অনুরোধ করে।’

কর্মীরা অন্যভাবেও তাদের হতাশা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ টুইটারে পোস্ট করেছেন। অনেকে আবার ম্যানেজারদের সঙ্গে কথা বলছে এবং কেউ কেউ ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নেটওয়ার্কে লিখছে।

ভার্চুয়াল হলেও ফেসবুকের ইতিহাসে এবারই প্রথম সংস্থাটির কর্মীরা ওয়াকআউট করেছে। অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, যেমন গুগল ও টুইটারের কর্মীদের তুলনায় সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টের কর্মীরা বরাবরই কম সরব ছিলেন।

ফেসবুকে প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টের একজন পরিচালক হিসেবে এক বছর ধরে কাজ করছেন জেসন টফ। তিনি এক টুইটে লিখেছেন, আমি ফেসবুকে কাজ করি এবং যেভাবে আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছি তাতে আমি গর্বিত। যেসব সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের অধিকাংশই একই ধরনের মানসিকতা পোষণ করে। আমরা আওয়াজ তুলেছি।

টফের ভ্যারিফাইড টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এমন টুইট করার পর তাতে এক লাখ ৩১ হাজার ৪০০ লাইক এবং হাজার হাজার রিটুইট হয়েছে। তবে সোমবার টফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকের ডিজাইন ম্যানেজার জেসন স্টিরম্যান এক টুইটে লিখেন, আমি জানি না কী করতে হবে, কিন্তু এটা জানি যে কিছু না করা গ্রহণযোগ্য নয়। আমি ফেসবুকের একজন কর্মী এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্ট যেগুলো স্পষ্টভাবে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে সেগুলোর ব্যাপারে কিছু না করার মার্কের (মার্ক জাকারবার্গ) সিদ্ধান্ততে আমি পুরোপুরি অসম্মতি জানাচ্ছি। ফেসবুকে কেবল আমিই একা নই। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কোনও নিরপেক্ষ অবস্থান নেই। সোমবার স্টিরম্যানের যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।

সংস্থাটির একজন প্রোডাক্ট ডিজাইনার সারা ঝ্যাং এক টুইটে লিখেন, সহিংসতা উসকে দেয় এমন পোস্টের ব্যাপারে কিছু না করার সিদ্ধান্ত আমাদের কমিউনিটিকে নিরাপদ রাখার অন্যান্য অপশন এড়িয়ে যাওয়ার মতো। এই নীতির ফলে গ্রাহকের ক্ষতিকারক কন্টেন্ট রাখা বা নামিয়ে ফেলার মতো দুটি উপায়ের সামনে এনে দাঁড় করায়।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি এটি স্ব-আরোপিত বাধ্যবাধকতা এবং এটি পুনরায় বিবেচনা করতে নেতৃস্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এ বিষয়ে কথা বলতে ঝ্যাংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে এ অস্বীকৃতি জানান।

ফেসবুকের মুখপাত্র লিজ বুর্জোয়া সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, এই মুহূর্তে আমরা আমাদের অনেক লোকের বিশেষত আমাদের কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায় কষ্ট অনুভব করছে তা আমরা বুঝতে পারছি। আমাদের নেতৃত্বের সঙ্গে একমত না হলেও আমরা আমাদের কর্মীদের প্রকাশ্যে কথা বলতে উৎসাহিত করি। আমরা কন্টেন্ট নিয়ে যে অতিরিক্ত কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হচ্ছি, সে বিষয়ে তাদের সৎ প্রতিক্রিয়া পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবো আমরা।

কর্মীদের উদ্বেগ নিয়ে জবাব দিতে নির্বাহীদের সঙ্গে মঙ্গলবার একটি সাপ্তাহিক প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করেছে ফেসবুক।

বর্ণবাদ রোধে কাজ করে এমন সংস্থাগুলোকে ১০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রোববার আবারও ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন জাকারবার্গ। তবে তার এই পোস্টেও তিনি ট্রাম্পের ওই পোস্টের উল্লেখ করেননি। এর পরিবর্তে ফ্লয়েডের মৃত্যুর ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে ফেসবুকের ভূমিকা হাইলাইট করেন তিনি।

জাকারবার্গ লিখেন, আমাদের জর্জ ফ্লয়েডের নাম জানতে হবে। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে মানুষজনকে নিরাপদ রাখতে এবং আমাদের সিস্টেম যাতে পক্ষপাতিত্বকে ফুটিয়ে না তোলে সেটা নিশ্চিত করতে আরও অনেক কাজ করতে হবে।

নিজের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ঐতিহাসিকভাবে জোরালো অবস্থান নিয়েছে টুইটার। এরই অংশ হিসেবে গত নভেম্বরে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন পুরোপুরি নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয় টুইটার।

এর আংশিক কারণ ফেসবুক, যেটি ব্যাপক অডিয়েন্সের সমন্বয়ে একটি অনেক বড় কোম্পানি, যারা তাদের আকার ও ক্ষমতার কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর টার্গেট হচ্ছে এবং তাদের হারানোরও আছে অনেক। এছাড়া কোম্পানিগুলোর সিইওরা অনেক সময়ই সমাজে তাদের ভূমিকার ব্যাপারে একমত হতে পারেন না।

সপ্তাহান্তে ‍টুইটার তাদের মূল টুইটার অ্যাকাউন্টের ব্যাকগ্রাউন্ড কালো থেকে তাদের স্বাভাবিক রঙ নীল ও লোগো পরিবর্তন করেছে। ব্লাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের সমর্থনে করা এই পরিবর্তনের পাশাপাশি তারা ব্লাক লাইভস ম্যাটার হ্যাশট্যাগও যোগ করেছে। ফেসবুকও তাদের সাইটে তাদের লোগোর সঙ্গে একই কাজ করেছে, তবে তারা কোনও হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেনি।

এ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
নতুন বছরের শুরু থেকে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকবে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় হাইকমিশন। হাইকমিশনের দূতাবাস প্রধান রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশটির সরকারি বিধি-নিষেধ অনুযায়ী কুয়ালালামপুরের আম্পাং শাখার পাসপোর্ট অফিসের কার্যালয় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী রোববার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত সাময়িকভাবে সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম আরও বেগবান করার মাধ্যমে প্রত্যাশীদের সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, যারা অ্যাপয়ন্টমেন্ট নিয়ে রেখেছেন তাদের নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়। এক্ষেত্রে ১০ জানুয়ারির পর কাছাকাছি সময়ে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন পুনরায় নির্ধারণ করে যথাসময়ে অবহিত করা হবে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ২ ও ৩ জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ার জহুর বারু প্রদেশে পাসপোর্ট ডেলিভারি সেবার কার্যক্রম অব্যহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এফএ
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভারতের আসাম প্রদেশে ৭০০ মাদরাসাকে স্কুলে রূপান্তর করবে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি সরকার বলছে, মসজিদের ঈমামের চেয়ে ভারতে ডাক্তার, পুলিশ, আমলা ও শিক্ষক বেশি প্রয়োজন। তাই মাদরাসার সিলেবাসকে নিম্নমানের শিক্ষা আখ্যায়িত করে স্কুলে রূপান্তরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।  এই সংক্রান্ত একটি বিল বৃহস্পতিবার আসামের আইনসভায় পাস হয়েছে। আসামের শিক্ষামন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মা প্রাদেশিক আইনসভাকে জানিয়েছেন, নতুন বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৭০০ এর অধিক মাদরাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর গার্ডিয়ান। হেমন্ত বিশ্বাসের দাবি মাদ্রাসায় পার্থিব বা বৈষয়িক কোনো বিষয় পড়ানো হয় না। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট দেশে মোদি সরকারের মুসলিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ওয়াজেদ আলী চৌধুরী নামে কংগ্রেসের একজন আইনপ্রণেতা বলেন, ‘এটা মুসলিমদের শেকড় উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত।’ এফএ
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে বেশ কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে নিজেদের তৈরি করা ভয়ংকর অত্যাধুনিক চতুর্থ প্রজন্মের  যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থানডার ব্লক-৩ প্রদর্শন করলো পাকিস্তান। গেলো বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির বিমানবাহিনীর দূরবর্তী উচ্চ রাডার প্রযুক্তি ও ফায়ারিং ক্ষমতা সম্পন্ন ১৪টি যুদ্ধবিমান পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স হস্তান্তর করা হয়। পাকিস্তানের প্রভাবশালী মিডিয়া ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মুজাহিদ আনোয়ার খান জানান, জাতীয় বহরে দেশের ইতিহাসে এটি গুরুত্বর্পূণ মাইলফলক। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনী যখন আঞ্চলিক ভূখণ্ড লঙ্ঘন করে, সেসময় জেএফ-১৭ থানডার যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।   একই সঙ্গে পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উৎপাদন ও চীনা বিমান শিল্পের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন। এম
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
মহামারি করোনা ভাইরাসকে সাথে করেই পেছনে ফেলতে হচ্ছে আরও একটি বছর। শুরু হবে নতুন বছর। ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করার জন্য বিভিন্ন রকম রীতি রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অবাক করার বিষয় হল, বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের বর্ষবরণ উদযাপনের রীতি একদমই ব্যতিক্রম। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ উদযাপনের রীতিনীতি তুলে ধরা হল নিচে- ১. কলম্বিয়ায় খালি স্যুটকেস নিয়ে বেরিয়ে পড়া: দেশটির মানুষ ঘুরতে অনেক ভালোবাসেন। তাদের কাছে ভ্রমণ এতটাই পছন্দ যে, নতুন বছর উদযাপনেও তাদের প্রত্যাশা থাকে ঘুরতে যাওয়া। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাত ১২টা বাজলে কলম্বিয়ার মানুষ একটি খালি স্যুটকেস হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। বাড়ির চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন তারা। নতুন বছরের কোনো এক সময় এই খালি স্যুটকেস পূর্ণ হবে- এ আশাতেই পালন করেন এই রীতি। ২. জাপানে প্রাকৃতিক সাজসজ্জা : জাপানে নতুন বর্ষবরণ করাকে বলা হয় ‘ওশোগাতসু’। দেশটিতে এই উৎসবটি পরিবারের সাথে উদযাপন করা হয়। সেখানে পরিবারের সবাই একসাথে ঘরকে পরিষ্কার এবং সজ্জিত করে। এরপর তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য  প্রাকৃতিক সাজসজ্জা যেমন পাইন শাখা, বরই ফুল এবং বাঁশগুলি প্রস্তুত করতে থাকে। ৩. ইকুয়েডরে বিখ্যাতদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো : ইকুয়েডরের মানুষরা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তায় বের হয়ে ‘কুশপুত্তলিকা’ পুড়িয়ে থাকে। দেশের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় এবং অভিনয়শিল্পীসহ বিখ্যাত সকল ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়। আগামী বছর এ উদযাপন ভাগ্য ফেরাবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৪. চীনে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা : দেশটিতে নতুন বছরে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা হয়ে থাকে। দেশটিতে লাল রঙকে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। আর এভাবেই দেশটিতে বরণ করা হয় নতুন বছর। ৫. জার্মানিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয় সিসার টুকরায় : জার্মানিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য বছরের শেষ মুহূর্তে সবাই ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় মেতে উঠেন। ভাগ্য পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটিও ব্যতিক্রম। শুরুতে সিসার টুকরা গরম করে গলিয়ে তাতে পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করা হয়। পরে সিসার আকৃতি অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস জার্মানদের। সিসা হৃদয়ের মত হলে ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর মুকুটের মত হলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবেন- এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা। ৬. সুইজারল্যান্ডে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রাখা : দেশটির মানুষজনের নতুন বছর উদযাপন এক অদ্ভুত সাংস্কৃতির। তারা নতুন বছর উপলক্ষে না খেয়ে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রেখে দেয় এবং তাদের বিশ্বাস নতুন বছরে ঐশ্বর্য আসবে। ৭. লাতিন আমেরিকায় অন্তর্বাসের রঙের ওপর ভাগ্য নির্ধারণ : লাতিন আমেরিকার দেশ অর্থাৎ মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া ইত্যাদি দেশগুলোয় বছরের শেষ মুহূর্তে নতুন অন্তর্বাস কেনার জন্য সবাই মার্কেটে ভিড় জমায়। তাদের বিশ্বাস, বর্ষ বরণে নতুন অন্তর্বাস পড়নে থাকলে নতুন বছরে ভালো কিছু আসবে। তবে এই অন্তর্বাসের জন্য নির্দিষ্ট দুটি রঙও রয়েছে- লাল ও হলুদ রঙ। লাল পড়লে ভালোবাসা পাবে এবং হলুদ বয়ে আনবে সফলতা। ৮. ফিলিপাইনে অদ্ভুত খাবার খাওয়া : ফিলিপাইনে নতুন বর্ষবরণে সকল বয়সী মানুষ গোলাকার খাবার খায়। এছাড়াও তারা এদিন পকেটে মুদ্রা রাখে এবং প্রচুর পোশাক পড়েন। গোলাকার আকৃতি মূলত নতুন বছরে আর্থিক উৎসাহ বৃদ্ধি করবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৯. ইতালিতে ঘরের আসবাব ছুড়ে ফেলা: ইতালিতে নববর্ষে দেশটির নেপলস শহরবাসীরা উদ্ভটভাবে নতুন বর্ষকে বরণ করেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, তারা বছরের শেষ দিন ঘরের আসবাব, রান্নাঘরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলেন। পুরাতন সব কিছু ফেলে দিয়ে নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার প্রতীকী অর্থে এসব করেন ওই শহরের বাসিন্দারা। ১০. স্পেনে আঙুর খেয়ে বর্ষবরণ: স্পেনের নাগরিকদের বর্ষবরণ বলা যেতে পারে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ১২টি করে আঙুর খেয়ে থাকেন স্প্যানিশরা। নতুন বছরে উন্নতি হবে এমন আশায় নির্দিষ্ট-সংখ্যক আঙুর খাওয়ার রীতি পালন করে থাকেন তারা। ১৯০৯ সাল থেকে দেশটির আলিকান্তে শহরের ওয়াইন প্রস্তুতকারীরা ব্যতিক্রমী এই রীতি চালু করেন। যা এখনো প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে। এসআর/এমকে
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় রয়েছেন করোনা ভ্যাকসিনের টিকা প্রস্তুতকারী ফার্ম ও বোতলজাত পানি ব্যবসায়ী ঝং শানশান। ই–কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মাকে পেছনে ফেলেছে। ২০২০ সালেই ঝংয়ের সম্পদ বেড়েছে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। ঝং শানশানের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৭ হাজার ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার। সূত্র বিবিসি ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় ঝং শানশান। যিনি বিশ্বের ১১তম শীর্ষ ধনী। ঝং পরিচিত বেশি লোন উলফ নামে। ঝংয়ের কর্মজীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। সাংবাদিকতা, মাশরুমের চাষ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করেছেন তিনি। এপ্রিলে ভ্যাকসিন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনার তিন মাস পর হংকংয়ের শেয়ারবাজারে আনেন তার বোতলজাত পানির প্রতিষ্ঠান নোংফু স্প্রিংকে। ১৯৯৬ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশে এটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে নোংফুর শেয়ার। বেইজিং ওয়ানটাই বায়োলজিক্যালের শেয়ার বেড়েছে দুই হাজার শতাংশের বেশি। করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো এটি। ৬৬ বছর বয়সী ঝং শানশান সেপ্টেম্বরে জ্যাক মাকে সরিয়ে চীনের শীর্ষ ধনীর অবস্থান নেন। এবার মুকেশ আম্বানিকে সরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন। এফএ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
আরও পড়ুন
সৌদির কাছে ৪৭৮ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র
সোমালিয়া থেকে ‘অধিকাংশ’ সেনা প্রত্যাহার করছেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয়ের কারণ জানালেন ইমরান খান
অবশেষে হোয়াইট হাউস ছাড়ার ঘোষণা ট্রাম্পের