ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কঙ্গোতে ইবোলা মহামারিতে প্রাণহানির সংখ্যা ছাড়াল ৩ হাজার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মধ্য আফ্রিকান দেশ গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে (ডিআরসি) প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে ছড়ানো এই মহামারিতে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই তিন হাজার অতিক্রম করেছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানের বরাতে বিশ্বখ্যাত তথ্য সংস্থাগুলো এই আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত করে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইবোলা আক্রান্ত হিসেবে মোট ৬ হাজার ১৮৬ জনকে শনাক্ত করা গেছে, যার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৭ জন। ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে বর্তমানে এটি কঙ্গোর ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ইবোলা ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক ইতিহাসেও এটিকে দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ইতুরি প্রদেশে এই প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দিলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রাদুর্ভাবের সূচনা মূলত গত জানুয়ারি মাসেই ঘটেছিল। কঙ্গো সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা বজায় থাকলেও ভাইরাসটি ইতিমধ্যে দেশের ছয়টি প্রদেশে বিস্তৃত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইবোলায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ শতাংশ মৃত্যুই ঘটছে কোনো ধরনের হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই। এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দুর্বল নজরদারি ব্যবস্থা, স্থানীয় নিরাপত্তা শঙ্কা এবং চিকিৎসায় অনীহা, যা শুরুতেই রোগী শনাক্ত ও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশাল প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া প্রজাতিটি হলো 'বুন্দিবুগিও'। এই সুনির্দিষ্ট ইবোলা প্রজাতির প্রতিরোধে শতভাগ কার্যকরী কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা টিকা উদ্ভাবিত হয়নি। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বর্তমানে কঙ্গোয় প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের 'এরভেবো' নামক একটি টিকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা যৌথভাবে বুন্দিবুগিও প্রজাতির প্রতিরোধী টিকা তৈরির দৌড় অব্যাহত রেখেছে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সোনার খনি ধসে সুদানে ৮২ জন নিহত
আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সোনার খনি ধসে অন্তত ৮২ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
সোনার খনি ধসে সুদানে ৮২ জন নিহত
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১
দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের মহাসড়কে একাধিক যানবাহনের (দু’টি মিনিবাস ট্যাক্সি ও একটি এসইউভি) মধ্যে সংঘর্ষে ২১ জন নিহত হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১
কঙ্গোয় স্কুলে আগুন, শিশুসহ নিহত ২৪
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় বুকাভু শহরের একটি প্রাথমিক স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে পালাতে গিয়ে অন্তত ১৪ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বুকাভু শহরের বাগিরা এলাকার ‘উজামা প্রাথমিক স্কুলে’ ক্লাস চলাকালীন সময়ে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়ে, ক্লাস চলাকালীন হুট করেই আগুনের সূত্রপাত হয়। পুরো স্কুলটি কাঠের তৈরি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ক্লাসরুমে ধোঁয়ায় দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রাণ বাঁচাতে ছাত্র-ছাত্রীরা ভবনের ওপর তলা থেকে নিচে লাফ দিতে শুরু করে। স্কুলটির এক শিক্ষক সাইমন কাসামিরা চিকিৎসারত অবস্থায় জানান, ক্লাস চলার সময় হঠাৎ শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনতে পাই। কেউ ওপরের তলা থেকে নিচে লাফ দিচ্ছিল, আবার কেউ মূল দরজা দিয়ে বাইরে পালানোর চেষ্টা করছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই আশপাশ থেকে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের খোঁজে ছুটে আসেন। দেখতে দেখতে পুরো কাঠের ভবনটি আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের পর পর তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা ও পদদলনের ঘটনা। স্থানীয় নেতা প্যাট্রিস বুদুগে জানান, আগুনের ভয়াবহতায় শিশুরা হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে একে অপরকে মাড়িয়ে যায়। এতে অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় শুধু স্কুলই নয়, আশপাশের পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক হিসাবে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে এবং মোট ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।  পরবর্তীতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ (M23) এক বিবৃতিতে জানাই, এ ঘটনায় ১৯ জন মেয়ে ও ৫ জন ছেলেসহ মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে বর্তমানে ২৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিকটস্থ একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে জানান, আমাদের এখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই চারজন এবং হাসপাতালে আনার পর ১০ জনের মৃত্যু হয়। নিহত ১৪ জন শিশুর সবার বয়সই ১০ বছরের নিচে। এ ছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও ২৭ জনকে শহরের অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কঙ্গোর এই পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুকাভু পাহাড়ঘেরা এবং এখানকার অধিকাংশ ঘরবাড়ি কাঠ দিয়ে তৈরি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে এখানে প্রায়ই মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।  এর আগে গত অক্টোবরেও এক অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু। শহরটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার তীব্র ঘাটতি থাকায় সহজেই এসব আগুন মারাত্মক আকার ধারণ করে। আরটিভি/এসআর
কঙ্গোয় স্কুলে আগুন, শিশুসহ নিহত ২৪
আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলো আলজেরিয়া 
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে একাধিক ‘উসকানিমূলক ও শত্রুতাপূর্ণ’ পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে হঠাৎ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে আলজেরিয়া। 
আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলো আলজেরিয়া 
কেপ ভার্দেতে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৫
আটলান্টিক মহাসাগরে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের কাছে কেপ ভার্দের ফোগো দ্বীপে বাস খাদে পড়ে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন।
কেপ ভার্দেতে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৫