ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

কঙ্গোয় স্কুলে আগুন, শিশুসহ নিহত ২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৭ এএম
ডিআর কঙ্গোতে স্কুলে আগুন। ছবি: এএফপি

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় বুকাভু শহরের একটি প্রাথমিক স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে পালাতে গিয়ে অন্তত ১৪ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বুকাভু শহরের বাগিরা এলাকার ‘উজামা প্রাথমিক স্কুলে’ ক্লাস চলাকালীন সময়ে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়ে, ক্লাস চলাকালীন হুট করেই আগুনের সূত্রপাত হয়। পুরো স্কুলটি কাঠের তৈরি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ক্লাসরুমে ধোঁয়ায় দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রাণ বাঁচাতে ছাত্র-ছাত্রীরা ভবনের ওপর তলা থেকে নিচে লাফ দিতে শুরু করে।

স্কুলটির এক শিক্ষক সাইমন কাসামিরা চিকিৎসারত অবস্থায় জানান, ক্লাস চলার সময় হঠাৎ শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনতে পাই। কেউ ওপরের তলা থেকে নিচে লাফ দিচ্ছিল, আবার কেউ মূল দরজা দিয়ে বাইরে পালানোর চেষ্টা করছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই আশপাশ থেকে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের খোঁজে ছুটে আসেন। দেখতে দেখতে পুরো কাঠের ভবনটি আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডের পর পর তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা ও পদদলনের ঘটনা। স্থানীয় নেতা প্যাট্রিস বুদুগে জানান, আগুনের ভয়াবহতায় শিশুরা হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে একে অপরকে মাড়িয়ে যায়। এতে অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় শুধু স্কুলই নয়, আশপাশের পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক হিসাবে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে এবং মোট ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পরবর্তীতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ (M23) এক বিবৃতিতে জানাই, এ ঘটনায় ১৯ জন মেয়ে ও ৫ জন ছেলেসহ মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে বর্তমানে ২৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নিকটস্থ একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে জানান, আমাদের এখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই চারজন এবং হাসপাতালে আনার পর ১০ জনের মৃত্যু হয়। নিহত ১৪ জন শিশুর সবার বয়সই ১০ বছরের নিচে। এ ছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও ২৭ জনকে শহরের অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কঙ্গোর এই পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুকাভু পাহাড়ঘেরা এবং এখানকার অধিকাংশ ঘরবাড়ি কাঠ দিয়ে তৈরি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে এখানে প্রায়ই মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

এর আগে গত অক্টোবরেও এক অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু। শহরটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার তীব্র ঘাটতি থাকায় সহজেই এসব আগুন মারাত্মক আকার ধারণ করে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জিম্বাবুয়েতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সব আরোহীর মৃত্যু
জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারের কাছে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ছয় আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জিম্বাবুয়েতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সব আরোহীর মৃত্যু
নাইজেরিয়ায় জঙ্গলে একসঙ্গে মিলল ২৮ জনের কঙ্কাল
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় জঙ্গল থেকে অন্তত ২৮ জনের মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নাইজেরিয়ায় জঙ্গলে একসঙ্গে মিলল ২৮ জনের কঙ্কাল
দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক দুই বন্দুক হামলায় নিহত ২৭
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ ও কেপটাউন শহরে পৃথক দুই বন্দুক হামলার ঘটনায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক দুই বন্দুক হামলায় নিহত ২৭
কঙ্গোতে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৪
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
কঙ্গোতে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৪
সেনেগালের উন্নয়নে ২৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প নিয়ে হাজির সাদিও মানে
সেনেগালে ফুটবলের বাইরেও আলোচিত নাম সাদিও মানে। দেশের মানুষের প্রতি নিবেদন তাকে উচ্চ সম্মান প্রদান করেছেন। এবার আরও বড় চমক দেখালেন এই স্ট্রাইকার। সেনেগালের বাম্বালিতে ২৪৬ কোটি টাকার বিশাল কৃষি প্রকল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন এই তারকা ফুটবলার। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে সেনেগালের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিএস । গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, মানের উদ্যোগে ‘এসএম১০ অ্যাগ্রো’ নামে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে ১১৭০ কোটি সিএফএ ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫০ কোটি টাকার সমান। গত ১৯ সেপ্টেম্বর নিজ গ্রাম বাম্বালিতে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেছেন সাদিও মানে। সেখানকার ৫০০ হেক্টর জমিতে গড়ে উঠবে আমের বাগান। লাগানো হবে প্রায় ৭৮ হাজার আমগাছ। এ ছাড়া থাকবে আম বাছাই, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানা, কৃষি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং গবেষণা ও উন্নয়ন সুবিধা। প্রকল্পটি শুরুতে ১ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করবে; দীর্ঘ মেয়াদে এই সংখ্যা আড়াই হাজারে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। নিজের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নিয়ে মানে বলেছেন, আমি চাই আমাদের মাটির সম্পদ আমাদের কাছেই থাকুক। এই সম্পদ থেকে যে আয় হবে, তা সবার আগে আমাদের মানুষের উপকারে আসুক। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্প শুধু সংখ্যার বিষয় নয়। আমি চাই আমাদের অঞ্চলের তরুণ ও নারীরা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাক। এ কারণেই প্রকল্পের সঙ্গে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র রাখা হয়েছে, যাতে আধুনিক কৃষিপদ্ধতি শেখানো যায়। এই প্রকল্প আপনাদের। আমি এটি আপনাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। নিজেদের প্রকল্প মনে করে এটিকে এগিয়ে নিন। আপনারাই এটি পরিচালনা করবেন। এর আগে বাম্বালিতে স্কুল, মসজিদ, হাসপাতাল ও পেট্রোল স্টেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক অবকাঠামোতে টাকা দিয়েছেন সাদিও মানে। এবার তার লক্ষ্য শুধু দান করা নয়, স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনা। আরটিভি/এসআর
সেনেগালের উন্নয়নে ২৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প নিয়ে হাজির সাদিও মানে