
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত শান্তি পরিকল্পনা এবং তাতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের আংশিক সম্মতি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। হোয়াইট হাউস থেকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর এই ২০ দফা পরিকল্পনাটি ঘোষণা করা হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, হামাসের হাতে থাকা সব জিম্মির মুক্তি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পথ খোলা রাখা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই উদ্যোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগেই সম্মতি জানিয়েছিলেন। এরপর গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প হামাসকে প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য কাল রোববার সন্ধ্যা ছয়টা (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। এই হুমকির কয়েক ঘণ্টা পরেই হামাস আংশিকভাবে প্রস্তাব মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা এবং হামাসের ইতিবাচক সাড়াকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।
এবিষয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, তার দেশ হামাসের ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া এবং জীবিত ও মৃত সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার অঙ্গীকারকে স্বাগত জানায়। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের ‘অপরিহার্য নেতৃত্বের’ জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা গাজার ভেতরে ও বাইরে মানবিক সহায়তা টেকসই, অবাধ ও বৃহৎ আকারে বিতরণে সমর্থন দিতে প্রস্তুত।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, হামাসের এই বিবৃতি তাকে ‘উৎসাহিত করেছে’। তিনি সবপক্ষকে গাজা যুদ্ধ অবসানের এ সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার হামাসের সম্মতিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা শান্তির সবচেয়ে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামাসের আংশিক সম্মতি এবং সব জিম্মি মুক্তির প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সাথে গাজায় হামলা বন্ধের জন্য ট্রাম্পের আহ্বানেরও প্রশংসা করেছে দেশটি।
মিসর হামাসের বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে 'শান্তি ও স্থিরতা' প্রতিষ্ঠায় মার্কিন নেতার 'বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির' প্রশংসা করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জিম্মিদের মুক্তির সম্ভাব্য ইঙ্গিতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করে স্থায়ী ও ন্যায়সংগত শান্তি অর্জনের সব প্রচেষ্টার প্রতি জোরদার সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
এদিকে হামাস মার্কিন শান্তি পরিকল্পনা আংশিকভাবে মেনে নিলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নিয়ে আরও আলোচনার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বন্দিবিনিময়ের প্রক্রিয়া মেনে জীবিত ও মৃত সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে রাজি, তবে বন্দিবিনিময়ের জন্য মাঠপর্যায়ের শর্ত মানতে হবে। বর্তমানে গাজায় ৪৮ জন ইসরায়েলি জিম্মি আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত।
গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা ও ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার-সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় নিয়ে হামাস আরও আলোচনা করতে চায়। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় পোষণ করে বলেছেন, এটি নিখুঁত না হলেও বর্তমানে ফিলিস্তিনি জনগণের জীবন বাঁচানোই তাঁদের অগ্রাধিকার।
ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে সরে যাওয়া, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ, গাজা শাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা না থাকা এবং আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করা। পরিকল্পনায় ভবিষ্যতে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের দরজাও খোলা রাখা হয়েছে।
আরটিভি/এআর-টি




