ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

হঠাৎ ইসরায়েলের ওপর চরম ক্ষেপল মুসলিম তিন দেশ, ঘটনা কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২৩ এএম
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি

হঠাৎ ইসরায়েলের বিষয়ে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডান। দ্বিরাষ্ট্র সমাধানকে সামনে রেখে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড পুরোপুরিভাবে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে যুক্ত করে নেওয়ার ভয়ংকর এক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে দখলদাররা। এমন বিষয় সামনে আসতেই মূলত কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ।

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নেসেটে একটি বিল প্রাথমিকভাবে পাস করেছে ইসরায়েল। বিলটি পূর্ণাঙ্গভাবে পাস হলে ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডটি ইসরায়েলের মানচিত্রে সংযুক্ত হবে এবং সেখানে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব কার্যকর হবে। আর এমনটা ঘটলে শান্তিপূর্ণভাবে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যাবে।

নেসেটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জুদিয়া ও সামারিয়া (পশ্চিম তীরের) অঞ্চলে ইসরায়েল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করার জন্য বিলটি প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এখন বিষয়টি আরও আলোচনার জন্য নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে যাবে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে একটি বিলে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেট। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড কার্যত দখল বা সংযুক্তিকরণের সমান এ পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করা হচ্ছে।

১২০ সদস্যের নেসেটে গত মঙ্গলবার ২৫–২৪ ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়। বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার আগে মোট চার ধাপের ভোটাভুটির প্রথম ধাপ এটি।

তবে, ইসরায়েলি পার্লামেন্টে এ বিল পাস হওয়ায় ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও হামাসের পাশাপাশি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডান।

ফিলিস্তিনি ভূমি ইসরায়েলি মানচিত্রে সংযুক্ত করার চেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, জেরুজালেম ও গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড একটি অবিচ্ছিন্ন ভৌগোলিক এলাকা। এর ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, এসব বিল দখলদার ঔপনিবেশিক শক্তির কুৎসিত চেহারা প্রকাশ করেছে। দখলদার ইসরায়েলের পশ্চিম তীরের ভূমি দখলের জোরাল চেষ্টা অবৈধ বলে আমরা ঘোষণা করছি।

সবচেয়ে কড়া ভাষায় এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, এটি ফিলিস্তিনি জনগণের ঐতিহাসিক অধিকারের প্রকাশ্য লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি চ্যালেঞ্জ।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষের পরিচালিত সব ধরনের বসতি সম্প্রসারণ ও দখলদারী তারা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নেসেটের ভোটের ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি দুই রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তি নষ্ট করবে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও ১৯৬৭ সালের ৪ জুনের সীমারেখার ভিত্তিতে জেরুজালেমসহ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারে হস্তক্ষেপ।

এদিকে শুধু মুসলিম দেশগুলোই নয়, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও। নেসেটে সদ্য পাস হওয়া বিলটিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গাজা শান্তি পরিকল্পনার জন্য হুমকি’ বলে বিবেচনা করছে দেশটি।

বুধবার ওয়াশিংটন থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিমানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় করার সময় এক প্রশ্নের উত্তরে রুবিও বলেন, তারা (ইসরায়েল) নেসেটে একটি বিল পাস করেছে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে আমাদের পক্ষ থেকে এই বিলকে কোনো সমর্থন দেওয়া হবে না। কারণ, আমরা এই বিলটিকে গাজায় শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছি।

এছাড়া, বিলটির বিরোধিতা করেছেন খোদ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার দল লিকুদ পার্টির এমপিরা। এ ভোটকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্টের লক্ষ্যে বিরোধী দলের উসকানি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বর্তমানে দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ৭ লাখের বেশি ইসরায়েলি জোরপূর্বক বসতি গড়ে বাস করছে। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গণবিক্ষোভে উত্তাল ইরান, ঘটনা কী
অর্থনৈতিক ধস এবং মুদ্রার রেকর্ড দরপতনে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা ইরানে শুরু হয়েছে বিশাল গণবিক্ষোভ। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির কারাজ, শিরাজ, ইসফাহানসহ প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের নজিরবিহীন পতনে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ টানা তিন দিন ধরে ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। রাজপথে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ও লাঠিপেটা করছে পুলিশ, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। খবর বিবিসির। আরও পড়ুন হরমুজ প্রণালিতে আবারও তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল ইরান বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নেমে এসেছেন। বিভিন্ন শহরে ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু চাই’ স্লোগান শোনা যাচ্ছে, যা সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ির দিকে ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে সরিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী আব্দোনাসের হেম্মাতিকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলার নির্দেশ দিলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখনো প্রশমিত হয়নি।  ইরানের এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যেই ফ্লোরিডায় বৈঠকে বসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, ইরানের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং মানুষ মোটেও খুশি নয়। তিনি স্পষ্ট জানান, ইরান যদি পুনরায় পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করে, তবে তিনি ইসরায়েলের পরবর্তী বিমান হামলায় পূর্ণ সমর্থন দেবেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে ইরানি বিক্ষোভকারীদের ‘সাহসের’ প্রশংসা করে তাদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত শাহজাদা রেজা পাহলভি এই আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে অর্থনৈতিক সংকট কাটবে না, আমাদের জয় সুনিশ্চিত। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কোনো বিদেশি আগ্রাসন হলে তার জবাব ‘কঠোর ও অনুতাপজনক’ হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। সর্বোচ্চ নেতা খামেনেয়ি এই বিক্ষোভকে শত্রুর উসকানি হিসেবে বর্ণনা করলেও সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় এবারের আন্দোলন ভিন্ন রূপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। আরটিভি/এআর 
গণবিক্ষোভে উত্তাল ইরান, ঘটনা কী
সৌদির নেতৃত্বে ইয়েমেনের বন্দরে বিমান হামলা
ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুকাল্লা বন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) চালানো এই হামলায় দক্ষিণপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) জন্য আনা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইয়েমেনের বৃহত্তম প্রদেশ হারদামাউত এসটিসি দখল করে নেওয়ার পর থেকেই ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। খবর আলজাজিরার।  আরও পড়ুন নিজ বাসভবনে হামলার খবর পুতিনই ফোনালাপে জানিয়েছেন: ট্রাম্প সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকারের অভিযোগ, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এই অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, গত শনি ও রোববার কোনো অনুমতি ছাড়াই দুটি জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করে এবং তাদের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রেখে বিপুল অস্ত্র খালাস করে। এরপরই নিরাপত্তা রক্ষায় ‘রেড লাইন’ পার না করার সতর্কবার্তা দিয়ে এই সীমিত বিমান হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার প্রধান রাশেদ আল-আলিমি এক কঠোর বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে তাদের সব সেনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেন থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আশা প্রকাশ করেছে যে, গালফ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক রক্ষায় আমিরাত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। এই হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী ইয়েমেন সংকটে নতুন করে আঞ্চলিক অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। আরটিভি/এআর 
সৌদির নেতৃত্বে ইয়েমেনের বন্দরে বিমান হামলা
গাজায় বৃষ্টি ও হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সীমাহীন দুর্ভোগ
মরণঘাতী বোমাবর্ষণ থেকে কোনোমতে প্রাণ বাঁচালেও এখন প্রকৃতি যেন যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে ফিলিস্তিনের গাজায়। হাড়কাঁপানো শীত আর প্রবল বর্ষণে উপত্যকার লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষের হাহাকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) গাজার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তীব্র নিম্নচাপের ফলে হাজার হাজার তাবু এখন পানির নিচে। এই শীতে এটি তৃতীয় দফার নিম্নচাপ হলেও আগামী সোমবার চতুর্থ দফার আরও শক্তিশালী একটি ঝড় আসার শঙ্কায় প্রহর গুনছে গাজাবাসী। খবর আলজাজিরার। গাজা সিটির বাস্তুচ্যুত মোহাম্মদ মাসলাহ আর্তনাদ করে বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি এখন ইসরায়েলের দখলে, এই পোর্টে আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো তাবু ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে। উত্তরের জাবালিয়া থেকে পালিয়ে আসা চার সন্তানের মা শাইমা ওয়াদি জানান, দুই বছর ধরে তাবুতে থাকতে থাকতে তারা ক্লান্ত। গদি বা শিশুদের গরম কাপড় কেনার মতো একটি কানাকড়িও তাদের কাছে নেই। আরও পড়ুন ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই কোরআনের হাফেজ হলেন ৫০০ ফিলিস্তিনি, পেলেন সংবর্ধনা চলতি ডিসেম্বরেই তীব্র ঠান্ডা আর বৃষ্টির কারণে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি নিষ্পাপ শিশু রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভিজে কাপড়ে খোলা আকাশের নিচে থাকায় হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। মানবিক সংস্থাগুলো হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এখনই পর্যাপ্ত ত্রাণ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করলে এই মৃত্যুমিছিল আরও দীর্ঘ হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ফিল্ড অপারেশন প্রধান ইব্রাহিম আবু আল-রিশ জানান, বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়া তাবুগুলো কোনোমতে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। একদিকে যখন প্রকৃতি রুদ্ররূপ ধারণ করেছে, অন্যদিকে তখন থমকে আছে যুদ্ধবিরতির আলোচনা। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না বললেই চলে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের মতো জটিল শর্তে আটকে আছে দ্বিতীয় ধাপের শান্তি প্রক্রিয়া।  গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় আরও ২৯টি মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ২৬৬ জনে এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।  আরটিভি/এআর 
গাজায় বৃষ্টি ও হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সীমাহীন দুর্ভোগ
ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই কোরআনের হাফেজ হলেন ৫০০ ফিলিস্তিনি, পেলেন সংবর্ধনা
ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলা আর ধ্বংসস্তূপের স্তূপ হয়ে থাকা উত্তর গাজার শাতি শরণার্থী শিবিরে এক অনন্য ও আবেগঘন দৃশ্য দেখা গেল। চলমান যুদ্ধ আর চরম মানবিক বিপর্যয়ের মাঝেও ৫শ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) তাদের সম্মানে আয়োজন করা হয় এক ঐতিহাসিক ইজাজত (সনদ প্রদান) অনুষ্ঠান। প্রিজরেন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।  শাতি ক্যাম্প ইমার্জেন্সি কমিটি এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আয়োজকরা জানান, চারদিকে বোমাবর্ষণ আর তীব্র সংকটের মাঝেও এই শিক্ষার্থীরা যেভাবে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন, তা বিশ্বজুড়ে ধৈর্যের এক নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে কুরআন শিক্ষার এই হার না মানা মানসিকতাকে তারা বীরত্ব হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আরও পড়ুন নামাজরত ফিলিস্তিনির ওপর গাড়ি চালিয়ে দিলেন ইসরায়েলি সেনা সনদ প্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম ইবতিসাম আবু হুওয়াইদি জানান, যুদ্ধের ডামাডোলে কুরআন মুখস্থ করা ছিল পাহাড়সম চ্যালেঞ্জের। কিন্তু চারদিকের মৃত্যু আর ধ্বংসলীলা তাকে দমাতে পারেনি। তিনি বলেন, প্রতিটি কঠিন মূহুর্ত আমাকে শিখিয়েছে যে বিশ্বাসের শক্তি বড় সম্পদ। অন্যদিকে, বয়োবৃদ্ধ ফিলিস্তিনি নারী মুশিরা আবু ওয়াতফা এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিরা চরম বিপদের সময়েও কুরআনের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যায়নি। সংকটের এই দিনে ঈমান এবং ধৈর্যই তাদের টিকে থাকার প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে। আরটিভি/এআর 
ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই কোরআনের হাফেজ হলেন ৫০০ ফিলিস্তিনি, পেলেন সংবর্ধনা
নামাজরত ফিলিস্তিনির ওপর গাড়ি চালিয়ে দিলেন ইসরায়েলি সেনা
অধিকৃত পশ্চিম তীরে নামাজরত এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তির ওপর বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার একটি রোমহর্ষক ভিডিও ফুটেজ বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) এক রিজার্ভ সেনা সিভিল পোশাকে একটি এটিভি চালিয়ে এসে সিজদারত অবস্থায় থাকা ওই ব্যক্তিকে সজোরে ধাক্কা দেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ওই সেনা তাকে চিৎকার করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। আক্রান্ত ফিলিস্তিনি ব্যক্তির বাবা মাজিদি আবু মোখো জানান, তার ছেলের ওপর শুধু গাড়িই চালানো হয়নি, বরং চোখে বিষাক্ত পিপার স্প্রে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকলেও দুই পায়ে প্রচণ্ড চোট পেয়েছেন। এই ঘটনার পর আইডিএফ অভিযুক্ত সেনাকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে পাঁচ দিনের জন্য গৃহবন্দী করেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই সেনা একজন উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধ চৌকি স্থাপন করে গ্রামবাসীদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। আরও পড়ুন জুমার নামাজের সময় মসজিদে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৫ জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালটি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ইতিহাসে সবচেয়ে ‘সহিংস বছর’ হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। সাধারণ নাগরিকদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অভিযুক্ত ওই সেনার বিরুদ্ধে এর আগে গ্রামে গুলিবর্ষণের অভিযোগ থাকলেও আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া সংঘাত এখন তৃতীয় বছরে পা দিতে যাচ্ছে। ইসরায়েলের টানা দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধে গাজায় এ পর্যন্ত প্রায় ৭১ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করলেও পশ্চিম তীর ও গাজায় সাধারণ মানুষের ওপর এই নৃশংসতা থামার কোনো লক্ষণ নেই। বিশ্বনেতারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। আরটিভি/এআর 
নামাজরত ফিলিস্তিনির ওপর গাড়ি চালিয়ে দিলেন ইসরায়েলি সেনা
আরও পড়ুন
বছরের শেষ দিনে দেশের বাজারে সোনার দামে পতন
তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিনিয়োগকারীদের একটা কনফিডেন্স বুস্টার
নামাজরত ফিলিস্তিনির ওপর গাড়ি চালিয়ে দিলেন ইসরায়েলি সেনা
বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিলো ইসরায়েল