ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আসছে নতুন ভিসা, কম খরচেই যাওয়া যাবে সৌদি-আমিরাত-কাতারসহ ৬ দেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২৬ পিএম
ফাইল ছবি

দীর্ঘ পরিকল্পনার পর বহুল প্রতীক্ষিত একক পর্যটন ভিসা চালু করতে যাচ্ছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)। আগামী বছর থেকেই এই ভিসা চালু হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সৌদি আরবের পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খাতিব।

নতুন প্রকল্পটি চালু হলে একটিমাত্র ভিসা ব্যবহার করেই ভ্রমণ করা যাবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ জিসিসিভুক্ত মোট ৬টি দেশ। আর এক্ষেত্রে খরচও পড়বে পৃথক ভিসার চাইতে অনেকটাই কম। খবর গালফ নিউজের।

সৌদি আরবের পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খাতিব বলেছেন, চার বছর ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার পর এই উদ্যোগটি অবশেষে মাইলফলকে পৌঁছেছে। নতুন এই একক ভিসা প্রকল্পকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর মাঝে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতকে সংযুক্ত করার অন্যতম বৃহৎ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় গালফ গেটওয়ে ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে দেওয়া বক্তৃতায় সৌদি পর্যটনমন্ত্রী বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) এখন পর্যটন খাতে এক ঐতিহাসিক সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আঞ্চলিক সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, আধুনিক অবকাঠামো ও নিরাপদ পরিবেশের কারণে এ অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, জিসিসি দেশগুলো পর্যটন খাতে এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের সাক্ষী হচ্ছে; যেখানে বর্তমানে তেল ও বাণিজ্যের পাশাপাশি এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্তম্ভে পরিণত হয়েছে পর্যটন খাত।

নতুন ভিসায় ভ্রমণ করা যাবে যে ৬ দেশ

জিসিসির এই একক ভিসায় প্রবেশের অনুমতিপত্রের দাপ্তরিক নাম হবে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরস ভিসা’। এর মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা একবার আবেদন করেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমান ভ্রমণ করতে পারবেন।

২০২৩ সালের নভেম্বরে ওমানে অনুষ্ঠিত জিসিসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শেনজেন ভিসার আদলে তৈরি যৌথ মডেল হিসেবে জিসিসি একক ভিসার পরিকল্পনা করা হয়।

জিসিসি কর্মকর্তারা বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য পরিকল্পনার একটি মূল অংশ হবে এই ভিসা; যা এমন আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে যারা একাধিক দেশে সহজে ভ্রমণ করতে চান, কিন্তু পুনরায় কাগজপত্র, আলাদা ফি ও ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে পড়তে চান না। প্রাথমিকভাবে এই ভিসা কেবল পর্যটন ও পারিবারিক ভ্রমণের জন্য প্রযোজ্য হবে এবং আবেদন অনলাইনে করা যাবে।

ভ্রমণকারীরা চাইলে একক দেশ বা ছয়টি দেশই বেছে নিতে পারবেন; যার মেয়াদ এক থেকে তিন মাসের মধ্যে হতে পারে। এতে খরচও পৃথক ভিসার তুলনায় কম হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ভিসা চালুর পর আবেদনকারীদের কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদী পাসপোর্ট, আবাসনের তথ্য, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ভ্রমণ বিমা ও আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং ফেরার বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট জমা দিতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়াও সহজ হবে বলে জানিয়েছেন জিসিসি কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, সরকারি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে নথি আপলোড, ফি পরিশোধ এবং ই-মেইলে ডিজিটাল ভিসা গ্রহণ করা যাবে।

আল-খাতিব বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান বিমান যোগাযোগই সদস্য দেশগুলোর মধ্যে চলাচল সহজ করার গুরুত্বকে স্পষ্ট করে তুলছে। তিনি বলেন, গত বছর উপসাগরীয় অঞ্চলের চারটি বৃহৎ এয়ারলাইনস প্রায় ১৫ কোটি যাত্রী পরিবহন করেছে। এর মধ্যে ৭ কোটি যাত্রী উপসাগরীয় দেশগুলোর ভেতরে ভ্রমণ করেছেন। এই ব্যবধানই উপসাগরীয় অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণে এখনো কতটা সম্ভাবনা রয়েছে, সেটিই তুলে ধরছে।

উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, জিসিসি একক ভিসা চালু হলে পর্যটকদের অবস্থানকাল বাড়বে, একাধিক শহরে ভ্রমণ বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যয়ও ছড়িয়ে পড়বে বিভিন্ন দেশে। এই বিষয়ে আগামী কয়েক মাসে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ এবং আগামী বছর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে আবেদন পোর্টাল চালু করা হবে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গণবিক্ষোভে উত্তাল ইরান, ঘটনা কী
অর্থনৈতিক ধস এবং মুদ্রার রেকর্ড দরপতনে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা ইরানে শুরু হয়েছে বিশাল গণবিক্ষোভ। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির কারাজ, শিরাজ, ইসফাহানসহ প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের নজিরবিহীন পতনে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ টানা তিন দিন ধরে ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। রাজপথে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ও লাঠিপেটা করছে পুলিশ, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। খবর বিবিসির। আরও পড়ুন হরমুজ প্রণালিতে আবারও তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল ইরান বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নেমে এসেছেন। বিভিন্ন শহরে ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু চাই’ স্লোগান শোনা যাচ্ছে, যা সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ির দিকে ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে সরিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী আব্দোনাসের হেম্মাতিকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলার নির্দেশ দিলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখনো প্রশমিত হয়নি।  ইরানের এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যেই ফ্লোরিডায় বৈঠকে বসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, ইরানের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং মানুষ মোটেও খুশি নয়। তিনি স্পষ্ট জানান, ইরান যদি পুনরায় পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করে, তবে তিনি ইসরায়েলের পরবর্তী বিমান হামলায় পূর্ণ সমর্থন দেবেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে ইরানি বিক্ষোভকারীদের ‘সাহসের’ প্রশংসা করে তাদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত শাহজাদা রেজা পাহলভি এই আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে অর্থনৈতিক সংকট কাটবে না, আমাদের জয় সুনিশ্চিত। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কোনো বিদেশি আগ্রাসন হলে তার জবাব ‘কঠোর ও অনুতাপজনক’ হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। সর্বোচ্চ নেতা খামেনেয়ি এই বিক্ষোভকে শত্রুর উসকানি হিসেবে বর্ণনা করলেও সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় এবারের আন্দোলন ভিন্ন রূপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। আরটিভি/এআর 
গণবিক্ষোভে উত্তাল ইরান, ঘটনা কী
সৌদির নেতৃত্বে ইয়েমেনের বন্দরে বিমান হামলা
ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুকাল্লা বন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) চালানো এই হামলায় দক্ষিণপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) জন্য আনা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইয়েমেনের বৃহত্তম প্রদেশ হারদামাউত এসটিসি দখল করে নেওয়ার পর থেকেই ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। খবর আলজাজিরার।  আরও পড়ুন নিজ বাসভবনে হামলার খবর পুতিনই ফোনালাপে জানিয়েছেন: ট্রাম্প সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকারের অভিযোগ, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এই অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, গত শনি ও রোববার কোনো অনুমতি ছাড়াই দুটি জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করে এবং তাদের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রেখে বিপুল অস্ত্র খালাস করে। এরপরই নিরাপত্তা রক্ষায় ‘রেড লাইন’ পার না করার সতর্কবার্তা দিয়ে এই সীমিত বিমান হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার প্রধান রাশেদ আল-আলিমি এক কঠোর বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে তাদের সব সেনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেন থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আশা প্রকাশ করেছে যে, গালফ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক রক্ষায় আমিরাত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। এই হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী ইয়েমেন সংকটে নতুন করে আঞ্চলিক অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। আরটিভি/এআর 
সৌদির নেতৃত্বে ইয়েমেনের বন্দরে বিমান হামলা
গাজায় বৃষ্টি ও হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সীমাহীন দুর্ভোগ
মরণঘাতী বোমাবর্ষণ থেকে কোনোমতে প্রাণ বাঁচালেও এখন প্রকৃতি যেন যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে ফিলিস্তিনের গাজায়। হাড়কাঁপানো শীত আর প্রবল বর্ষণে উপত্যকার লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষের হাহাকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) গাজার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তীব্র নিম্নচাপের ফলে হাজার হাজার তাবু এখন পানির নিচে। এই শীতে এটি তৃতীয় দফার নিম্নচাপ হলেও আগামী সোমবার চতুর্থ দফার আরও শক্তিশালী একটি ঝড় আসার শঙ্কায় প্রহর গুনছে গাজাবাসী। খবর আলজাজিরার। গাজা সিটির বাস্তুচ্যুত মোহাম্মদ মাসলাহ আর্তনাদ করে বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি এখন ইসরায়েলের দখলে, এই পোর্টে আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো তাবু ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে। উত্তরের জাবালিয়া থেকে পালিয়ে আসা চার সন্তানের মা শাইমা ওয়াদি জানান, দুই বছর ধরে তাবুতে থাকতে থাকতে তারা ক্লান্ত। গদি বা শিশুদের গরম কাপড় কেনার মতো একটি কানাকড়িও তাদের কাছে নেই। আরও পড়ুন ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই কোরআনের হাফেজ হলেন ৫০০ ফিলিস্তিনি, পেলেন সংবর্ধনা চলতি ডিসেম্বরেই তীব্র ঠান্ডা আর বৃষ্টির কারণে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি নিষ্পাপ শিশু রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভিজে কাপড়ে খোলা আকাশের নিচে থাকায় হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। মানবিক সংস্থাগুলো হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এখনই পর্যাপ্ত ত্রাণ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করলে এই মৃত্যুমিছিল আরও দীর্ঘ হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ফিল্ড অপারেশন প্রধান ইব্রাহিম আবু আল-রিশ জানান, বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়া তাবুগুলো কোনোমতে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। একদিকে যখন প্রকৃতি রুদ্ররূপ ধারণ করেছে, অন্যদিকে তখন থমকে আছে যুদ্ধবিরতির আলোচনা। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না বললেই চলে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের মতো জটিল শর্তে আটকে আছে দ্বিতীয় ধাপের শান্তি প্রক্রিয়া।  গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় আরও ২৯টি মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ২৬৬ জনে এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।  আরটিভি/এআর 
গাজায় বৃষ্টি ও হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সীমাহীন দুর্ভোগ
ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই কোরআনের হাফেজ হলেন ৫০০ ফিলিস্তিনি, পেলেন সংবর্ধনা
ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলা আর ধ্বংসস্তূপের স্তূপ হয়ে থাকা উত্তর গাজার শাতি শরণার্থী শিবিরে এক অনন্য ও আবেগঘন দৃশ্য দেখা গেল। চলমান যুদ্ধ আর চরম মানবিক বিপর্যয়ের মাঝেও ৫শ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) তাদের সম্মানে আয়োজন করা হয় এক ঐতিহাসিক ইজাজত (সনদ প্রদান) অনুষ্ঠান। প্রিজরেন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।  শাতি ক্যাম্প ইমার্জেন্সি কমিটি এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আয়োজকরা জানান, চারদিকে বোমাবর্ষণ আর তীব্র সংকটের মাঝেও এই শিক্ষার্থীরা যেভাবে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন, তা বিশ্বজুড়ে ধৈর্যের এক নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে কুরআন শিক্ষার এই হার না মানা মানসিকতাকে তারা বীরত্ব হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আরও পড়ুন নামাজরত ফিলিস্তিনির ওপর গাড়ি চালিয়ে দিলেন ইসরায়েলি সেনা সনদ প্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম ইবতিসাম আবু হুওয়াইদি জানান, যুদ্ধের ডামাডোলে কুরআন মুখস্থ করা ছিল পাহাড়সম চ্যালেঞ্জের। কিন্তু চারদিকের মৃত্যু আর ধ্বংসলীলা তাকে দমাতে পারেনি। তিনি বলেন, প্রতিটি কঠিন মূহুর্ত আমাকে শিখিয়েছে যে বিশ্বাসের শক্তি বড় সম্পদ। অন্যদিকে, বয়োবৃদ্ধ ফিলিস্তিনি নারী মুশিরা আবু ওয়াতফা এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিরা চরম বিপদের সময়েও কুরআনের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যায়নি। সংকটের এই দিনে ঈমান এবং ধৈর্যই তাদের টিকে থাকার প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে। আরটিভি/এআর 
ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই কোরআনের হাফেজ হলেন ৫০০ ফিলিস্তিনি, পেলেন সংবর্ধনা
নামাজরত ফিলিস্তিনির ওপর গাড়ি চালিয়ে দিলেন ইসরায়েলি সেনা
অধিকৃত পশ্চিম তীরে নামাজরত এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তির ওপর বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার একটি রোমহর্ষক ভিডিও ফুটেজ বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) এক রিজার্ভ সেনা সিভিল পোশাকে একটি এটিভি চালিয়ে এসে সিজদারত অবস্থায় থাকা ওই ব্যক্তিকে সজোরে ধাক্কা দেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ওই সেনা তাকে চিৎকার করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। আক্রান্ত ফিলিস্তিনি ব্যক্তির বাবা মাজিদি আবু মোখো জানান, তার ছেলের ওপর শুধু গাড়িই চালানো হয়নি, বরং চোখে বিষাক্ত পিপার স্প্রে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকলেও দুই পায়ে প্রচণ্ড চোট পেয়েছেন। এই ঘটনার পর আইডিএফ অভিযুক্ত সেনাকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে পাঁচ দিনের জন্য গৃহবন্দী করেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই সেনা একজন উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধ চৌকি স্থাপন করে গ্রামবাসীদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। আরও পড়ুন জুমার নামাজের সময় মসজিদে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৫ জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালটি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ইতিহাসে সবচেয়ে ‘সহিংস বছর’ হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। সাধারণ নাগরিকদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অভিযুক্ত ওই সেনার বিরুদ্ধে এর আগে গ্রামে গুলিবর্ষণের অভিযোগ থাকলেও আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া সংঘাত এখন তৃতীয় বছরে পা দিতে যাচ্ছে। ইসরায়েলের টানা দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধে গাজায় এ পর্যন্ত প্রায় ৭১ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করলেও পশ্চিম তীর ও গাজায় সাধারণ মানুষের ওপর এই নৃশংসতা থামার কোনো লক্ষণ নেই। বিশ্বনেতারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। আরটিভি/এআর 
নামাজরত ফিলিস্তিনির ওপর গাড়ি চালিয়ে দিলেন ইসরায়েলি সেনা
আরও পড়ুন
চীনে ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর
শ্রমিক ভিসা নিয়ে সুখবর দিলো সৌদি আরব ও আমিরাত
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু
আমিরাতে কারাবন্দি ৬ জুলাই যোদ্ধার মুক্তি, দেশে ফিরছেন আজ