
দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে কো-পাইলটের হামলার শিকার হয়েছেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন পাইলট স্মিত মাচ্ছাড়। হামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তিনি জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) এক ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে স্মিত জানান, তার কো-পাইলট প্রথমে তাকে প্রার্থনা করতে বলেন। এর চার থেকে পাঁচ মিনিট পরই পেছন থেকে তার মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়।
স্মিত বলেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, বিমানটি হয়তো বড় ধরনের ঝাঁকুনির শিকার হয়েছে কিংবা কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পরপর আঘাত আসতে থাকায় তিনি বুঝতে পারেন, ককপিটে থাকা তার কো-পাইলটই তাকে আঘাত করছেন।
তিনি বলেন, কো-পাইলট আমাকে প্রার্থনা করতে বলেন। এরপর চার থেকে পাঁচ মিনিট পর মাথার পেছনে প্রচণ্ড জোরে আঘাত করা হয়। প্রথমে ভেবেছিলাম, বিমানে হয়তো বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু এরপর একের পর এক আঘাত আসতেই থাকে। তখন বুঝতে পারি, আমার কো-পাইলট আমার মাথায় আঘাত করছেন।
সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে কো-পাইলটের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তার নাম হামাম আল-হামামি। তিনি ওমানের নাগরিক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানের ককপিটে থাকা একটি কুড়াল দিয়ে স্মিতের মাথায় আঘাত করেন তিনি।
বিমানের জরুরি পরিস্থিতিতে জানালা বা বিমানের কোনো অংশ ভাঙার প্রয়োজনে পাইলটদের কাছে এ ধরনের কুড়াল রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার আগে এসব কুড়াল সাধারণত যাত্রীদের বসার স্থানের কাছাকাছি রাখা হতো। পরে নিরাপত্তাব্যবস্থার পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সেগুলো ককপিটে সরিয়ে নেওয়া হয়।
হামলার পর স্মিত মাচ্ছাড় মাটিতে পড়ে গেলেও ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দরজাটি ভেতর থেকে লক খুলে খোলা সম্ভব হলেও বাইরে থেকে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট কোড প্রয়োজন হয়।
বিমানের অন্য ক্রুরা কোড ব্যবহার করে ককপিটে প্রবেশের চেষ্টা করলেও কো-পাইলট তা বাধাগ্রস্ত করছিলেন। পরে স্মিত নিজের সর্বশক্তি দিয়ে ভেতর থেকে দরজার লক খুলে দেন। এরপর অন্যরা ককপিটে প্রবেশ করে হামলাকারী কো-পাইলটকে নিবৃত করেন।
গত বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি। এতে অধিকাংশ যাত্রী ছিলেন ইসরায়েলি নাগরিক।
সূত্র: সংবাদমাধ্যম সিএনএন
আরটিভি/এসকে



