ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

পশ্চিম তীরে গিয়ে বেদম মারধরের শিকার মার্কিন সাংবাদিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
বেদম মারধরে ওয়াশিংটন পোস্টের ফটোসাংবাদিক লেভিনের শরীরের একাধিক অংশের হাঁড় ভেঙে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে তীরে গিয়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে বেদম মারধরের শিকার হয়েছেন হেইডি লেভিন নামে এক মার্কিন ফটোসাংবাদিক। এই হামলার শিকার হয়েছেন তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ফিলিস্তিনিও।

হামলায় লেভিনের শরীরের একাধিক অংশের হাঁড় ভেঙে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সাংবাদিকের ওপর এমন হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই সহিংসতা বন্ধে ইসরায়েলকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

রোববার (১৮ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রুবিও বলেন, হামলার ঘটনার বিষয়ে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত হননি। তবে যেসব ছবি তিনি দেখেছেন, সেগুলো ‘ভালো কিছু মনে হয়নি’।

ইসরায়েলকে এই সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা নিতে’ আহ্বান জানিয়ে রুবিও বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে কোনো সংঘাত বা সংকট দেখতে চান না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ইসরায়েলের কাছে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রুবিও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের এমন কিছু প্রয়োজন নেই; ইসরায়েলেরও এমন পরিস্থিতির প্রয়োজন নেই।’

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অধিকৃত পশ্চিম তীরে আবু ফালাহ এলাকার কাছে ফিলিস্তিনিদের বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের ফটোসাংবাদিক লেভিন। এ সময় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা তাকে ও কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে নির্মমভাবে মারধর করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ওই এলাকায় ঢুকে লেভিনকে মারধর করে এবং তার পাসপোর্ট, মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও সরঞ্জাম চুরি করে।

লেভিন বলেন, বোতল ও গুলতি নিয়ে আসা হামলাকারীরা আমাকে মাটিতে ফেলে প্রায় ১০ মিনিট ধরে লাথি মারছিলেন। এ সময় আমি নিজের ক্যামেরা ও ব্যাগ আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলাম।

তার ভাষ্যমতে, শরীরে সুরক্ষাবর্ম ও মাথায় হেলমেট না থাকলে হয়তো তিনি আজ বেঁচে থাকতেন না, কারণ হামলাকারীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে তাকে একের পর এক লাথি মেরে যাচ্ছিল।

৬৪ বছর বয়সী লেভিনকে হামলার পর রামাল্লার উত্তর-পূর্বে আবু ফালাহ এলাকা থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মার্কিন বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) তার মেয়ে জানান, লেভিনের একটি আঙুল প্রায় হাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ওই আঙুলে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এ ছাড়া তার একটি পাঁজরের হাড় ভেঙেছে, মেরুদণ্ডের একাধিক কশেরুকা ভেঙেছে এবং শরীরে বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়েছে।

এদিকে রুবিওর পাশাপাশি এই হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার করে কারাগারে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হাকাবি লিখেন, ‘একজন নারী আলোকচিত্রী ওপর আক্রমণ হলো মুখোশধারী কাপুরুষদের দ্বারা সংঘটিত এক জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। নিরস্ত্র সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের বছরের পর বছর কারাগারে থাকা উচিত। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং এ ঘটনায় অংশ নেওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগে বিচারের দাবি জানিয়েছি।’

তবে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার দাবি করেন, লেভিন ও অন্য ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার জন্য ফিলিস্তিনি অথবা ‘চরম বামপন্থি’ কর্মীরা দায়ী হয়ে থাকতে পারেন। হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে তার এমন অবস্থান প্রকাশের পর ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হাকাবিও তার বক্তব্যে সরাসরি তাদের বসতি স্থাপনকারী হিসেবে উল্লেখ করেননি।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সৌদি-হুথি সংঘাত বন্ধে সহযোগিতায় প্রস্তুত ইরান
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে চলমান উত্তেজনা রাজনৈতিকভাবে সমাধানকে ইরান সমর্থন করে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সৌদি-হুথি সংঘাত বন্ধে সহযোগিতায় প্রস্তুত ইরান
পরিবারসহ ওমরাহ করতে গিয়ে রিয়াদে হুতিদের হামলায় নিহত ইউসুফ
মদিনাগামী ফ্লাইটের জন্য পরিবারের অন্য সদস্যরা অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় জুস কিনতে বড় ছেলেকে নিয়ে বাইরে গিয়েছিলেন ভারতের হায়দরাবাদের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউসুফ আলি।
পরিবারসহ ওমরাহ করতে গিয়ে রিয়াদে হুতিদের হামলায় নিহত ইউসুফ
প্রথম ভাসমান গ্যাস উত্তোলন প্ল্যাটফর্ম চালু করল তুরস্ক
কৃষ্ণসাগরে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন দ্বিগুণ করে ২০২৭ সালে দৈনিক ২ কোটি ঘনমিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে তুরস্ক।
প্রথম ভাসমান গ্যাস উত্তোলন প্ল্যাটফর্ম চালু করল তুরস্ক
হুতিদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে জাতিসংঘের আহ্বান, সমর্থন সৌদি আরবের
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অস্ত্র সংগ্রহ ঠেকাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
হুতিদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে জাতিসংঘের আহ্বান, সমর্থন সৌদি আরবের
সিরিয়ায় আসাদ আমলের আধাসামরিক বাহিনীর নেতা কায়ালি গ্রেপ্তার 
সিরিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থক এবং আধাসামরিক বাহিনীর নেতা আলী কায়ালিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। প্রায় ২৫০ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যার ঘটনায় কায়ালি প্রধান সন্দেহভাজন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানায়, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আলী কায়ালিকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি মিহরাজ উরাল নামেও পরিচিত। ২০১৩ সালে বানিয়াসে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় তিনি প্রধান সন্দেহভাজন। সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’ তবে তিনি কোন দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের মে মাসে সিরিয়ার উপকূলীয় তারতুস প্রদেশের সুন্নি মুসলিম-অধ্যুষিত বায়দা ও বানিয়াস শহরে সরকারি বাহিনী এবং তাদের মিত্ররা ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায়। এতে অন্তত ২৪৮ জন নিহত হন। তাদের অনেককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সে সময় সংস্থাটি হত্যাকাণ্ডগুলোকে সিরিয়ার ক্রমেই রক্তক্ষয়ী হয়ে ওঠা সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছিল। কায়ালির গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় সিরিয়ার বিচারমন্ত্রী মাজহার আলওয়াইস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘এই গ্রেপ্তার একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—সিরিয়ায় অপরাধীদের দায়মুক্তির কোনো সুযোগ নেই। যত সময়ই পেরিয়ে যাক, ভুক্তভোগীদের অধিকার হারিয়ে যাবে না।’ ২০১১ সালে সিরিয়ায় গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। সরকার কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমন করলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। এতে আধাসামরিক বাহিনী, জিহাদিবাদী গোষ্ঠী এবং বিদেশি শক্তিগুলো জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাসের দেশ সিরিয়ায় যুদ্ধ ক্রমে সাম্প্রদায়িক রূপ নেয়। বানিয়াস ও বায়দায় হত্যাকাণ্ডকে প্রায়ই সংঘাতের এই সাম্প্রদায়িক মোড় নেওয়ার শুরুর দিকের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৪ সালে ইসলামপন্থী একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে দ্রুত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আসাদ সরকারের পতন ঘটে। পরে ওই গোষ্ঠীই দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করে। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের হিসাব অনুযায়ী, বায়দা ও বানিয়াসে নিহত মানুষের মোট সংখ্যা প্রায় ৪০০। কায়ালি তুরস্কের নাগরিক। ১৯৮২ সালে নিজ দেশে কারাগার থেকে পালিয়ে তিনি সিরিয়ায় চলে যান। পরে সেখানে আসাদ সরকারের মিত্র একটি আধাসামরিক বাহিনী গঠন করেন। সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কয়েক ডজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিচার শুরু হয়েছে গত এপ্রিল মাসে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা আহমেদ জেইদান কায়ালির গ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি কায়ালিকে একজন অপরাধী হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, সিরিয়ার যুদ্ধের সময় বায়দা ও বানিয়াসের হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন গণহত্যায় তিনি জড়িত ছিলেন। জেইদান আরও বলেন, ‘প্রত্যেক খুনি অপরাধীকে খুঁজে বের করা হবে।’ আরটিভি/এসকে
সিরিয়ায় আসাদ আমলের আধাসামরিক বাহিনীর নেতা কায়ালি গ্রেপ্তার 
আরও পড়ুন
পশ্চিম তীরে মসজিদে আগুন দিল অবৈধ বাসিন্দারা