
দীর্ঘ একযুগ অপেক্ষার পর যমজ সন্তানের মা হয়েছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারওয়া আহমেদ আল আমিন বখিত। কিন্তু সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান ৩৬ বছর বয়সী এই নারী।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর আজমানের একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মারওয়ার যমজ ছেলে ফাহদ ও ফাহেদের জন্ম হয়। প্রথম সন্তানকে কোলে নেওয়ার সুযোগ পেলেও দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় জটিলতা দেখা দেয়। পরে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যাসহ গুরুতর শারীরিক জটিলতায় তার মৃত্যু হয়।
মারওয়ার স্বামী ওসমান আহমেদ মোহাম্মদ আল মাক্কি জানান, সন্তান জন্মের আগে স্ত্রীকে সুস্থ মনে হয়েছিল। হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে হারাতে হয়।
মাকে হারানো দুই নবজাতকের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা, তখন পাশে দাঁড়িয়েছে দুবাই পুলিশ। মৃত মারওয়ার স্বামী ও ছোট বোনকে চাকরির প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।
জন্মের পর দুই শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের খালা। আবুধাবিতে নিজের পাঁচ সন্তানের সঙ্গে এখন এই দুই নবজাতককেও লালনপালন করছেন তিনি। আজমানে থাকা বাবা কয়েক দিন পরপর সন্তানদের দেখতে যান।
মারওয়ার পরিবার ও দুবাই পুলিশের সম্পর্ক প্রায় পাঁচ দশকের। ১৯৭৯ সালে তার বাবা পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে বাবার মৃত্যুর পর পরিবারকে সহায়তা করতে ১৯৯৩ সালে তার মাকেও চাকরি দেয় পুলিশ। পরে ক্যানসারে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়।
২০১৬ সালে মায়ের মৃত্যুর পর মারওয়া নিজেই দুবাই পুলিশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগ দেন এবং পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীতে পরিণত হন। এবার স্বামী ও ছোট বোনকে চাকরির প্রস্তাব দিয়ে পরিবারটির আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে দুবাই পুলিশ।
সংস্থাটির সদস্যরা হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা, দাফন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কাজেও সহায়তা করেছেন। মারওয়ার স্বামীর ভাষ্য, শোকের এই সময়ে দুবাই পুলিশের সহায়তা তাদের জন্য বড় ভরসা হয়ে উঠেছে।
আরটিভি/এসআর


